girlfriend-bangla bbc news

একাধিক প্রেমিক ভয়াবহ পরিণতি

শিক্ষা
Spread the love

ছেলে মেয়েরা কিশাের বয়সে নিজেকে অনেক দিক দিয়ে যােগ্য বলে পরিচয় করতে চায়। অনেক সময় এ কাজটি করতে যেয়ে ভুল পথে পা বাড়ায়। আবার অনেক কিশাের-কিশােরী অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে। এর মাঝে আবার অনেক কিশাের-কিশােরী নিজের ক্যাডিট দেখাতে যেয়ে একজন একাধিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। তার কারণে যখন পরিণতি আসে। একাধিক পর্যায়ে। তখন বুঝা যায় প্রেম কত মজা। কথায় আছে এক প্রেমের এক জ্বালা, বহু প্রেমের বহু জ্বালা। এরকম এক প্রেমিকের একাধিক প্রেমিকার ভয়াবহ পরিণতির একটি ঘটনা দৈনিক পত্রিকা থেকে তুলে ধরছি। বরিশাল নগরীর টাউন মমতাজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সােনিয়া আক্তার।

এ নগরীর বাজার রােডের হক মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্মচারী রাশেদ ও শাহিন। কর্মচারী রাশেদের সাথে সােনিয়া আক্তারের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ প্রেম ভালােবাসা চলতে থাকে অনেক দিন, প্রায় তিন বৎসর । এরপর সােনিয়া এস. এস. সি পরীক্ষা সামনে চলে আসে। পরীক্ষা একদম নিকটে আসলেই কি হবে! সােনিয়ার পড়ার মাঝে মন নেই। আছে শুধু প্রেমের মাঝে । চিন্তা করে কিভাবে প্রেমিক বাড়ানাে যায়। বেশি ছেলেদের সাথে সম্পর্ক করা যায়। সােনিয়া এক প্রেমিকে সিমাদ্ধ নেই। তার পিছনে বেশি ছেলেদেকে ঘুড়াতে পারলে নিজেকে আরাে ক্যাড্রিট মনে হয় । সােনিয়া হক মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের আরেক কর্মচারী রাশেদের বন্ধু শাহিনের সাথেও প্রেম সম্পর্ক গড়ে তুলে রাশেদের অগােচরে। সােনিয়া একজন আরেকজনের আড়ালে প্রেম সম্পর্ক বজায় রাখে। সে নানাভাবে বিভিন্ন। সময় শাহিন ও রাশেদের কাছ থেকে টাকা, ফ্লেক্সী লােড ও উপহার সামগ্রী নিয়ে থাকে ।

এভাবেই চলতে থাকে তাদের প্রেম বিনােদন। এরই মধ্যে সােনিয়া এস. এস. সি ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। পরীক্ষার ফলাফল যখন প্রকাশ হয় তখন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। সে নিজেও জানে এ অকৃতকার্যের কারণ। এক সাথে একাধিক ছেলের সাথে প্রেম ভালবাসার সম্পর্ক ঠিক রাখা। পড়াতে মনােযােগ থাকা সম্ভব নয়। এরকম অনেক মেয়ে-৫ আছে বিভিন্ন সুযােগ সুবিধার লােভে চরিত্র ধ্বংস করে থাকে। বিশেষ ক মেয়েরা অর্থে লােভে একাধিক ছেলেদের সাথে সম্পর্ক করে, বিভিন্ন অঞ্জ সামগ্রী গ্রহণ করে ও প্রতারণা করে। এসব করে করে যে নিজেদের জীবন ধ্বংস করে যাচ্ছে এর দিকে কোনাে খবর থাকে না। সােনিয়া আবারও এস.এস.সি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে দুই বন্ধ রাশেদ ও শাহিন জেনে যায় সােনিয়ার প্রতারণার কথা।

সে যে তাদের দু’জনের সাথেই আড়ালে প্রেম করে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে টাকা, ফ্লেক্সিী লােড ও উপহার সামগ্রী নিচ্ছে । এ খবর শােনে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সােনিয়ার প্রতি। তারা দুইজনে মিলে এখন সােনিয়র খবর নিতে লাগল, তারা খবর নিয়ে দেখল সােনিয়া তাদের থেকে টাকা ফ্লেক্সী লােড নিয়ে আরাে অন্য ছেলেদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এরকম খবর পেয়ে রাশেদ ও শাহিন আরাে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তাদেরকে পাপের আগুন দাউ দাউ করে জ্বালাতে থাকে । ছি! সােনিয়া ছি! তারা দু’বন্ধু বলাবলি করলাে আমাদের এত টাকা পয়সা কষ্ট ভালবাসা সব বৃথা গেলাে? না তা হতে পারে না! যেভাবেই হােক এর প্রতিশােধ নিতে হবে। আর কোনাে দিন যেন কোনাে ছেলেকে এরকম ধােকা দিতে না পারে ।

তারপর দু’বন্ধু একে অপরের সাথে মত মিলিয়ে সিন্ধান্ত নিল কিভাবে এ প্রতরণার উচিত শিক্ষা দেয়া যায় । কিন্তু এ ব্যাপারে সােনিয়াকে বুঝতে দেয়া হয়নি। একদিন রাত ৯ টার দিকে রাশেদের ফোনে সােনিয়ার মােবাইল বেজে উঠল । সােনিয়া মােবাইল রিসিভ করে জানতে পারলাে তার প্রেমিক তার সাক্ষাত চায়, এ মুহূর্তে ভালবাসার মিলন চায়। কিভাবে এখন বাসা থেকে বের হবে? তাই মাকে বললাে- পাশের বাড়ি ফুফুর বাসাতে যাবে। সাথে ছােট বােন সুমাইয়াকে নিয়ে চললাে। মাও তাকে এত রাতে ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দিল । কেন যাবে জানতে চাইনি মা। একজন আদর্শ মা রাতে ৯ টায় তরুণী মেয়েকে ঘর থেকে বের হতে দিতে পারে না। আবার মুসলমান! আখেরাতের ভয় নেই? কিভাবে আদর্শ পিতা তাদের কিশাের ছেলে-মেয়েকে রাতে বাসা থেকে বের হতে দেয় এবং কোথায় যাচ্ছে এর খবরই বা রাখছে না কেন?

সােনিয়া একটু দূরে গিয়ে সুমাইয়াকে বাসায় ফেরত পাঠিয়ে দেয়। আমি কাট পরে চলে আসবাে বলে। আর সােনিয়া চলে যায় রাশেদের কাছে। নিয়ার বাসার সবাই জানে রাশেদের সাথে তার প্রেমের কাহিনী । কিন্তু নয়া রাত ১০ টায় সােনিয়া বাসায় ফিরে আসছে না দেখে সােনিয়ার ভাট বােন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী স্মৃতি আক্তার রাশেদকে ফোন দেয়। ওই সময় রাশেদ জানায়, সােনিয়া ভালাে আছে কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফিরে

আসবে।

৩ বােন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে সােনিয়া সবার বড়। রাশেদের সঙ্গে সােনিয়ার প্রেমের সম্পর্কটি তাদের উভয় পরিবার মেনে নিয়ে রমজানের ঈদে তাদের বিয়ের কথার্বাতা চলছিল। তাই দ্বিতীয় বােন স্মৃতি বিষয়টি বেশি একটা ভাবেনি। কিন্তু ১১টায়ও না ফিরলে আবার সে তাকে ফোন দেয় । রাশেদ তার ফোন ধরেনি। আবারাে ফোন দেয় এরপর ফোন বন্ধ পাওয়া যায় । তাকে খোঁজা খোজি শুরু হলাে, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন সকাল বেলায় সােনিয়াদের বাসা থেকে একশত গজ দূরে ড্রেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সােনিয়ার পরিবারের তথ্য অনুযায়ী দুই প্রেমিক রাশেদ ও শাহিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাঠক! এবার শােনুন অভিশপ্ত প্রেমের করুণ কাহিনী । লােমহর্ষক ঘটনার বণর্না দিল তারা দুই প্রেমিক। তারা পুলিশের কাছে সংকোচহীনভাবে বলতে লাগলাে। প্রথমেই বললাে- আমাদের দুজনকে দু’ভাবে ভালােবেসে আমাদের থেকে অনেক কিছু ভােগ করে। সােনিয়া আমাদের দু’জনের সঙ্গে ছাড়াও আরাে অনেকের সঙ্গে মােবাইল ফোনে প্রেম করত । সে সবার সঙ্গে প্রতারণা করায় প্রতিশােধ হিসেবে আমরা দু’বন্ধু তাকে হত্যার পরিকল্পনা করি । প্রতিশােধ নিতে আমরা গত বুধবার রাত ৯ টায় মােবাইল ফোনে কল করে সােনিয়াকে ডেকে নিয়ে যাই।

আমাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধু শাহিনের বাসায় উঠি । প্রথমে সে দু’বন্ধুকে একসাথে দেখে কিছুটা সংকোচে পড়ে, কিন্তু পরে স্বাভাবিক হয়ে যায় ।। আমরা দু’বন্ধু মিলে তাকে ধর্ষণ করি । আমাদের দেশে একটি নারীকে যদি কোনাে পুরুষ জোড় পূর্বক যৌন কাজে শপ্ত হয়, তাকে ধর্ষণ বলে । তার বিরােদ্ধে বিচার-আচার হয় বা নিন্দা জানানাে হয়। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে এরকম যিনাতে লিপ্ত হলে তার। বিচার নেই বা নিন্দা জানানাের জন্যও কেউ নেই। বরং উল্টো বলা হয় এরা একে অপরকে ভালােবাসে।

যেন প্রেমিক-প্রেমিকা এরকম। পারে। যেন তাতে দোষের কোনাে কিছু নেই। আর আল্লাহ তায়ালা প কালামে এরশাদ করেন-“আর ব্যাভিচারের কাছেও যেয়াে না। নিশ্চয় = অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।” যে জায়গায় আল্লাহ তায়ালা এর ধারে কত যেতে নিষেধ করেছেন সে জায়গায় এর মাঝে লিপ্ত হয়ে যাওয়া কত স অপরাধ! আল্লাহ তায়ালা তাে কঠিন শাস্তির মাঝে ফেলবেনই। কে জানে? তাদের দু’বন্ধু ও সােনিয়ার মিলনটা কী স্বাভাবিক সমঝতাম মাঝে ছিল, না জোর পূর্বক ধর্ষণ ছিল? তবে এ কাজটি পশুতের কাকা হয়েছে। তাদের হায়াওয়ানী এখানেই শেষ নয়। উভয়ের ভিতরে পশুত আরাে হিংস্র জানােয়ার হয়ে উঠে, দু’বন্ধু বলে আমাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধর্ষণ শেষে রাত ২ টায় সােনিয়ার মুখে বালিশ চেপে ধরি মেরে ফেলার জন্য।

পরে আরাে কঠিনভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ফেলি । তার জীবনের প্রতারণার সঙ্গ শেষ করে দেই। এরপর রাত সাড়ে তিনটায় লাশ গুম করার জন্য বাসার গলির সড়ক সংলগ্ন ড্রেনে ফেলে দেই। এ প্রতারণী ডাইনীর লাশ ড্রেনে রেখে দিয়ে আমরা যার যার বাসায়। স্বাভাবিকভাবেই ফিরে যাই এবং অবস্থান করি। হৃদয়ের আহ্বান : এ অবৈধ প্রেম এক বা একাধিক যাইহােক, শেষ একটা পরিণতি আছেই । এসব পরিণতি থেকে রেহাই পেতে কঠিন কোনাে কমপুঁচি আমাদের থাকা দরকার। সরকারি বা বেসরকারি কোনাে পক্ষ থেকেই এ সকল অপকর্ম বন্ধ করার কোনাে উল্লেখযােগ্য কর্মসচি নেয়া হয়।

। উপরন্ত মহাসমারােহে থার্টি ফাস্ট নাইট, পহেলা বৈশাখ, ভ্যালেন্টাইন্স ডেসহ বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উদার হস্তে এগিয়ে আসে এক দল লােক। কদিন পর পরেই একেক পাশ্চাত্যের দিক্ষী। অনুযায়ী আয়ােজন করা হয় বিভিন্ন কনর্সাট, স্টেজ পারফরম্যান্স আর ডিসকো অনুষ্ঠান। যেখানে এক সঙ্গে তরুণ-তরুণীদের পাগলের মত নেচে-কুদে বিকৃত আনন্দ উপভােগ করার সুযােগ করে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *