কলেজ ছাত্রীর পরিবর্তন (পর্ব-৩)

বিনোদন
Spread the love

তিনি বলেছেন “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।” অন্যত্র এর করেছেন- “মাতার অবাধ্যতা ও অধিকার হরণ আল্লাহ তােমার জন্য হারায় করে দিয়েছেন।” নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অবদান রেখেছেন তা অনস্বীকার্য। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের প্রকৃত অধিকার দান করেছেন । ইসলাম পূর্ব অবস্থায় তাে নারীকে পশুর ন্যায় মনে করা হতাে। কন্যা সন্তান জন্ম হলে সমাজে নিজেকে খুব নীচ মনে করা হতাে। নারীদের ভােগের বস্তু ছাড়া অন্য কিছু ভাবা হতাে।

। নারীদের ঋতুস্রাব হলে ঘরে জায়গা দেয়া হতাে না। বর্তমানে ইউরােপ আমেরিকায় ঋতুস্রাবকৃত নারীদের দূর দূর করে দূরে সরিয়ে দেয়। নারীর সমঅধিকারের দেশে স্বামীর বন্ধু বান্ধবদের সাথে বেহায়াপনায় মত্ত হতে হয়। নিজের স্ত্রীকে বন্ধু বান্ধবরা ভােগ করলে তারা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এ হলাে পশ্চিমাদের সমঅধিকার। তাদের সমঅধিকার হলাে- বিবাহ প্রথা ভেঙ্গে দাও। কুকুরের মত নারীর সাথে রাস্তায় মিলিতাে হােক। যাকে খুশি তাকে গ্রহণ কর, পূর্বের ব্যক্তিকে ছুড়ে ফেল। পশ্চিমারা চাচ্ছে আমাদের মুসলিম সমাজে তার প্রচলন ঘটুক। সন্তান বাবার পরিচয়ে বড় হওয়ার পরিবর্তে মায়ের পরিচয়ে বড় হবে। পক্ষান্তরে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে অধিকার দিতে গিয়ে বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছেন, মনে রেখাে যেমনিভাবে তােমাদের স্ত্রীদের প্রতি তােমাদের হক আছে, ঠিক তেমনিভাবে তােমাদের স্ত্রীদেরও তােমাদের উপর হক আছে। লায়লা আর ভাবতে পারে না । টপটপ করে চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। লায়লা দেখতে পাচ্ছে যে নারীকে ইসলাম যে সুন্দরভাবে সামাজিক মর্যাদা। . দান করেছে তা অতুলনীয়। প্রকৃত মায়ের মর্যাদা নারীকে ইসলাম দিয়েছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কন্যা সন্তানের পিতা ছিলেন। তিনি বলেছেন, যে ফাতেমাকে কষ্ট দেবে সে যেন আমাণে কষ্ট দিলাে । নারীর সম্মানের জন্য, স্নেহের জন্য, নিরাপত্তার জন্য, আম কিসের প্রয়ােজন? এখনের প্রায় সব বাবা তার ছেলেকে যতটুকু নজরে মায়ার নজরে দেখে, তার ছিটে ফুটাও কন্যার জন্য থাকে না। এ সলাে যেন প্রাণহীন মুসলমানের সমাজ। আজ মুসলমান রাষ্ট্রে নিজ জাতি ভাইয়ের কাছে তার বােন নির্যাতিত। লায়লা ভাবতে থাকে রিতা কলেজে আসলে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে যে, ইসলাম তােকে সব অধিকার দিয়েছে। তুই ইসলামে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে যে সব প্রবন্ধ নিবন্ধ আছে সেসব পড়। দেখবি তাের সব জবাব পেয়ে যাবি। তুই সাজ-গােজ পছন্দ করিস, ইসলাম তােকে সাজতে নিষেধ করেনি। তবে তার কিছু বিধি নিষেধ আছে। যেমন-বিধর্মীদের চিন্তা চেতনা হলাে, তােমাকে তুমি যত পারাে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় করে তুল। এ জন্য তাদের কোনাে পর্দা নেই। তারা ইচ্ছে মতাে সেজে ঘরের বাইরে অন্যের চোখে নিজেকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করছে। এতে সে মনে করছে তার জীবন স্বার্থক। কিন্তু ইসলাম এভাবে সাজতে বলেনি। বলেছে তুমি একজনের হালাল স্ত্রী হবে। তার কাছে যত পারাে তােমাকে আকর্ষণীয় করে তােল। এতে করে তােমাদের দাম্পত্য জীবন আরাে সুখময় হবে। রিতা ৩/৪ দিন পর বােরকা পরে কলেজে আসে। একেবারে সাধারণ মানের একটি বােরকা। তা সবার কাছে সাধারণ মনে হলেও লায়লার কাছে অসাধারণ মনে হচ্ছে। কারণ, লায়লা চাচ্ছে রিতা সুন্দরী তা সবার কাছে প্রচার করতে হবে না। তার সৌন্দৰ্য্য কি রাস্তার মানবরূপী হায়েনাদের জন্য? কোনাে নারী কি চায় সে অন্যের কামনার বস্তু হােক। সে রাস্তার বখাটেদের মনােরঞ্জনের বস্তু হােক। নিশ্চয় না, তাহলে কেন সে রাস্তার বখাটেদের তার রূপ দেখিয়ে খেপিয়ে তুলবে। এতাে রীতিমতাে তার অন্যায়। এ খেপিয়ে তুলার ব্যাপারে বখাটে ছেলে যতটুকু দায়ী তার চেয়ে বেশী দায়ী সে, যে নিজেকে বখাটের কাছে সুন্দরী হিসেবে জাহির করছে ।।

লায়লা তার বান্ধবীকে তার মনের সব কথা বলে দিলাে। ইসলামের সুন্দর দিকসমূহ তার কাছে তুলে ধরলাে এবং বেশি বেশি ইসলামকে রিচার্স করার তাগিদ দিলাে । লায়লা রিতাকে বলার পাশাপাশি এসব তার প্রিয়। শিক্ষকদের কাছেও উপস্থাপন করলাে। স্যাররা খুব খুশি হলাে এবং অন্যান্য ছাত্রীদের এভাবে পর্দা করে আসার ব্যাপারে তাকিদ দিলাে। ছাত্রীদের পর্দা করার পাশাপাশি স্যাররা ছাত্রদেরকেও বললাে- তারা তােমাদের বােন । তাদের কিছু বলার আগে নিজের বােনের ছবিটি নিয়ে একটুখানি ভেবে দেখবে যে, যাকে তুমি তিরস্কার করছ সে যদি তােমার বােন হতাে? আর তােমার জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি তােমার বােনকে এমনিভাবে অপমানিত করত, তুমি দেখতে পেতে তুমি ঐ ছেলেকে কি করতে? ছাত্ররা সমস্বরে বলে উঠলাে, স্যার খুন করতে কুণ্ঠাবােধ করতাম না । রাস্তা-ঘাটে কেউ কোনাে দিন কাউকে ডিস্টার্ব করবে না। কাউকে করতে দেখলে সবে মিলে প্রতিহত করবে। প্রয়ােজনে আমাদের সাথে পরামর্শ করবে। এ দিকে রিতার এ অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে রায়হানের। ভাবান্তর সৃষ্টি হয়। জামিল তাকে সুযােগে একদিন নামাযের দাওয়াত দেয়। জামিল তাকে ইমাম সাহেবের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । ইমাম সাহেব তাকে নামাযের সময় ছাড়াও যে কোনাে সময় আসার আহ্বান করে। ইমাম সাহেবের কথামতাে তার যে সময় ভালাে লাগতাে সে সময় সে চলে আসতাে। ইমাম সাহেব তাকে আন্তরিকতার সাথে ইসলামের রূপরেখা। বুঝিয়ে দেন । এমন সারগর্ভ আলােচনা শুনে সেও খুব খুশি হয় । ইমাম সাহেবের আলােচনায় তার অন্ধকার হৃদয় আলােকিত হয়ে যায়। যেন আঁধার কেটে আলাের রেখা ফুটে উঠেছে। অতীতের কথা ভেবে সে নিজে নিজের কাছে লজ্জা পায়। সে এতাে জগণ্য ছিলাে যে, এক নির্দোষ মেয়েকে রাস্তায় একা পেয়ে যা তা বলতাে। আর ভাবতে পারে না। বন্ধু জামিলকে বলে, তুই আমাকে রিতাদের বাড়ি নিয়ে যা । আমি রিতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবাে। একদিন সকাল বেলা জামিল, সাইফুল মিলে রায়হানকে নিয়ে রিতাদের বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় । রায়হানের অভাবনীয় পরিবর্তনে খুব খুশি হয়। রিতা তাদের আপ্যায়ন করে বিদায় দিয়ে লায়লাদের বাড়ির দিকে ছুটে যায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *