college girl

কলেজ ছাত্রীর পরিবর্তন (পর্ব-১)

বিনোদন
Spread the love

আজ অনেকের ঘরে মিষ্টি বিতরণ হচ্ছে। যে যেভাবে পারছে সে সেভ আনন্দ করছে। পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যায় অনেক মেধাবী ) ভালাে রেজাল্ট নিয়ে পাশ করেছে । কিন্তু এ আনন্দময় মুহূর্তেও এক কে= মিষ্টি বিতরণ করে তার প্রতিবেশিদের নিয়ে আনন্দ করতে পারে না। তাই তারা দমে থাকে না পান-সােপারি বিতরণ করে তাদের আনন্দে প্রতিবেশিদের শরিক করে । লায়লা মানবিক বিভাগ থেকে জি.পি.এ ৫ পেয়েছে । খুশিতে আজ মন ধরেনা। পাড়া-প্রতিবেশির মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছে। অনেকে খুশিতে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে- মা! অনেক বড় হও, আর অনেকে কান্না ধরে রাখতে পারেনি। কারণ, লায়লার সাথে তাদের ছেলে-মেয়েও পরীক্ষা দিয়েছে। তারা কৃতকার্য হতে পারেনি। তাই লায়লার সাফল্যে তারা কান্না সংবরণ করতে পারেনি। সবার সাথে কথাবার্তা বলে রাতে লায়লা ঘুমাতে গিয়েছে। দক্ষিণ দিকের জানালা খুলে আকাশের দিকে তাকায়। আজ পূর্ণিমার রাত নয়। তবুও গভীর রাতে হাসি মুখে চাঁদ উঠে প্রকৃতিকে আলােকিত করেছে, চাদের পাশে অসংখ্য তারা মিটিমিটি আলাে জ্বেলে তাকে সংঘ দিয়ে যাচ্ছে। জানালার পাশে ফুলের বাগান, বাগানের ভেতর থেকে ঝিঝি পােকার আওয়াজ আসছে । রাতের হাসনা হেনা ফুল ফুটছে। ফুলের গন্ধে ঝি ঝি পােকার একটানা আওয়াজে এক মায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সে হাজ্বল চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে, আর প্রাণ ভরে ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছে। সব মিলিয়ে যেন এক মায়াময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। মনের অজান্তে হাত বের করে ফুলের গায়ে পরম মমতায় হাত বুলাচ্ছে। তাদের কোনাে প্রতিক্রিয়া নেই। যেন পরিচর্যাকারীর ছোঁয়া পেয়ে তারা ধন্য হয়েছে । তাই যেন দক্ষিণা মৃদু বাতাসে দুল খেয়ে তারা দুলতে লাগলাে । ঝির ঝির বাতাসে ফুলগাছের দুল খাওয়া যেন তার মনেও দুলা দেয় । আস্তে আস্তে চোখের পাতায় ঘুম নেমে আসে। সামনের দিকে যেন ঘােলাটে দেখা যায়, তাই প্রকৃতির সাথে খেলা করা থেকে বিরত হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। দূরের কোনাে মসজিদের মুয়াজ্জিনের সুমধুর আযানের ধ্বনিতে লায়লার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আজ রাত সে তৃপ্তিসহকারে ঘুমাতে পেরেছে। তাড়াতাড়ি উঠে ওযু করে নামায আদায় করে মায়ের সাথে রান্নায় এগিয়ে যায়। রান্নার সাথে সাথে সে স্বপ্ন দেখতে থাকে। সে অনেক দূর এগিয়ে। যাবে। স্বপ্ন বােনার ধ্যান শেষ হয় না। মাঝে মা এসে যেন তার সে স্বপ্ন জাল ছিড়ে দেয়। একবার তার মা তাকে আনমনা হয়ে বসে আছে দেখে, জিজ্ঞেস করে কিরে মা! কি ভাবছিস এমন গভীরভাবে? মা! তেমন কিছু না। ভাবছি কোথায় ভর্তি হব । আমাদের উপজেলা শহরে নাকি দূরে কোথাও ভর্তি হই তাই ভাবছি। নিজে নিজে ভেবে কিছুই হবে না, তাের স্যারদের সাথে আলােচনা করে সিদ্ধান্ত নিবি। ঠিক বলেছ মা তুমি । আজ স্যারদের জিজ্ঞেস করে নেব কোথায় ভর্তি হলে ভালাে হবে। খাওয়া-দাওয়া করে লায়লা স্কুলে যায় সেখানে তার বান্ধবী রিতা ও অন্যান্যদের সাথে দেখা হয় কথাবার্তা হয়। সবার এক প্রশ্ন কোথায় ভর্তি হবে উচ্চ মাধ্যমিকে । রিতা লায়লার সব চেয়ে ঘনিষ্ট বান্ধবী । লায়লা যে কলেজে ভর্তি হবে রিতাও সে কলেজে ভর্তি হবে। তাই দুজন স্যারদের সাথে পরামর্শ করল কোথায় ভর্তি হলে ভালাে হবে। স্যাররা সব দিক বিবেচনা করে তাদের বললাে- তােমাদের উপজেলা শহর কলেজেই ভর্তি হও । দূরে তােমাদের জন্য সমস্যা হবে । স্যারদের কথা তারা বিনা বাক্যে মেনে নিল ।। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সে কোনাে দিন কলেজ মিস করে না। জরুরী কোনাে কাজ ছাড়া । মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করে ইয়ার চ্যাঞ্জ পরীক্ষা দেয় । অতীতের মতাে সে কলেজেও সবার চেয়ে ভালাে রেজাল্ট করে ২য় ইয়ারে ভীত হয় । তার উপর ইর্ষান্বিত হয়ে তার অনেক বান্ধবী আগের চেয়ে অনেক বেশি পড়ালেখা করে। তাদের আফসােস ইশ! আগে। যদি এমন মনােযােগসহকারে পড়ালেখা করতাম তাহলে মাধ্যমিকের রেজাল্ট আরাে ভালাে হত। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখায় শিক্ষকরা খুবই সন্তুষ্ট। লায়লা সবার চেয়ে। ভালাে রেজাল্ট করেছে বিধায় স্যাররা তাকে যেন নতুন করে চিনেছে ।

স্যাররা ক্লাসে আসলে সবার মাঝে ঘুরে ফিরে চোখটা লায়লার উপর স্থির হয়। স্যাররা মুখে উজ্জল হাসি টেনে বলে তুমি পেছনের বেগে কেন? প্রশ্ন করায় স্যাররা জানতে পারে লায়লার বাড়ি কলেজ। অনেক দূর । যত ঘনিষ্ট বান্ধবী হােক প্রথম বেঞ্চ নিয়ে কেউ কারাে খাতির করে না। তাই লায়লা ভালাে ছাত্রী হলেও কেউ তার জন্য প্রos বেঞ্চে জায়গা রাখতে পারে না। অবশ্য যারা প্রথম বেঞ্চ দখল করে তারা খারাপ না ।। তাদের এ প্রতিযােগীতা দেখে স্যাররা খুব খুশি। তাদের এ প্রতিযােগীতা দেখে স্যাররা মাঝে মধ্যে হারিয়ে যান তাদের স্কুল এবং কলেজ জীবনে। তখনের মতাে বরাবর এখনও প্রথম বেঞ্চের মর্যাদা রয়ে গেছে। তবে তাদের কাছে, যাদের কাছে শিক্ষার মর্যাদা আছে । লায়লার মন এখন ভীষণ ভালাে। কারণ, তার বান্ধবীরাও তার মতাে মনােযােগসহকারে লেখাপড়া করছে। লায়লা অনেক দিন যাবৎ ভাবছে। তার শুধু পাঠে মনােযােগ দিলে হবে না। পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞানও আহরণ করতে হবে। কারণ, মুসলমানের বিশ্বাস হলাে পরকাল বলে। একটি জগৎ আছে। সেখানে পুরস্কারও আছে শাস্তিও আছে। ভালাে কাজের বিনিময় হলাে- অনাবিল শান্তি, আর খারাপ কাজের বিনিময় হলাে- অনন্তকাল অঙ্গারে পরিণত হওয়া। লায়লা ভাবনার পাশাপাশি ইসলামী বই-পুস্তক পড়া শুরু করে দিয়েছে। জান্নাতের বিবরণ পড়ে কল্পনার পাখা মেলে যেন জান্নাতে উড়ে বেড়ায়। আর জাহান্নামের বর্ণনায় গা ছমছম করে, চোখ ফেটে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে পাঠে মনােযােগ দিতে পারে না । বলে এ আধুনিক শিক্ষা অর্জন করে কী ফায়দা হবে? আমাদের এ আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে লর্ড ম্যাকল বলেছেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মতে লেখাপড়া করলে এরা মনে প্রাণে হয়ে যাবে খৃষ্টান”। কী ভয়ংকর কথা। তাইতাে আজ আধুনিক শিক্ষিত যত বাড়ছে, দুর্নীতিও যেন তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। আজ সরকারী অফিসের কেরানির চাকুরী পেতে হলেও মুঠে করে টাকা নিয়ে দাঁড়াতে হয়। ঢাকা ছাড়া কেউ কাউকে চেনে না । টাকাই চাকুরী ঠিক করে দেয়। লায়লা আগের মতাে সবার সাথে বিনা দরকারে কথা বলে না। ক্লা” গেলে এখন আর মুখােশ খুলে বসে না।

<<পরবর্তী পর্ব>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *