Young woman in library-bangla bbc news

কলেজ ছাত্রীর পরিবর্তন (পর্ব-২)

বিনোদন
Spread the love

বান্ধবীদের সাথে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে। তবুও সে তার সিদ্ধান্তে অনড়, সে তার বান্ধবীদের বললাে- তােরা আমার মতাে পর্দা করে চল । সমাজে তােদের অনেক সম্মান বাড়বে। পুরুষরা আজ নারীদের অবাধে উপভােগের সুযােগ হিসেবে পর্দার বাইরে নাগাল পায় বলে উপভােগের জন্য ব্যস্ত হয়। তখন এতে বাধা পেলেই নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। বস্তুত পর্দাহীনতার কারণেই এ ধরণের নারী নির্যাতন বাড়ছে। পবিত্র করআনের সূরা নূর-এর পর্দা সংক্রান্ত বিধানগুলাে যথাযথ বাস্তবায়ন করা ছাড়া নারী নির্যাতনের অভিশাপ থেকে জাতিকে রক্ষা করার বিকল্প নেই । শিক্ষকেরা লায়লার পরিবর্তনে বড় খুশি। শিক্ষকেরা বলছে, লায়লা সব কিছুতেই প্রথম। সে আগেও পর্দা করে আসতে এখন পর্দার মাত্রা আরাে বাড়িয়েছে। এতে আমরা আরাে বেশি আনন্দিত। আমরা সব ছাত্রীকে বলবাে তােমরা লায়লার অনুসরণ কর। জীবনে তােমরা সফল হতে পারবে। ধর্ম নিয়ে ভাবলে যে কারাের হৃদয়ে সাড়া দিবে স্বাভাবিক। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। লায়লা একদিন যুক্তিবিদ্যা স্যারের লেকচার শুনছে । লেকচারের মাঝে রিতা লায়লার কানের কাছে চুপিস্বরে বললাে- ক্লাশের শেষে আমার সাথে একটু দেখা করতে হবে । আচ্ছা, বলে লায়লা আবার লেকচার শুনায় মনােযােগ দিল । ক্লাস শেষে রিতা লায়লাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাে। লায়লা হতভম্ব হয়ে গেলাে কিছুই বুঝতে পারেনি। কিসের জন্য রিতা কাঁদছে! লায়লা নানাভাবে বুঝিয়ে বললাে- আমি তাের উপর কোনাে সময় রাগ করিনি । যা বলার প্লিজ! তাড়াতাড়ি বল। আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে । লায়লা আমি দুঃখিত, আগে তাের কথা না শুনার জন্য। লায়লা তুই আমাদের সবার সেরা বান্ধবী। পড়ালেখায় তুই যেমন সবার চোখে সেরা, চারিত্রিক দিক দিয়েও, এক কথায় তুই অনন্য। রিতা অহেতুক কথা বাড়াচ্ছিস । কাজের কথা বল! যার জন্য তুই আমাকে অপেক্ষা করতে বললি । লায়লা তুই আমাকে ক্ষমা করে দে। আমি বুঝতে পারিনি পর্দার গুরুত্ব। তাই আমি পর্দা করিনি। আমি ভেবেছি শরীর খােলামেলা থাকলে কী হবে? শত শত মেয়েরা আজ পর্দা ছাড়া চলছে, আমি কেন সারা শরীর গরমের ভেতর ঢেকে রাখব । লায়লা আমাকে ক্ষমা করে দে, তাের কথা না মানার কারণে আমার উপর শুকুনের দৃষ্টি পড়েছে। আমার সামনে এখন আন্ধকার । তুই আমাকে এখন সমাধান দে। তা না হলে আব্বা আমাকে কলেজে আসতে দেবে না। হতে পারে আজকে আমার জীবনের শেষ কলেজের দিন । রিতা তুই আমার কাছে সব খুলে বল। তাহলে একটা কিছু করার থাকবে। নতুবা না বুঝে না শুনে আমি কি করতে পারব? লায়লা শুন, আমাদের বাড়ির পাশের চেয়ারম্যানের ছেলে প্রত্যেহ আমাকে কু-রুচিপূর্ণ কথা বলে। কয়েকদিন শুনার পর আব্বাকে বললাম নিরাপত্তার জন্য। এখন দেখি হিতে বিরপীত। আব্বা আমার কথা শুনে ভয়ে জড়ােসড়াে। তিনি আমাকে বললেন- আজ কলেজ থেকে শেষ বারের মতাে যেয়ে এসাে। সবার থেকে বিদায় নিয়ে এসাে। তাই লায়লা তাের কাছে সমাধানের জন্য আসা । আমি কি করলে, চেয়ারম্যানের ছেলের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পাই।।

চিন্তার কি আছে । পর্দা না করায় যত গুনাহ হয়েছে তার জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে তওবাহ কর। আল্লাহ চাহেতাে ক্ষমা করে দেবেন। কালকে কেনাে আরও ৪-৫ দিন তুই কলেজে আসবিনা। ৪/৫ দিন পর সম্পূর্ণ পর্দা করে কলেজে আসবি। আর আমি দেখি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক নিয়ে কিছু করা যায় কিনা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে। লায়লা তাকে শেষে বললাে- আজ কি এভাবে একা একা বাড়ি যাবি? হ্যা, তাের মতাে আমারও কেউ নেই। তােদের বাড়ির পাশে জামিলদের বাড়ি কিনা? হ্যা, আমাদের বাড়ির পাশেই তাদের বাড়ি। দেখতে তাে ভালাে মনে হয় । তাের কেমন মনে হয়। হ্যা, সে খুব ভালাে ছেলে। সে প্রায় সময় তাের কথা বলে লায়লা। যাক এসব বলতে হবে না।। আমি তাকে বলে দেই, সে যেন তােকে তােদের বাড়ি পৌঁছে দেয়। ধন্যবাদ লায়লা। আমাকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাচালি লায়লা! লায়লা জামিলকে বললাে- আপনি দয়া করে রিতাকে আপনার নিজ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। জামিল হ্যা সূচক জবাব দিয়ে বাড়ির দিকে রিতাকে নিয়ে চললাে।। লায়লাও তাদের বিদায় দিয়ে তার বাড়ির দিকে যাত্রা করল । বাড়ি এসে লায়লা খাওয়া দাওয়া করে নামায পড়ে ভাবনায় অতল গহবরে হারিয়ে গেল। পত্রিকা খুললেই আজ ইভটিজিংয়ের সংবাদ। অপমান সইতে না পেরে অবশেষে কিশােরীর আত্মহত্যা। এমন সংবাদ এখন যা গা সহ্য হয়ে গেছে। লর্ড ম্যাকলে ঠিক বলেছে। তাদের সাজানাে সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হলে, যে পড়বে সে মনে প্রাণে খৃষ্টান হয়ে যাবে । আজ আমরা মনে প্রাণে খৃষ্টান না হলেও কাজেকর্মে অনেক আগেই খৃষ্টান হয়ে গেছি। মুসলমানের কালচার আজ আমাদের কাছে সেকেলে হয়ে গেছে। জানালার পাশে বসে উদাস মনে তাকিয়ে রয় আকাশ পানে। সে জানে। এসব প্রশ্নের উত্তর তাকে দেয়ার মতাে কেউ নেই। আকাশ পানে তাকিয়ে বলে- হে আকাশ! তুই আমার এসব প্রশ্নের উত্তর দে। আকাশের কি আর কথা বলার শক্তি আছে? তাই আকাশ তার ভাবগম্ভীর করে বসে আছে । লায়লা যেন আকাশের ভাষা বুঝে । তাই আকাশকে বৃথা প্রশ্ন করে কষ্ট দিতে চায় না। হারিয়ে যায় ১৪০০ বছর আগের ইতিহাসে। সে সময় কালে অর্থাৎ জাহিলিয়্যাতের যুগে নারীকে এভাবে অবমাননা করা হতাে। পুরুষ একের অধিক বিয়ে করতাে। তার মনােরঞ্জনের জন্য সাথে অতিথিদের মনােরঞ্জনের জন্য। যখন বন্ধু বান্ধব আসতাে তাদের আপ্যায়নের পর নিজের স্ত্রীকে তাদের আনন্দ ফুর্তির জন্য দিয়ে দেয়া হতাে। তাদের মানুষ হিসাবে মনে করতাে না। মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময় তাদের ঘরে থাকতে দেয়া হতাে না। এমন অমানবিক অত্যাচার নারীর উপর করা হতাে। সময় গড়িয়ে যায়। এমন অত্যাচার চলতে থাকে । নারীর সহ্যের সীমা পেরিয়ে যায় আল্লাহ। তায়ালা আর সহ্য করতে পারলেন না । আঁধার যতাে ঘনিয়ে, আলাে ততাে নিকটে আসে । একদিন গভীর অমানিষা বেধ করে পৃথিবীতে তাশরীফ নিয়ে এলেন রাসূলে আরাবী, মুক্তির দূত, শান্তির বার্তা বাহক নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । ঘােষণা দিলেন নারীও পুরুষের মতােই মানুষ। তাদেরও অধিকার আছে। অনেকাংশে পুরুষের চেয়েও বেশি। মাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাকে প্রকৃত মর্যাদা দান করেছেন।

 

কলেজ ছাত্রীর পরিবর্তন (পর্ব-৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *