small boy-banglabbcnews

কিশাের কিশােরীর হৃদয়ের আহ্বান

বাংলাদেশ
Spread the love

কোন গাছ ফল দেবে তার ফুল বা মুকুল দেখেলেই বুঝা যায় । তেমনিভাবে অনেক শিশুকে দেখলে বা তাদের আচরণই বুঝা যায় তারা। কেমন হবে। তারা কোনাে পথে হাটছে, সঠিক পথে? না ভান্ত পথে? কিছু কিছু শিশু-কিশােরদের অনেক কথাবার্তা ও কাজ-কর্ম বড়দের মত বা জ্ঞানীদের মত বুঝা যায়। ছােটদের মুখে এ রকম কোনাে কথাবার্তা বড়রা। শােনলে তাদের আদর করে বলে তুমি অনেক পেঁকে গেছাে । ছােটদের দ্বারা এরকম কোনাে কাজ-কর্ম দেখলে বড়রা স্নেহ করে বলে তুমি অনেক বুদ্ধিমান হবে, বড় হয়ে মহাজ্ঞানী হবে। তবে সল্পসংখক কিশােরকিশােরীর কিছু কাজ বা আচরণ ইতিহাস হয়ে থাকে। এমনকি জীবনের পাথেয় হয়ে থাকে। মানুষ আজীবন তাদের ঐ প্রশংসনীয় কাজ থেকে শিক্ষা নেয়। এরকম একটি ঘটনাই পাঠকের সামনে তুলে ধরবাে। দু’জন। কিশাের-কিশােরীর হৃদয়ের আহ্বান, মনের আকুতি, উম্মতের কাণ্ডারি, আল্লাহকে ভয়ের নমুনা। একজন প্রসিদ্ধ বুযুর্গ হযরত মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান কারশী (রহ.)। তিনি বলেন, আমি একদিন ইয়ামানের এক রাস্তা দিয়ে চলছিলাম। সেখানে এক কিশাের দেখলাম। তার দু’কানে দু’টি দুল আছে। প্রত্যেক দুলে একটি করে মুতি আছে, যার কারণে ছেলেটির চেহারাটা দারুনভাবে চমকাচ্ছে। আর সে তার প্রভুর প্রশংসা করছে। আমি শােনলাম সে তার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করছেহে মালিক আমার! তুমি বড় মহান । তুমি আমার উপর রাগও করনি । তার এ সুন্দর প্রাথর্না শােনে আমি তার কাছে গেলাম তাকে সালাম দিলাম। কিশােরটি বললাে- আমি আপনার সালামের জবাব দেব এক। শর্তে, যদি আপনি আমার হৃদয়ের একটি আহ্বান কবুল করেন । তােমার। সেই হৃদয়ের আহ্বানটি কি?

সে বললাে- আমি আজ সকাল-সন্ধ্যায় কিছু খাইনি। আমি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত পালন করি। আমি মেহমান ছাড়া খান খাইনা। যে কোনাে একজন মেহমান নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করি। আমি মেহমান খুজঁতে খুজঁতে দুই মাইল দূরে চলে এসেছি । আপনি আমার সাথে চলুন ।

আমি তার হৃদয়ের আহ্বান দাওয়াত কবুল করলাম। সে আমাকে সাথে নিয়ে চলল। আমরা যখন দুই মাইল অতিক্রম করে ঘরে পৌঁছলাম। তখন সে ডেকে বললাে- হে আমার বােন! | ঘরের ভেতর থেকে জবাব এলাে- জি? | কিশাের বললাে- মেহমান চলে এসেছেন। এ কথা শােনে কিশাের কিশােরী একস্বরে বললাে- আলহামদুল্লিলাহ! আল্লাহ তায়ালা মেহমান পাঠালেন। মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে নামাযে দাড়িয়ে গেলাে। শােকরিয়া আদায়ে দু’রাকাত নামায পড়লাে ।। কিশাের ছেলেটি বড় একটি ছুরি নিয়ে এলাে। একটি বকরির বাচ্চা জবাই করে ফেললাে। আমাকে ঘরে সম্মানের সাথে বসানাে হলাে। মেয়েটি বয়সে ছােট এবং সুন্দর ফুটফুটে বলে অলক্ষ্যেই আমার নজর মেয়েটির দিকে যাচ্ছিল । তখন আমাকে সেই স্থান থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় বসালাে এবং মেয়েটি আমাকে বললাে- হযরত! আপনি মেহমান। আপনার সাথে কঠোর ব্যবহার করা যাবে না। তবে আমার নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “পর নারীর দিকে তাকালে চোখের

ব্যভিচার হয়। তাই বিনয়ের সাথে শুধু এতটুকু জানালাম। চোখের গােনাহ থেকে বাচার জন্য হৃদয়ের আহ্বান করলাম । এ দু’জন কিশাের-কিশােরী মিলে বকরী বানিয়ে গােশত রান্না করে আমার । সামনে খাবার প্রস্তুত করলাে। ছেলেটি আমার সাথে খেতে বসলাে। মেয়েটি পর্দার আড়ালে বসলাে। আমাদের খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ হলাে । আল্লাহর নেয়ামতের শােকরিয়া আদায় করলাম। আমার জন্য রাত্রে ঘুমানাের ব্যবস্থা করলাে । আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম। রাত যখন গভর হলাে, আমি কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শােনতে পেলাম। সেই বাড়িতে আমি অবশিষ্ট রাতটি কান্না ও কুরআনে পাকের তিলাওয়াতের আওয়াজই পেলাম । সকালে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম এ তিলাওয়াতের আওয়াজ সেই মেয়ের। সে সারারাত জেগে ইবাদত করে এবং তিলাওয়াত করে। হে প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! এঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও সঠিক পথে চলা দরকার। আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে এসব ঘটনা পড়িয়ে তাদের এ সুন্দর পথে পরিচালিত করার দরকার। তাহলেই আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি পাবাে । তাই আমাদের সমাজের কিশাের-কিশােরীর হৃদয়ের আহ্বান; তােমরাও এ সকল ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে তােমাদের জীবনকে সাজাতে পারাে ফুলের মত সুন্দর করে । আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমাজের কিশাের-কিশােরীদেরকে তাদের মত খােদাভীরু বানিয়ে দিন । আমিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *