banglabbcnews

ছাত্রজীবনে প্রেম-ভালােবাসা

রাজনৈতিক
Spread the love

ছাত্রজীবন হলাে অধ্যয়নের সময়। ছাত্র জীবনে অনেকে লেখাপড়ার তুলনায় অন্য। বিষয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে ছাত্রজীবন বরবাদ করে। ছাত্রজীবনে প্রেম ভালবাসার। হাতছানিতে সাড়া দিলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছা তার দ্বারা সম্ভব হয় না। জীবনের লক্ষ্য যদি ইস্পাত কঠিন না হয়, তাহলে যে কোন প্রলােভনে পড়ে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

ভাল ছাত্রদের সুবিধা

ভাল ছাত্রদের কদর সর্বত্র। ভাল রেজাল্টপ্রাপ্তদের কলেজে ফ্রি পড়ার সুযােগ আছে। তাছাড়া বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাংক, সংগঠন হতে বৃত্তি পাওয়ার সুযােগও রয়েছে। Scholarship নিয়ে বিদেশে ফ্রি পড়াশােনার সুযােগ রয়েছে। প্রাইভেট ভার্সিটিতে যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা লাগে পড়াশােনা করতে সেখানেও ফ্রি পড়ার ব্যবস্থা আছে।

পড়া মনে রাখার কৌশল

১। আবৃত্তি বা উচ্চারণ: কোন কিছু মুখস্থ করার ক্ষেত্রে নীরব পাঠের চেয়ে শব্দ।

করে পাঠ করা ভাল।

২। আংশিক পদ্ধতি অনুসরণ : কোন বড় পাঠকে আংশিক পদ্ধতি অর্থাৎ ছােট _ ছােট করে পড়লে সহজে মুখস্থ করা যায়।

৩। অর্থ অনুধাবন করা: কোন বিষয়বস্তুর অর্থ বুঝলে সহজে তা স্মরণ রাখা যায়।

৪। রুটিন পদ্ধতি: রুটিন মাফিক পড়াশােনা করলে পড়া সহজে আয়ত্ত করা যায়।

৫। সুন্দরভাবে সাজানাে: পড়াকে যদি সুন্দরভাবে সাজানাে যায় তাহলে পড়া | সহজে মনে থাকবে।

৬। পাঠকে আনন্দঘন করে তােলা: পাঠকে যদি আনন্দঘন করে তােলা যায়।

তাহলে সহজে মনে রাখা যায় ।

৭। দ্রিা পূর্ব পাঠ: ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে মুখস্থ করলে সেটি বেশি স্থায়ী হয়।

আর্থার ডাবলিউ কর্ন হাউস তার ‘How to study’ বইয়ে পড়া মনে। রাখার সঠিক নিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন :

* মনে রাখার বিষয়টি বার বার পড়তে হবে।

* সক্রিয়ভাবে মনােযােগ দেয়া।

* স্থায়ী ভাবে স্মরণ রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে শেখা। | পড়ার সময় মাঝে মাঝে বিরতি দেয়া এবং যা পড়া হচ্ছে তা স্মরণ করার।

| চেষ্টা করা।

* মনে রাখার ব্যাপারে নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস করা।

* নিজের বিষয় বস্তুর মধ্যে পরিকল্পনা যুক্তিসংগত না থাকলে নিজের

ইচ্ছামত সম্পর্ক স্থাপন করা।

বা নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়ােগ করবে। প্রয়ােগ স্তরের এ প্রশ্নটির উত্তর তিনটি ভাগে লিখলে ভালাে হয়। প্রথম ভাগটি জ্ঞানের, দ্বিতীয়টি অনুধাবনের এবং তৃতীয়টি প্রয়ােগের । প্রত্যেক ভাগের জন্য ১ নম্বর করে বরাদ্দ থাকে। এ প্রশ্নটির উত্তর উদ্দীপকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী উদ্দীপকের আলােকে পঠিত বিষয়ের তুলনামূলক আলােচনা, সংশ্লেষণ বা বিশ্লেষণ বা মূল্যায়ন করবে। এ প্রশ্নের উত্তরটি জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়ােগ ও উচ্চতর দক্ষতা। এ চারটি স্তরে লিখতে হয়। এখানে শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণ ক্ষমতা বা সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

শ্রেণীকক্ষে পাঠ গ্রহণের নিয়ম

শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণের সময় কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। নিয়ম গুলাে হচ্ছেঃ

১। শিক্ষক ক্লাসে ঢােকার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখাতে হবে। যতক্ষণ ক্লাস চলবে ততক্ষণ সাইড টক করা চলবে না। মনে রাখতে হবে, শ্রেণীকক্ষে কথা হবে শুধু শিক্ষকের সাথে, কোন শিক্ষার্থীর সাথে নয় ।

২। বর্তমান শিক্ষাদান পদ্ধতি হল অংশ গ্রহণমূলক পদ্ধতি। এখানে শুধু শিক্ষকই বলবে না, শিক্ষার্থীরাও আলােচনায় অংশ নিবে।

৩। ক্লাসে লেকচার শােনার সাথে সাথে লিখতে হবে। লেখার কাজ হবে অতি সংক্ষেপে। অর্থাৎ শােনা এবং লেখা দুটি কাজই শ্রেণী কক্ষে করতে হবে।

৪। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শ্রেণীর কাজ শিখে আসতে হবে। শ্রেণীর কাজ আদায়ের জন্য শিক্ষক পুরস্কার, তিরস্কার-দুটোই করতে পারেন।

৫। শ্রেণীকক্ষে যে বিষয় যেদিন পড়াবে, ছাত্র-ছাত্রীদের তা বাসা থেকে পড়ে আসলে পড়া বুঝতে সহজ হবে।

৬। শ্রেণীকক্ষে মনােযােগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। অনেকেই দেহ ক্লাসে থাকলেও মনটা বাইরে পড়ে থাকে। তাতে ক্লাস করার সুফল পাওয়া যায় না। মনােযােগের জন্য দেহের সুস্থতা অত্যাবশ্যক।

৭। ক্লাসে এমন কোন কাজ করা যাবে না, যা বেয়াদবির পর্যায়ে পড়ে। শিক্ষককে জ্ঞান-বিশারদ হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে এবং তার আদেশ উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে।

৮। নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। জেনে রাখবে, ক্লাস ফাকি দিলে তােমার প্রতিভার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

৯। খিটখিটে মেজাজ হওয়া।

১০। ব্যাকুলতা অনুভব করা।

১১। নিরাশা ও দুর্বলতা অনুভব হওয়া।

১২। উদাসী অনুভর করা ।

১৩। ঘুম না আসা

১৪। বিনা কারণে অস্থির হওয়া।

১৫। মনােযােগে বিঘ্ন হওয়া।

১৬। শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া।

১৭। স্বপ্নে সমুদ্র, নদী বা অন্য কোন জলাশয় দেখা।

১৮। পানির অভাবে মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথা হতে পারে। পানি মস্তিষ্কের প্রাণ শক্তির উৎস। পড়াশুনার সময় ব্রেইনের জন্য পানি বেশি। দরকার। পড়তে বসলে সাথে পানি রাখ । একটু পরে পরে পানি পান কর। এটি তােমার ব্রেইনের জ্বালানির কাজ করবে।

কো-কারিকুলাম কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করা

খেলাধুলা, আবৃত্তি, গান, বিতর্ক, Spoken English, নাচ, উচ্চারণ, ইত্যাদি সৃজনশক্তিকে বিকশিত করে। এ গুলাে মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব গুণ সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকের উচিত এগুলােতে অংশগ্রহণ করা। বাস্তব জীবনে, জাতীয় জীবনে নেতৃত্ব দিতে হলে এগুলাের চর্চা শৈশব হতে করা উচিত। পৃথিবীর সেরা দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যােগ্যতা। SSC ও HSC-তে GPA 5, SAT স্কোর ২৪০০ এর মধ্যে ২২০০ IELTS তে ৯ এর মধ্যে ৮ অথবা Spoken English/TOEFL তে ১২০ এর মধ্যে ১০০ এবং কো-কারিকুলার কার্যক্রমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে চ্যাম্পিয়ন

নিয়ম মানা

 

নিয়ম বা রুটিন মাফিক পড়া। ধর, তুমি প্রতিদিন নয়/দশ ঘণ্টা পড়াশােনা করবে বলে স্থির করেছ। পড়া শুরু করেছ কিন্তু মাঝখানে দুদিন পড়াশােনা করনি । তৃতীয় দিন তােমাকে পড়তে হবে ঐ দিনের দশ ঘণ্টা এবং পুর্বে বিশ ঘন্টাসহ মােট ত্রিশ ঘণ্টা। এটা তােমার দ্বারা সম্ভব নয়। তােমার যে বিশ টি ঘন্টা চলে গেল এ সময় আর জীবনে ফিরে পাবে না। কারণ আল্লাহ সবকিছু ফিরিয়ে দেন কিন্তু সময় কখনও ফিরিয়ে দেন না। একদিন বেশি পড়াশােনা করলে এর পর টানা কয়েকদিন পড়াশােনা না করলে ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব নয়। পড়াশােনা নিয়মিত করতে হবে। তাহলে সমস্যা থাকবে না। বছরের শুরুতে সিলেবাস দেখে বইপত্র সংগ্রহ করে প্রশ্নের ধরন, মানবণ্টনসহ ভাল করে জেনে শুনে পড়া শুরু করতে হবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে সময়। সীমিত কিন্তু পড়া বেশি। অল্প সময়ে কীভাবে বেশি পড়া আয়ত্ত করা যায় তা জানতে হবে । আর মনে রাখতে হবে প্রতিদিনই পরীক্ষা। এই চিন্তা করে প্রস্তুতি নিলে অবশ্যই রেজাল্ট ভাল হবে।

তাঁর রচিত বিশাল বিশাল গ্রন্থ তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হােমার। গ্রিসের অন্ধ কবি হােমারের কথা আমরা সবাই জানি। তাঁর স্মৃতিশক্তি বাল্যকালে ছিল অত্যন্ত দুর্বল। অন্ধ হওয়ার পর এক দোকানে বসে তিনি শ্রোতাদের ট্রয়। যুদ্ধের কাহিনী আবৃত্তি করে শােনাতেন। পরবর্তীকালে তাঁর স্মৃতিশক্তি এতই প্রখর হয়েছিল যে, যে-কোন কাহিনী তিনি স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারতেন। তাঁর স্মৃতিতে ধরে রাখা কাহিনী থেকেই রচিত হয় ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ মহাকাব্য ।। অগাস্ত রাঁ। বিখ্যাত ভাস্কর অগাস্ত বঁদাকে ছােটবেলায় বলা হত গবেট । তাঁর স্মৃতিশক্তি এতই দুর্বল ছিল যে, স্কুলের শিক্ষকরা তাঁকে বলত ভুলাে গবেট। অথচ পরবর্তীকালে নিজের চেষ্টায় তাঁর স্মৃতিশক্তির এতই উন্নতি হয়েছিল যে, অতীতের বহু ঘটনা তিনি হুবহু বলে দিতে পারতেন। স্যামুয়েল জনসন ড. স্যামুয়েল জনসন, যিনি ইংরেজি ভাষায় প্রথম ডিকশনারি প্রণেতা,ছােটবেলায় তাঁর স্মরণশক্তি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। পরবর্তীকালে তিনি স্মৃতিশক্তিকে বাড়াতে সক্ষম হন এবং ৭৮ বছর বয়স পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পেরেছিলেন। জর্জ প্যাটন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন সেনানায়ক জর্জ প্যাটনের ছােটবেলায় স্মরণশক্তি ছিল খুবই দুর্বল। স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে তাঁকে একই ক্লাসে তিনবার থাকতে। হয়েছে। অথচ পরবর্তীকালে তাঁর স্মৃতিশক্তি হয়েছিল অসাধারণ । উইলিয়াম শেক্সপিয়র। ইংরেজি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের স্কুল জীবনে শিক্ষকরা ক্লাসে পড়া জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছুই উত্তর দিতে পারতেন না। শুধু মাথা নিচু করে থাকতেন। একবার এক শিক্ষক মন্তব্য করেছিলেন- এ ছেলের ভবিষ্যত অন্ধকার । যে ছেলে ক্লাসের পড়া পারে না, জীবনে সে কিছুই করতে পারবে না। অথচ পরবর্তীকালে তিনিই হন অসাধারণ প্রতিভাধর।।

আইনস্টাইন, এডিসন, মাইকেল এঞ্জেলাে, হােমার, স্যামুয়েল জনসন, জেনারেল জর্জ প্যাটন, অগাস্ত রদ, ইমাম গাজ্জালি, উইলিয়াম শেক্সপিয়র প্রমুখ। মনীষীরা জন্মসূত্রে প্রখর স্মৃতিশক্তি পাননি। নিশ্চয়ই তাঁরা তা অর্জন। করেছিলেন। তুমিও তােমার চেষ্টার মাধ্যমে স্মরণশক্তিকে উন্নত করতে পারাে। সহজেই। স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করে তাদের মতাে পৃথিবীতে বিখ্যাত না হতে পারলেও নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেই। জেনে রাখবে, সফল । মানুষেরা বেশি কিছু করেন না। তার সামান্য কাজকেই তাদের নিষ্ঠা ও সততা দিয়ে বৃহৎ করে তােলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *