banglabbcnews.com

ছাত্রজীবনে সাফল্য অর্জনের কৌশল

অর্থনীতি আন্তর্জাতিক করোনাভাইরাস খেলা চাকরির খবর বাংলাদেশ বিনোদন রাজনৈতিক শিক্ষা
Spread the love

ছাত্রজীবনে সাফল্য অর্জন মানে ভাল ছাত্র হওয়া। ভাল ছাত্র হওয়া মানে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করা। একজন শিক্ষার্থী যতই মেধাবী হােক না কেন, সে যদি পড়াশােনা না করে তাহলে এই মেধা কোনাে কাজেই আসবে না। এজন্য। ছাত্রজীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রথম ও প্রধান কাজটি হল নিয়মিত লেখাপড়া করা। এর সাথে পরীক্ষায় একটি সন্তোষজনক ফল লাভ করা। এবার ছাত্রজীবনে সাফল্য অর্জনের কিছু কৌশল জেনে নেয়া যাক

ভাষায় দক্ষতা অর্জন: ভাল ছাত্র হওয়ার জন্য ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা খুবই প্রয়ােজন। মেধাবী মাত্রই ভাষাগত জ্ঞান অর্থাৎ বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া। এতে লেখাপড়ায় সময় ও শ্রম অনেকটা কম লাগে। এছাড়া বানান ও বাক্যে ভুল ও কম হয়, পরীক্ষার খাতাটি হয় সুন্দর ও ঝকঝকে। তুমি ভাল ছাত্র হতে চাইলে তােমাকে অবশ্যই ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।।

লেখাপড়ায় লেগে থাকা: বেশিরভাগ সময় লেখাপড়ায় লেগে থাকতে হবে। পড়াশােনার পেছনে সব সময় লেগে থাকলে একসময় তুমি ভাল ছাত্র হবেই। তবে তােমার পড়ালেখা করার পদ্ধতি অবশ্যই সঠিক হতে হবে। তুমি। পড়াশােনায় প্রথম ব্যর্থ হলেও লেগে থাক, সাফল্য আসবেই।

বুঝে পড়া ও লেখা: শেখার সময় প্রথমে বিষয়টি বুঝতে হবে। আবার শেখার পর লিখতে হবে। কথায় আছে- একবার লেখা দশবার বলার সমান। কোনাে পড়া বুঝে পড়লে দ্রুত মুখস্থ হয় এবং অনেকদিন পর্যন্ত মনে থাকে । এজন্যই লেখাপড়ায় ভাল করতে হলে বুঝে বুঝে শিখতে হবে এবং লেখার। অভ্যাস করতে হবে । ছাত্রজীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য এটি খুবই প্রয়ােজন।

শিক্ষকের উপদেশ মেনে চলা: শিক্ষক তােমার গুরুজন। উপদেশ তথা রামর্শ মােতাবেক তােমাকে লেখাপড়া করতে হবে। তিনি যেভাবে গাইডলাইন

ন, সেভাবে লেখাপড়া করলে তােমার সাফল্য অনিবার্য। শিক্ষক সবসময় তােমার মঙ্গল কামনা করেন।

ভাবে লেখাপড়া করা: দলগতভাবে লেখাপড়া করলে যে কোন বিষয় হজেই আয়ত্ত করা যায়। পড়া মনে রাখার জন্য গ্রুপ ডিস্কাশন অত্যন্ত

হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল

লেখার অভ্যাস গড়ে তােলাঃ- লেখা সুন্দর করার প্রথম ধাপই হল বেশি লেখার চর্চা করা। যতই অসুন্দর হােক লিখতে হবে প্রচুর। এক সময়। মহা সুন্দর হবে। তবে সুন্দর করার প্রক্রিয়া অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে।

১। লেখার পরিবেশ তৈরি করাঃ- লেখার সময় নিরিবিলি পরিবেশ থাকতে। হবে। মনােযােগ থাকলে লেখা সুন্দর করা যায় । অমনােযােগী মন নিয়ে লিখলে। লেখার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায় না। তাই সুন্দর ও নীরব পরিবেশ সুন্দর। লেখার জন্ম দেয়। বিশেষ করে লেখা শেখার প্রাথমিক অবস্থায় নীরব পরিবেশ লেখার ওপর বেশ প্রভাব ফেলে।

৩। সুন্দর লেখাকে অনুকরণ করাঃ- যাদের হাতের লেখা সুন্দর, তাদের লেখাকে। অনুসরণ করতে পার। তবে এই প্রক্রিয়া ছােটবেলা থেকেই করতে হবে। শিশুরা অনুকরণ করে ভাল ফল পেয়ে থাকে। তুমিও অন্য লেখাকে ফলাে কর, ফল পাবে। তাছাড়া যে অক্ষর অসুন্দর হয় শুধু সে অক্ষরগুলাে ঠিক করে নিলেই লেখা সুন্দর হবে।

৪। বানান ও বাক্য নির্ভুল হওয়াঃ- বাক্য ও বানান নির্ভুল হওয়া লেখা সুন্দর হওয়ার অংশ। হাতের লেখা আকর্ষণীয়, অথচ বাক্যও বানান ভুলে ভরা-এ ধরনের লেখা সুন্দরের আওতায় পড়ে না। তাই বাক্য ও বানান যেন শুদ্ধ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫। লাইন সােজা করে লেখাঃ- অনেকেই লিখতে গিয়ে লাইন বাঁকা করে ফেলে। এ ধরনের লেখা কোনাে দিনই সুন্দর হয় না। এজন্যই লিখতে গিয়ে লাইন অবশ্যই সােজা করে লিখবে। লেখার সময় মনােযােগী হলেই লাইন বাঁকা হওয়ার সম্ভবনা থাকে না।

৬। প্রশ্নের সাথে উত্তরের মিল হওয়াঃ- সুন্দর হাতের লেখার সাথে সাথে প্রশ্নের সাথে উত্তরেরও মিল হতে হবে। পরীক্ষক তখনই হাতের লেখার মূল্যায়ন। করবেন যখন প্রশ্নের সাথে উত্তরের মিল থাকবে। তাই পরীক্ষার্থীদের হাতের লেখা সঠিক মূল্যায়নের জন্য উত্তর যথার্থ হওয়ার বাঞ্চনীয়।

৭। অল্প বয়স থেকে চর্চা করাঃ- হাতের লেখা সুন্দর করার উপযুক্ত সময় হল। ছােটবেলা । ছেলেবেলায় লেখা সুন্দর করার চেষ্টা করলে সফল হওয়া সহজতর হয়। সুন্দর লেখার ওপর হাত ঘােরানাে লেখা সুন্দর করার একটি কৌশল। এ ব্যাপারে শিশুদের চর্চা করালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

ভালাে ছাত্রের গুণাবলী

একজন ভালাে ছাত্র শুধু মেধাবী হবে না, তার মধ্যে মানুষ হিসেবে অন্যান্য গুণেরও সমাহার ঘটবে। ছাত্র জীবনে কতগুলাে গুণ থাকা অতি জরুরী। এসব গুণ পরিলক্ষিত হলেই তাকে সবাই ভালাে ছাত্র বলে। এই গুণগুলাে নিম্নে আলােচনা করা হল।

পরিশ্রমী হওয়া: ‘পরিকল্পিত পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি’ এ কথাটি ভাল ছাত্র মাত্রই জানে। এরা। লেখাপড়ায় কঠোর পরিশ্রমী হয়। এর ফসল হিসেবেই তারা পরীক্ষায় ভালাে রেজাল্ট করে। তারা কখনাে পড়ায় ফাকি দেয় না। তারা পরিশ্রম করে আনন্দ পায় । তারা যেমন পরিশ্রম করে তেমন ফল ও পেয়ে থাকে।

মনােযােগী: ভাল ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়ায় যথেষ্ট মনােযােগীও। একাগ্রতার দরুন এরা পড়াশােনার জন্য অধিক সময় দিতে পারে। মনােযােগী হওয়ার ফলে এদের মুখস্থ করার ক্ষমতা ও লেখনীশক্তি থাকে তীব্র। ভাল ছাত্র হওয়ার এই কৌশলটি তাদের প্রকৃত মেধাবী হতে সাহায্য করে। এই মনােযােগ লেখাপড়ার বাইরে ও সুন্দরভাবে চলতে সাহায্য করে থাকে।

জীবনের লক্ষ্যে স্থির থাকা: মেধাবী ছাত্ররা ছােটবেলা থেকে তাদের জীবনের লক্ষ্য স্থির করে রাখে। লক্ষ্যে পৌছার জন্য তারা পড়াশােনায় প্রচুর শ্রম দেয়। যখনই লেখাপড়ায় মন বসে না, তখন তারা জীবনের লক্ষ্যের কথা ভাবে। আমাকে আমার লক্ষ্যে পৌছতে হবেএই ভাবনা থেকে তারা পড়াশােনায় উৎসাহ পেয়ে থাকে। তাই ভাল ছাত্র। হিসেবে জীবনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে।

পাঠ্যবহির্ভূত বই পড়া: ভাল ছাত্ররা পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সাধারণ জ্ঞান, উপদেশমূলক ও জীবনীগ্রন্থ সহ অনুপ্রেরণামূলক বই পড়ে থাকে। এসব গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে তারা বাস্তব জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে থাকে। এসমস্ত বই বিনােদনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।

না বুঝে পড়বে না

আমি যা পড়, তাই বুঝতে চেষ্টা করা উচিত। না বুঝে মুখস্থ করলে তা বেশিক্ষণ আজ রাখা যায়না। ইংরেজির ক্ষেত্রে অর্থ না বুঝে কিছুই পড়বে না। অর্থ বুঝার। জন্য ইংরেজি ডিকশনারী সাথে রাখতে হবে। কোন শব্দের অর্থ না বুঝলে সাথে সাথে অর্থ জেনে তার পর অগ্রসর হতে হবে। যেখানেই সমস্যা হবে তা হাই লাইট (Highlight) Marker দিয়ে Mark করে সেগুলাে শিক্ষকের নিকট হতে বুঝে নিতে হবে। পড়ার সময় ছােট ছােট ভাগ করে পড়তে হবে।

শ্রেণীকক্ষে মনােযােগ সহকারে পাঠ গ্রহণ

মনােযােগ সহকারে শােনার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতে হবে। ক্লাসের লেকচার শুধু শুনে মনে রাখা যায় না। আমরা যা শুনি তা বেশির ভাগই ক্লাস থেকে বের হলে আর মনে থাকে না। তাই প্রয়ােজনীয় কথা খাতায় সংক্ষেপে লিখে রাখতে হবে। লেকচার শােনার সময় খাতার পৃষ্ঠাকে দুটো ভাগে ভাগ করে এক পাশে নােট করা অন্য পাশে কোন মন্তব্য বা প্রশ্ন লিখে রাখা। নােট করার সময় দ্রুত লিখতে হবে। ক্লাসের লেকচার ভালভাবে বুঝতে হলে যে Lesson পড়াবে তা আগেই পড়ে নিলে Lesson টি সহজে বুঝতে পারা যায় । এতে করে বইয়ে যে তথ্যগুলাে নেই, তা সহজেই বুঝা যায় এবং সেই তথ্যগুলাে নােট করা যায়। আরেকটি বিষয় হলাে নােট করতে হবে নির্দিষ্ট খাতায়। ঐ খাতায় ঐ বিষয় ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবেনা। এভাবে একটি নােট খাতা ব্যবহার করলে কয়েক দিনের মধ্যে ঐ খাতাটি একটি উন্নত নােট হয়ে যাবে। ক্লাসের লেকচারগুলাে বাসায় গিয়ে আবার মনােযােগ সহকারে পড়তে হবে। পড়ার পর কোন প্রশ্ন থাকলে পরের দিন শিক্ষকের নিকট হতে তা সমাধান করে নেবে। তুমি ক্লাসে যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ খাতা কলম প্রস্তুত রাখবে। প্রয়ােজনীয় কোন তথ্য প্রদান করার সাথে সাথে লিখে নিবে। বর্তমানে সৃজনশীল প্রশ্ন পত্রের যুগ। এখন সমগ্র বই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে লেকচার গুলাে ভালভাবে বুঝতে হবে।

যে কোন পরিবেশেই লেখাপড়া করা যায়

লেখাপড়ার পরিবেশ সুন্দর হলে ভাল। কিন্তু সবার সুন্দর পরিবেশ থাকবে। এমনটা ভাবা যায় না। আমার অভিজ্ঞতা হলাে আমাদের দেশের বেশিরভাগ। মেধাবী ও ভাল রেজাল্টধারীদের পরিবেশ অনুকূলে নেই। তারপরও তারা ভাল রেজাল্ট করে আসছে। এ পৃথিবীতে অজুহাত দিয়ে কেউ কোনাে দিন বড় হতে পারে নাই।

1 thought on “ছাত্রজীবনে সাফল্য অর্জনের কৌশল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *