banglabbcnews.com

তােমার জীবন থেকে না শব্দটা ডিলিট করে দাও

অর্থনীতি আন্তর্জাতিক করোনাভাইরাস খেলা চাকরির খবর বাংলাদেশ বিনোদন রাজনৈতিক শিক্ষা
Spread the love

তােমার জীবন থেকে না শব্দটা ডিলিট করে দাও

তুমি ইচ্ছা করলেই ভাল ছাত্র হতে পার। হবে কি হবে না তা নির্ভর করে তােমার ইচ্ছার উপর। সুতরাং তুমি পারবেনা এ কথাটা তােমার জীবন থেকে ডিলিট করে দাও। এখনই তুমি শুরু করে দাও। সাফল্য তােমার অনিবার্য। পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছু নাই। এখানে অসম্ভবকে সম্ভব করার একটি ঘটা বলছি। দশরথের জন্ম বিহারের গয়া শহরের কাছের এক গ্রামে। পেশায়। দিনমজুর। তার গ্রাম আর গয়া শহরের মাঝে এক বিশাল পর্বতের অবস্থান। ১৯৬০ সালে দশরথের স্ত্রী ফাল্গুনী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে গয়া শহরে রওনা হন দশরথ কিন্তু ৭০ কি.মি. পথ পেরিয়ে যেতে গিয়ে ফাল্গুনী বিনা চিকিৎসায় এক সময় মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন দশরথ, তাঁর মনে। হয়, কেবল তিনি নন, গ্রামের অসংখ্য মানুষ এই অল্প কয়েক কিলােমিটার পর্বতের বাধার কারণেই ৭০ কি.মি. পথ কয়েক ঘণ্টায় পার হতে বাধ্য হচ্ছে। আর ফাল্গুনীর মতাে অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে। কারাে সাহায্য ও ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই পর্বতের পাথর ভেঙে গড়তে শুরু করলেন রাস্তা! দীর্ঘ ২২ বছর কাজ করার পরে অবশেষে অসম্ভব হল সম্ভব, পাহাড়ের পাথর কেটে ৩৬০ ফুট দীর্ঘ। আর ৩০ ফুট চওড়া একটা পথ তৈরি করতে পারলেন। ৭০ কিলােমিটার রাস্তা কমে দাড়ালাে মাত্র ১৫ কিলােমিটার। পাল্টে গেলাে সে গ্রামের মানুষের জীবনধারা। সম্রাট শাহজাহান ২২ বছর ধরে ২০ হাজার শ্রমিক খাটিয়ে জনগণের পয়সায় বানিয়েছেন তাজমহল, আর দশরথ কাজ করেছেন একাকী, জনগণের স্বার্থে পর্বত চূর্ণ করে বানিয়েছেন এই রাস্তা। শখের তাজমহলের চাইতে এই রাস্তাটিই সপ্তাশ্চর্যে যুক্ত হবার মতাে অসাধারণ একটা কাজ, আর এই অসাধারণ মানুষটি ও পরম শ্রদ্ধার পাত্র ।

ইতিবাচক মনােভাবের প্রভাব

মানুষ অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। মানুষের অসীম শক্তি ও সম্ভানাকে। ইতিবাচক চিন্তাধারার মাধ্যমেই কাজে লাগানাে সম্ভব। এ প্রসঙ্গে হাতির গল্প উল্লেখ করা যায়। জঙ্গল থেকে দুরন্ত প্রাণ চঞ্চল হস্তি শাবককে ধরে এনে ৬ ফুট লােহার শিকল দিয়ে শক্ত খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। প্রথম দিকে হস্তি শাবক শিকল ছেড়ার চেষ্টা করে উল্টো পা রক্তাক্ত করে। ফলে এক সময় সে এ। বন্দিত্বের কাছে হার মানে। এ হস্তি শাবক পূর্ণাঙ্গ হাতিতে পরিণত হওয়ার পরও তাকে ছাগল বাঁধার খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেও সে ৬ ফুট জায়গার মধ্যেই অবস্থান করে। অনেক সময় সার্কাসের মেলায় আগুন লাগলেও সে শিকল ভাঙার চেষ্টা করে না। কারণ সে মনে করে এটাই তার নিয়তি। ফলে সে আগুনে পুড়ে ছাই হয়। কারণ ভ্রান্ত বিশ্বাস তাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখে। মনােভাবের। দৃষ্টান্ত– এক জুতা কোম্পানী তাদের একজন প্রতিনিধিকে আফ্রিকার একদেশে। পাঠালাে জুতার বাজার তৈরির জন্য। সে ঐ দেশ হতে ফিরে এসে রিপাের্ট দিল। যে, সে দেশের লােকজন জুতা পরে না।

সকল বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়া

বর্তমানে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল গ্রেডিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ভাল ফলাফল করতে হলে সকল বিষয়েই ভাল গ্রেড পেতে পুরাতন পদ্ধতিতে কোন বিষয়ে ন্যূনতম ৩৩ নম্বরসহ সব বিষয় মিলে ৬০, পেলে একজন ছাত্র প্রথম বিভাগ অর্জন করত। কিন্তু বর্তমানে গ্রেডিং পদ্ধতি। গােল্ডেন A+ পেতে হলে প্রত্যেক বিষয়েই আলাদা করে ৮০ নম্বর পেতে হবে। কোন একটি বিষয়েও যদি ৮০ এর নিচে নম্বর পাও অর্থাৎ A পাওন। তােমার পক্ষে গােল্ডেন A+ অর্জন করা সম্ভব হবে না। আমরা জানি, ইংরেজি ও অঙ্কে বেশি শ্রম দিতে হয়। তাই বলে অন্যান্য বিষয়ে কম গুরুত্ব দিলে চলবে।

। হয়তাে অন্যান্য বিষয়ের সমান নম্বর পাওয়ার জন্য ইংরেজি ও অঙ্কে একট। বেশি শ্রম দিতে হয়, কিন্তু সকল বিষয়েই ভাল গ্রেড না পেলে যে ভাল জিপিএ পাওয়া যাবে না- একথা ভুলে গেলে চলবে না। বর্তমান পদ্ধতিতে ছাত্র। ছাত্রীদের সকল বিষয়ের প্রতি সচেতন হতে হবে। সব বিষয় সমান গুরুত্ব না। দিলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের কোন সুযােগ নেই। কেউ যদি মনে করে ইতিহাস বা ভূগােল না পড়ে বানিয়ে লিখে ৩৩ নম্বর তুলব। আর অঙ্ক ও বিজ্ঞানের প্রস্তুতি বেশি নিয়ে ৮০ নম্বর পাব, তাতে পূর্বে সমস্যা ছিল।

; কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের নম্বর পেলে তাকে C গ্রেড ধরা হবে যা খুবই নিম্ন। মানের ফলাফল।

পড়ার ৮০% কোনাে কাজে লাগে না

আমরা যা পড়ি তার ৮০% কোনাে কাজে লাগে না। মাত্র ২০% তথ্য কাজে লাগে। কিন্তু ২০% তথ্যকে পেতে ৮০% বাড়তি পড়া পড়তে হয়। স্বর্ণ পাওয়ার জন্যে যেমন টনের পর টন মাটি খুড়তে হয়, তেমনি ২০% তথ্যকে পাওয়ার জন্য ৮০% বাড়তি তথ্য পড়তে হবে। এ জন্য খুব দ্রুত পড়ার বিকল্প। নেই। যেখানে তথ্য পাওয়া যাবে সেখানে High Light Marker দিয়ে। Marking করতে হবে। পরবর্তীতে শুধু ২০% পড়া পড়লেই চলবে।

দ্রুত পড়ার অভ্যাস করা

ধীরগতিতে পড়লে সময় বেশি লাগে একথা আমরা জানি। অথচ দ্রুত পড়তে পারলে অল্প সময়ে অধিক পড়া সম্ভব হয়। দ্রুত পড়তে না পারার কার? সময়ের অভাবে সিলেবাসের অনেক পড়াই বাকি থেকে যায়। এজন্যই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। কিন্তু কীভাবে দ্রুত পড়া সম্ভব? অনেকেই। বাক্য দুবার পড়ার অভ্যাস আছে। আবার কেউ কেউ কঠিন শব্দের কাছে থেমে যায়, অযথাই কঠিন শব্দটার অর্থ খুঁজতে থাকে। অনেকে আবার সময় মনােযােগের অভাবে মাঝে মাঝে থেমে যায়। খেয়াল হলে সাত থেকে পড়া শুরু করে। কেউ কেউ বিড় বিড় করে পড়ে। পড়ার সময়। আবার ঠোট নড়ে। এসব কারণেই পড়ার গতি ধীর হয়; দ্রুত পড়া সঙ৭ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীরই এসব বদভ্যাস ত্যাগ।

পড়ার মাঝে বিশ্রামের গুরুত্ব

প্রতি ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পড়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলে ভাল হয় এবং এই বিশ্রামের মেয়াদ প্রায় ১০ মিনিটের মত হতে পারে । ১০ মিনিট বিশ্রামের সময় তুমি নিজের মনের মত গান বা মিউজিক শুনতে পার বা শ্বাসপ্রশ্বাস ক্রিয়া অথবা। হালকা আরামদায়ক ব্যায়াম করতে পার।। এক জার্মান অনুসন্ধানকারী নিজের অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌছে ছিলেন যে, কোন কাজে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম মানুষের পুনরায় স্মরণ করার শক্তি বাড়িয়ে তােলে। তুমি হয়ত কোন কাজ সঠিক ভাবেই করে চলেছ, তবু বিশ্রাম করাটা অত্যন্ত জরুরী।

পড়া ভুলে যাওয়ার কারণ

এ কথা সত্য যে, স্মৃতি শক্তি সকলের সমান থাকে না। কেউ শিক্ষা করা বিষয়ে। হুবহু মনে রাখতে পারে, কেউ আংশিক মনে রাখতে পারে, আবার কেউ কোন অংশই মনে রাখতে পারে না। এ রূপ বিস্মৃতির নানাবিধ কারণ বিদ্যমান।

পড়ালেখা ভুলে যাওয়ার কারণ গুলাে নিম্নে আলােচনা করা হলাে:

১. মনােযােগের অভাব: মনােযােগের অভাবে পড়া মনে থাকে না।

২. পর্যালােচনার অভাব: শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু যদি পরবর্তীতে শিক্ষার্থী পর্যালােচনা

করে তাহলে সে বিষয়বস্তুর বিস্মৃতি ঘটে।

৩. আবেগজনিত প্রতিরােগ: ভয়, ভীতি , ক্রোধ, ঘৃণা লজ্জা ইত্যাদি আবেগ | জনিত কারণে শিক্ষার্থী শিক্ষা করা বিষয় স্মরণ করতে ব্যর্থ হয়।

৪. যথাযথ মিলের অভাব: একটি বিষয়ের সাথে অন্য বিষয় এবং একটি ঘটনার

সাথে অন্য একটি ঘটনার যথাযথ অনুসঙ্গ বা অন্ত:মিল না থাকলে সে সব

বিষয় বা ঘটনা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৫. অসুস্থতা: অসুস্থতার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করা বিষয় ভুলে যায়।

৬. প্রতিবন্ধকতা: মনােবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, নতুন শিক্ষা

পুরাতন শিক্ষার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। অনুরূপ ভাবে পুরাতন শিক্ষাও। নতুন শিক্ষার দ্বারা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কী রেজাল্ট করতে চাও তা স্থির কর

লক্ষ্যকে সুনির্দিষ্ট ও শানিত করতে হবে। তােমাকে দূর প্রসারী ও আশু লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আশু লক্ষ্য অর্জনে সাফল্য সব সময়ই একজনের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। আশু লক্ষ্য ২/৩ মাস মেয়াদী হতে পারে। আর এই লক্ষ্য হতে হবে একেবারেই সুনির্দিষ্ট। যেমন আমি আগামী পরীক্ষায় শতকরা …..% নম্বর। পাব। দূর প্রসারী লক্ষ্য হতে পারে পরীক্ষায় ফার্স্টক্লাস পাওয়া, বৃত্তি পাওয়া, বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। সর্বোচ্চ ডিগ্রীর সাথে সাথে যথার্থ জ্ঞানও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *