দ্রুত লেখার কৌশল

লেখার কৌশল

১। মুখস্থ শক্তি তীব্র হওয়াঃ– দ্রুত লেখার জন্য প্রশ্নোত্তর মনে রাখতে হবে। লিখতে গিয়ে যদি প্রশ্নোত্তর ভুলে যাও, তাহলে তাড়াতাড়ি লেখা সম্ভব হবে না।। এজন্যই মনে রাখার ওপর দ্রুত লেখা অনেকাংশে নির্ভর করে। দ্রুত লেখা ও প্রশ্নোত্তর মনে রাখা কোনাে একটির অভাব ঘটলেই পরীক্ষায় সম্পূর্ণ উত্তর লেখা। সম্ভব হয়ে ওঠে না।

২। লেখার সময় টেবিল পরিচ্ছন্ন রাখাঃ– লেখার সময় পড়ার টেবিল অবশ্য গােছালাে থাকতে হবে। অগােছালাে টেবিল লেখা গুছিয়ে লেখা সম্ভব হয় না।

৩। বেশি বেশি লেখা চর্চা করাঃ– হাতের লেখা দ্রুত করার এটি একটি অন্যতম উপায় । যে যত বেশি লিখবে, তার লেখা তত দ্রুত হবে। একবার লেখা দশ বার শেখার সমান কাজ করে। তাছাড়া বেশি বেশি লিখলে বানান ও বাক্য নির্ভুল। হয় । হাতের লেখা ও পরিচ্ছন্ন হয়।

৪। টেবিলে উপর পরিমাণ মতাে আলাে থাকাঃ– লেখা দেখার জন্য যতটুকু আলাে দরকার ততটুকু আলাে তােমার পড়ার টেবিলের ওপর থাকতে হবে। আলাে অস্পষ্ট হলে লিখতে গিয়ে সমস্যা হয়। তাছাড়া কম আলােতে লেখা পড়া। করলে চোখেরও ক্ষতি হয়।

৫। চেয়ার হবে আরামদায়কঃ– বসার চেয়ারটি আরামাদয়ক হতে হবে। চেয়ারের উচ্চতা টেবিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে, যেন লিখতে গিয়ে। সমস্যা না হয়। চেয়ার যদি আরামদায়ক না হয় তখন মাঝে মাঝে ওঠা-বসার। কাজটি করতে হয়। এতে লেখার একাগ্রতা বিনষ্ট হয়।

৬। লেখার ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম নেয়াঃ– লেখা শুরু করলে প্রথম দিকে হাতের লেখা সুন্দর হয়। কিন্তু এক টানা লিখলে সৌন্দর্য রক্ষা করা যায় না। এ জনত। লেখার ফাঁকে ফাঁকে বিরতি দিতে হবে। বিরতি দিয়ে আবার লেখা শুরু করলে। সৌন্দর্য বজায় থাকবে।

৭। চিত্র আঁকতে শেখাঃ– হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য শিশুদের প্রথমে চিত্র। আঁকতে শিখতে হবে। পরে অক্ষরগুলােকেও আকার ছলে লেখা যাবে। তখন হাতের লেখা সুন্দর করার পথ সুগম হয়।

৮। পূর্বের লেখা সাথে মিলিয়ে দেখাঃ– কিছুদিন পরপর পূর্বের লেখার সাথে বর্তমান লেখার তুলনা করতে হবে। তাহলে লেখার মান বাড়ানাের জন্য সতর্ক হতে পারবে।

আরো পড়ুন: দাসীর বেশে

মায়ের আগ্রহের ফলে আইনস্টাইনকে ৬ বছর বয়সেই বেহালা শিখতে হয়েছিল ।  স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে তাঁর লেখাপড়া শুরু করতে করতেই ৯ বছর পেরিয়ে যায়। স্কুলে ভর্তি হন অনেক দেরিতে। স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ১০ মবার ফেল করেন; দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেন। দু’দুবার পরীক্ষা দিয়ে তাকে এন্ট্রান্স পাস করতে হয়। গাধা ছাত্র হওয়ার কারণে তিনি বাবার শখের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারে নি। বড় হয়ে চাকরির চেষ্টা করে বারবার ব্যর্থ হন। তাঁর স্মৃতিশক্তি এতই দুর্বল ছিল যে, ইন্টারভিউ বাের্ডের সামনে কোন প্রশ্নের জবাব দিতে পারতেন না। স্মৃতিশক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন আইনস্টাইন।

শুরু হয় স্মৃতিশক্তি বাড়ানাের আপ্রাণ চেষ্টা। মাত্র দু’বছরের চেষ্টায় স্মৃতিশক্তির অসাধারণ উন্নতি ঘটালেন। এর পরের ঘটনা সবারই জানা। তাঁর অক্লান্ত চেষ্টায় পরবর্তী ২০ বছরের মাথায় তিনি পদার্থবিজ্ঞানে লাভ করেন ননাবেল পুরস্কার। স্মৃতিশক্তি বাড়ানাের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন- ‘আমার ছােটবেলা ও বর্তমানের মাঝে তুলনা করলেই তুমি তা বুঝতে পারবে।’ উড্রো উইলসন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে নয় বছর বয়স পর্যন্ত বর্ণমালাই শিখে শেষ করতে পারেননি। পড়তে শেখায় লেগে গিয়েছিল আরও দুটি বছর। অথচ বড় হয়ে তিনি যে- কোন বক্তৃতা একবার শুনে তা হুবহু মনে রাখতে পারতেন। ফলে পূর্ববর্তী বক্তার বক্তব্য উল্লেখ করতে তাঁকে কোনাে অসুবিধায় পড়তে হতাে না। গুস্তাভ আইফেল প্যারিসের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারটির ছবি কে না দেখেছে? এই আইফেল টাওয়ারের যিনি স্রষ্টা সেই গুস্তাভ আইফেলও এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন ইমাম গাজ্জালি । প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম গাজ্জালির ছােটবেলায় স্মরণশক্তি একদম ছিল

আরো পড়ুন: পাপ থেকে আত্মরক্ষা

মনে না থাকার কারণে তিনি তাঁর প্রয়ােজনীয় কথা নােট করে রাখতেন। একদিনের এক ঘটনা- মরুভূমিতে গাজ্জালি ডাকাতের কবলে পড়েন। ডাকাত। দল তাঁর সর্বস্ব নিয়ে যায়। এমনকি তাঁর নােট খাতাটিও। তিনি তখন ডাকাত দলের কাছ থেকে তাঁর খাতাটি রক্ষার চেষ্টা করেন। গাজ্জালি ডাকাত দলের পেছনে পেছনে খাতার জন্য ছুটতে থাকেন এবং বলতে। থাকেন, আমার সকল জ্ঞান তােমরা নিয়ে যেও না।’ ডাকাত দলের সর্দার উত্তর পর, যে জ্ঞান ডাকাতে নিয়ে যেতে পারে সে জ্ঞান দিয়ে কী হবে? ইমাম। গাজ্জালি এরপর আর কোনাে দিন কোনাে কিছু খাতায় নােট করেননি। পরবর্তীকালে তিনি কৌশলে অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী হয়ে ওঠেন।

পরীক্ষা : এই বক্সটিতে এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষার নাম দেয়া থাকে, তুমি তার পরীক্ষা দিবে তাই দিয়ে এই ঘরটির বৃত্ত ভরাট করবে। বাল নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর : একজন পরীক্ষার্থীর জন্য এ ঘর দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবেশ পত্রে তােমার যে রােল নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর রয়েছে তা। প্রথমে ফাঁকা ঘরে লিখবে এবং পরে বৃত্তগুলাে বলপয়েন্ট দিয়ে পুরণ করবে। বােল ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৬ ডিজিট বসিয়ে তা পূরণ করবে। বিষয় ও কোড : যেদিন যে বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ের কোড (যেমন- বাংলা ১ম পত্রের বিষয় কোড- ১০১) লিখে বৃত্ত ভরাট করবে।

উত্তরপত্র বিষয়ক সতর্কতা পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদের উত্তর পত্র সরবরাহ করা হয়। এ সময় বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে প্রত্যবেক্ষকের (যিনি পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্ব পালন করেন) নিকট থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে হবে । কাটাছেড়া/ ময়লা/ ভাঁজপড়া/ সেলাইবিহীন/ ডবল সেলাই/ নম্বরবিহীন/ ডবল কভার/ বা পূর্বে ব্যবহৃত এমন না হয়। উত্তরপত্রে কোন প্রকার সমস্যা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে কোন কিছু লেখা বা বৃত্ত ভরাটের পূর্বেই তা প্রত্যবেক্ষককে জানাতে হবে এবং উত্তরপত্র পরিবর্তন করে নিতে হবে।। উত্তরপত্রের কোথাও আপত্তিকর লেখা, অসৌজন্যমূলক মন্তব্য বা অনুরােধ লেখা | যাবে না। উত্তরপত্রের অভ্যন্তরে কোন জায়গায় পরীক্ষার্থীর নাম, রােল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, মােবাইল/ টেলিফোন নম্বর, স্কুল বা কলেজের নাম, কেন্দ্রের নাম লেখা যাবে না।

লিখলে উত্তরপত্র বাতিল হতে পারে। মার্জিন দেয়ার নমুনা ও নিয়ম: লেখার সামঞ্জস্য ও প্রত্যেকটি লাইনের শুরু ও শেষের সমতা রক্ষা এবং উত্তরপত্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মার্জিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরীক্ষকের নম্বর লেখার জন্যও উত্তরপত্রে মার্জিন দেয়া প্রয়ােজন। তাই উত্তরপত্রের মার্জিন দেয়ার কথা ভুলে গেলে চলবে না। OMR শিট পূরণ করা হলে প্রশ্ন পাওয়ার পূর্ব সময় পর্যন্ত খাতায় মার্জিন আকতে হবে। মার্জিন দেয়ার সময় কলম নয়; পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে। উত্তরপত্রের উপর এবং বামপাশে কমপক্ষে ১ ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা রেখে মার্জিন দিতে হবে। প্রশ্নের নম্বর লেখার নমুনা এবং নিয়ম: প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর লেখা শুরুর আগে প্রশ্নানুসারে তার নম্বর সুন্দর এবং | স্পষ্ট হস্তাক্ষরে মার্জিন হতে পৃষ্ঠার মধ্যবর্তী জায়গায় লিখতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.