December 6, 2021
study-banglabbcnews.com

পরীক্ষার খাতা কেমন হওয়া উচিত?

Read Time:8 Minute, 43 Second

পরীক্ষার খাতা

১। কভার পৃষ্ঠার তথ্য পূরণঃ– পরীক্ষার্থীর তথ্যপূরণ করা প্রথম কাজ। রােল, রেজিস্টেশন, বিষয় কোড, কেন্দ্রের নাম প্রভৃতি তথ্য অবশ্যই পুরণ করে বৃত্ত। ভরাট করতে হবে। মনে রাখবে, এসব তথ্য ভুল হলে তােমার রেজাল্ট স্থগিত। হয়ে যাবে। অবশ্যই এক্ষেত্রে কালাে বলপেন ব্যবহার করবে। কোন ভুল ত্রুটি হলে পরিদর্শককে অবগত করবে।

২। মার্জিন রাখাঃ– প্রতিটি পৃষ্ঠার উপরে ও বামদিকে এ ইঞ্চি জায়গা বাদ দিয়ে। মার্জিন করবে। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার আগেই কাজটি সেরে নিবে। বামদিকে এক ইঞ্চি জায়গা পরীক্ষকের জন্য বরাদ্দ। এখানে পরীক্ষক উত্তর মূল্যায়ন পর্বত। নম্বর বসিয়ে থাকে, কাজেই এখানে কিছু লিখবে না। খাতায় মার্জিন করা ভাল। ছাত্রের লক্ষণ।

৩। রঙিন কলমের ব্যবহারঃ– পরীক্ষার খাতায় রঙিন কলম ব্যবহার না করাই। উত্তম। কারণ অনেক পরীক্ষক রঙিন কলমের ব্যবহার পছন্দ করে না। তুমি যদি রঙিন কালি ব্যবহার করতে চাও, তবে লাল কালির ব্যবহার একেবারই নিষেধ । যেহেতু তুমি কালাে কালি দিয়ে প্রশ্নোত্তর লিখছ, সেহেতু কালাে কালি দিয়ে।তার সব কাজ করবে।

৪। পৃষ্ঠায় নম্বর বসানােঃ– পৃষ্ঠায় নম্বর বসানাে কাজটি প্রশ্ন দেয়ার পূর্বেই সেরে। নিতে হবে। প্রতিটি পৃষ্ঠার উপর এক কোনায় ছােট করে খাতার পৃষ্ঠায় নম্বর লিখবে। অতিরিক্ত উত্তরপত্র নিলেও পৃষ্ঠায় নম্বর বসানাের চেষ্টা করবে। এতে পরীক্ষকের খাতা দেখতে সুবিধা হয়। পরীক্ষা শেষে অতিরিক্ত খাতা পিনআপ করতেও সময় কম লাগে।

আরো পড়ুন: পাপ থেকে আত্মরক্ষা

৫। ওভার রাইটিংঃ– ওভার রাইটিং খারাপ। পরীক্ষার্থীর কোনাে শব্দ বা বাক্য ভুল হলে একটানে কেটে ওপরে বা ডানপাশে সঠিক কথাটি লিখবে। ওভার রাইটিং করলে শব্দ পড়া যায় না, এতে পরীক্ষক বিরক্ত হন। তাঁর মধ্যে কম নম্বর দেয়ার মানসিকতা সৃষ্টি হয়।

৬। দু’লাইনের মাঝে ফাকঃ– অনেকেই দু’লাইনের মাঝে ফাঁক রাখে বেশি। দেখা গেছে এক লাইনে শব্দ লিখে পাঁচটি, প্রতি পৃষ্ঠায় ৭/৮ লাইনে লিখে। পরীক্ষক এ ধরনের পরীক্ষার্থীকে অতি চালাক মনে করে। তারা পরীক্ষার খাতা ভারী করে, কিন্তু নম্বর কম পায়। এ ধরনের চালাকি করা থেকে বিরত থাকবে। লাইন। অবশ্যই সােজা রাখবে।

৭। পয়েন্টের ক্রমিক নং ও আন্ডার লাইনঃ– বেশ কিছু উত্তর থাকে পয়েন্ট ভিত্তিক। এ ধরনের উত্তরে পয়েন্টে ক্রমিক নম্বর বসাবে এবং প্রতিটি পয়েন্টের নিচে আণ্ডার লাইন করবে। এ কাজটি করলে পরীক্ষক ধরে নেয় এটি একটি ভাল ছাত্রের খাতা। এতে বেশি নম্বর দেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।

৮। প্রশ্নের ক্রমিক নম্বরঃ– অনেকেই প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর দিতে গিয়ে উল্টা পাল্টা! করে ফেলে। ৭নং এর জায়গায় ৯ নং, আবার ৯নং এর পরিবর্তে ৭নং লিখে ফেলে। এধরনের ভুল করলে পরীক্ষক বিরক্ত হন। তাই ঠান্ডা মাথায় প্রশ্নোত্তরের সঠিক ক্রমিক নম্বর লিখবে।

৯। ঠিকানা বা মন্তব্য লেখাঃ– পরীক্ষার খাতায় নিজের ঠিকানা বা কোনাে মন্তব্য লেখা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ কেউ লিখে দেয় স্যার আমাকে পাশ করিয়ে দবেন। ঠিকানা মন্তব্য লেখার কারণে খাতাটি বাতিল করার নিয়ম পর্যন্ত আছে। কাজেই এ ধরনের ভুল কখনাে করবে না।

১০। উত্তরপত্র পড়ার উপযােগী হওয়াঃ– হাতের লেখা সুন্দর হতে হবে, এমন। কোনাে বিধান নেই। তবে লেখা অবশ্যই স্পষ্ট ও পড়ার উপযােগী হতে হবে । পরীক্ষক যদি প্রশ্নোত্তর পড়তেই না পারেন, তাহলে নম্বর দিবেন কীভাবে? তাই। উত্তর যতটুকু লিখবে, ততটুকু যেন পরীক্ষক বুঝতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে। হবে। মনে রাখবে, ভাল নােট লিখেও এ সমস্যার কারণে নম্বর কম পায় ।

১১। বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষার ব্যবহারঃ– অনেক পরীক্ষার্থী আছে পরীক্ষার। খাতায় বেশি নম্বর পাওয়ার আশায় বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষাই ব্যবহার করে থাকে, বিশেষ করে লেখকের সংজ্ঞা দেয়ার সময় এ কাজটি করে থাকে। এ জন্য কোনাে অতিরিক্ত নম্বর পাওয়া যায় না। অথচ সময় নষ্ট হয়। এজন্যে যেকোন এক ভাষায় উত্তর দেয়াই শ্রেয়।

১২। খাতায় খালি পৃষ্ঠাঃ– কোনাে কোনাে পরীক্ষার্থী ভুলে এক পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে অন্য পৃষ্ঠায় চলে যায়। এক্ষেত্রে করণীয় হল খালি পৃষ্ঠায় ক্রসচিহ্ন দেয়া অথবা ঐ পৃষ্ঠায় পরিদর্শকের স্বাক্ষর নেয়া। একেবারে পৃষ্ঠা খালি রাখা ঠিক নয়। এজন্য পরীক্ষকের মনে নানা সন্দেহ, খারাপ ধারণা তৈরি হতে পারে।

১৩। অবান্তর উত্তর লেখাঃ– প্রশ্নোত্তর বানিয়ে লেখার প্রবণতা অনেকেরই আছে। বানিয়ে লেখা উত্তর যদি প্রশ্নের সাথে না মিলে, তখন পরীক্ষক বিরক্ত হন। এটি বিশেষ করে প্রশ্ন কমন না পড়লে পরীক্ষার্থীরা করে থাকে। আবার অনেকে আছে। উত্তর বড় করার জন্য উত্তরের সাথে অতিরিক্ত কিছু লিখে থাকে। অবান্তর লেখার জন্য পরীক্ষকের নম্বর দেয়ার মানসিকতা কমে যায়।

আরো পড়ুন: পাপ থেকে আত্মরক্ষা

১৪। প্রশ্নের ধারাবাহিকতা রক্ষাঃ– পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা উচিত। যেমন-৪ নং দিয়ে ২নং আবার ৭নং লিখে ৩নং। এভাবে উল্টা পাল্টা উত্তর লিখলে প্রশ্নের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। এতে পরীক্ষক বিরক্ত হন। ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নোত্তর লেখা একজন ভাল শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য। উল্লেখিত নিয়মগুলাে যথাযথভাবে মেনে চলতে পারলে পরীক্ষকের নিকট ভাল খাতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তিনি ধরে নেবেন খাতাটি একজন মেধাবী।

১৫। লেখার ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম নেয়াঃ- লেখা শুরু করলে প্রথম দিকে হাতের লেখা সুন্দর হয়। কিন্তু এক টানা লিখলে সৌন্দর্য রক্ষা করা যায় না। এ জনত। লেখার ফাঁকে ফাঁকে বিরতি দিতে হবে। বিরতি দিয়ে আবার লেখা শুরু করলে। সৌন্দর্য বজায় থাকবে।

১৬। চিত্র আঁকতে শেখাঃ- হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য শিশুদের প্রথমে চিত্র। আঁকতে শিখতে হবে। পরে অক্ষরগুলােকেও আকার ছলে লেখা যাবে। তখন হাতের লেখা সুন্দর করার পথ সুগম হয়। ১০। পূর্বের লেখা সাথে মিলিয়ে দেখাঃ- কিছুদিন পরপর পূর্বের লেখার সাথে বর্তমান লেখার তুলনা করতে হবে। তাহলে লেখার মান বাড়ানাের জন্য সতর্ক হতে পারবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

banglabbcnews.com Previous post গােল্ডেন A+ পাওয়ার সূত্র
banglabbcnews.com Next post বিশ্বের সেরা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযােগ