January 29, 2022
self- bangla bbc news

পাপ থেকে আত্মরক্ষা

Read Time:7 Minute, 32 Second

এক বুজুর্গ

আমি বসরাতে এক যুবকের সাক্ষাত পেলাম। তাকে সকলে মেশকী বলত। কারণ, তার দেহ থেকে সব সময় মেশকে আম্বরের সুগন্ধি বের হত। এমন কি সে জামে মসজিদে প্রবেশ করলে লােকেরা বুঝতে পারত, সেই যুবক মসজিদে প্রবেশ করেছে। এমনিভাবে সে বাজারে প্রবেশ করলেও তার দেহ থেকে বিচ্ছুরিত সুগন্ধি দ্বারা মানুষ তার উপস্থিতি টের পেত । তার সাথে দেখা হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, ভাই তুমি সর্বদা যে সুগন্ধি ব্যবহার কর তা ক্রয় করতে নিশ্চয়ই তােমার অনেক টাকা লাগে । জবাবে সে বললাে- ভাই আমি কোনাে দিন সুগন্ধি ক্রয় করেনি এবং তা ব্যবহারও করিনি ।

অতঃপর সে ঐ সুগন্ধির রহস্যের বিবরণ দিয়ে বললােআমি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার পিতা ছিল বাগদাদের একজন সম্পদশালী লােক । শৈশব থেকে আমার পিতা আমাকে বিত্তবান সন্তানদের মত শিক্ষা ও তালিমের ব্যবস্থা করলেন। এতটুকু বয়সেই আমি অত্যন্ত লাজুক ছিলাম । আর শৈশব হতেই আমার দৈহিক সৌন্দর্য ছিল অপরূপ। লােকেরা আমার পিতাকে পরার্মশ দিল যে, আপনি আপনার ছেলেকে মাঝে মধ্যে বাজারে নিয়ে বসিয়ে রাখবেন। ফলে হতে পারে তার স্বভাবের। জড়তা কেটে মানুষের সাথে মিশবার অভ্যাস গড়ে উঠবে। অতঃপর এক কাপড় ব্যবসায়ীর দোকানে নিয়ে আমাকে বসিয়ে দেয়।

আমি সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সেই দোকানে বসে থাকি। এক দিন এক বৃদ্ধ ক্রেতা আসল এবং আমার কাছে মােটা কাপড় চাইল । দোকানদার কাপড়ের থান নামিয়ে দিল ক্রেতা বললাে, আমার সাথে একজন লােক দিয়ে দাও, যাতে পরিমাণ মত কাপড় রাখার পড় তার মূল্য এবং অবশিষ্ট কাপড় সে ফিরত নিয়ে আসতে পারে। দোকানদার ক্রেতার সাথে আমাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বৃদ্ধা আমাকে এক বিলাসবহুল প্রসাদে নিয়ে যায়। প্রাসাদের ভিতরে ছিল এক সুদৃশ্য গম্বুজ। তার পর্দার ভিতরে দরজায় এক প্রহরী দাঁড়িয়ে ছিল । বৃদ্ধা আমাকে সেই দরজার সামনে নিয়ে বললাে- তুমি ভিতরে গিয়ে বস।

আরো পড়ুন: কলেজ ছাত্রীর পরিবর্তন (পর্ব-১)

আমি তার কথা মত ভিতরে প্রবেশ করি এবং সেখানে দেখতে পাই সিংহাসনের উপর এক অপরূপ সুন্দরী যুবতী বসে আছে। তার দেহে মূল্যবান পােষাক ও অলংকার যেন তার সৌন্দর্যকে আরাে আকর্ষণ করে। তুলছে। সিংহাসনের সামনে বিছানার মধ্যে ছিল রূচিসম্মত মূল্যবান কাপেট। এমন সুন্দর কাপেট আমি ইতিপূর্বে আর কখনাে দেখিনি। আমাকে দেখামাত্র মেয়েটি সিংহাসন থেকে নেমে এসে আমার বক্ষে হাত। রাখল। চোখে মুখে তার তীব্র যৌন আবেদন আর রাঙ্গা অধরে লালসার

স্পন্দন। কিছুক্ষণ এভাবে আমাকে দেখার পর, সে কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারল না। অস্থির যৌন কামনায় আমাকে আব্বান করল । আমি তাকে বাধা দিয়ে বলি, আল্লাহকে ভয় কর! তিনি আমাদের সকল। আচরণ দেখছেন। কিন্তু সে আমাকে পাল্টা উত্তর দিল, ভয়ের কোনাে কারণ নেই। তুমি আমাকে তৃপ্ত কর, বিনিময়ে তুমি যা চাইবে তা তােমাকে দেয়া হবে, তবুও আমাকে নৈরাশ কর না । যুবক মনে মনে ভাবল, সে এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়েছে। এখানে জোর দেখালে কোনাে কাজ হবে না । আত্নরক্ষার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে হবে। অতঃপর সে জোরে মুখে হাসি ফুটিয়ে মেয়েটিকে বললাে- আগে আমাকে ইস্তেঞ্জা হতে ফারেগ হওয়ার সময় দাও।

মেয়েটি আওয়াজ দেয়ার সাথে সাথে কয়েকজন দাসী ছুটে আসল । সে তাদেরকে বললাে, এই যুবককে সম্মানে ইস্তেঞ্জায় নিয়া যাও। বর্ণনাকারী বলেন, পরে সে বাইতুল খালায় ঢুকে মুক্তির উপায় খুজঁতে লাগল । কিন্তু চতুর্দিকে তাকিয়ে দেখল পালানাের কোনাে পথ নেই। অবশেষে সে এক কাণ্ড করে বসল । দুই হাতের উপর মল ত্যাগ করে তা মাথা, মুখ ও সারা শরীরে মেখে বের হয়ে আসল । বাহিরে এক দাসী পানি। ও তয়ালা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল । সে এই অবস্থা দেখে ঘৃণা ও আশংকায় চিল্কার করতে করতে বাড়ির ভিতরে ছুটে গিয়ে সকলকে বললােতােমারা এতক্ষণ যে যুবকটিকে বর সাজিয়ে আয়ােজন করছিলে ।

সে কিন্তু আসলে একজন বদ্ধ পাগল । দাসীর কথা শুনে সকলে সেদিকে ছুটে এসে যা দেখল, তা অপর কারাে নিকট প্রকাশ করতে রুচি হল না। পরে তারা। সকলে মিলে যুবককে কোনােক্রমে একটি ছালার চটে জড়িয়ে জঙলে নিয়ে ফেলে আসল । যুবক এই সুযােগের অপেক্ষা করছিল । যখন সে টের পেল যে, সকলে চলে গেছে, তখন সে ছালার চট থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী এক জলাশয়ে গিয়ে হাত মুখ ও সমস্ত দেহ পরিষ্কার করে বাড়িতে ফিরে আসল । কিন্তু সে ঘটনা অপর কারাে নিকটে প্রকাশ করল না। পরবর্তী রাতে যুবক স্বপ্নে দেখল, এক ব্যক্তি বলতেছেন পাপের হাত হতে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে তােমার এ আচরণ হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনাকে যেন স্বরণ করে দিচ্ছে। তুমি কী আমাকে চিনতে পারছ? যুবক বললাে, না ।

আরো পড়ুন: বােরকার নিন্দা করবাে না

সে বললাে- আমি জিবরাইল (আ.)! তখন জিবরাইল নিজের হাত তার মুখ ও শরীরে মুছে দিলেন। ঐ ঘটনার পর থেকে তার দেহ থেকে সুগন্ধি বের হতে লাগল । হৃদয়ের আহ্বান : এই যুবকের ঘটনার দ্বারা বুঝা গেল যে ধর্যের সীমানা অপরিসীম এবং তার ফলাফলও সুমধুর । সুতরাং প্রত্যেক যুবকদের উচিত নিজের নফসের হেফাজত করা। নফসের চাহিদা পূরণ করার নামই জীবনের আনন্দ নয়, বরং নফসের চহিদাকে তিরস্কার করার নামই জীবনের আনন্দ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এসব গুনাহ থেকে হেফাজত করুক। আমিন!

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

couple relation -bangla bbc news Previous post স্বামীর ভালবাসা
islamic girl- bangla bbc news Next post আমি মুসলিম নারী