প্রতিভা আমাদের সবার মধ্যে আছে

Bangla Bbc News

প্রিয় শিক্ষার্থী, তুমিও পারবে

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ হলাে আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষ নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে এক মাত্র ব্রেইনকে কাজে লাগিয়ে। ব্রেইনকে কম্পিউটারের সাথে তুলনা করা হলেও একটি আধুনিক কম্পিউটার যেখানে ১০০ বিলিয়ন বিট তথ্য জমা ও মনে করতে পারে, সেখানে ব্রেইনের ক্ষমতা অসীম। মানুষের ব্রেইন সবচেয়ে আধুনিক কম্পিউটারের চেয়ে কম পক্ষে ১০ লক্ষ গুন বেশি শক্তিশালী। তাহলে তােমার ব্রেইনের মূল্য কম পক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা। মস্তিষ্কের মাত্র একটি বিষয় যদি তুমি দেখ তাহলে এর বিশাল কর্ম ক্ষমতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে কিছুটা ধারনা করতে পারবে। মস্তিষ্কের ১০০ বিলিয়ন নিউরন সেলের প্রতিটি নিউরন ১০০০ থেকে ৫ লক্ষ নিউরনের সাথে সংযুক্ত। প্রতি মুহূর্তে কমপক্ষে ১০০ ট্রিলিয়ন সেলের যােগাযােগ ঘটেছে মস্তিষ্কে। প্রতিটি নিউরন মস্তিষ্কের যে কোন নিউরনের সাথে সংযােগ স্থাপনে সক্ষম।

কতগুলি সংযােগ সম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রে মেডিটেশন সংক্রান্ত গবেষণার অঙ্গপ্রতীক হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের প্রফেসর ডা. হার্বাট বেনসন খুব চমৎকারভাবে বলেছেন সংখ্যাটি হবে ২৫ এর পর ৩০টি শূন্য। অর্থাৎ ২৫,০০০০০০০০০০০০০০০ ০০০০০০০০০০০০০০০ এটাকে তুমি অন্য ভাবে দেখতে পার। তুমি তােমার। টেবিলের উপর একটার পর একটা সাধারণ সাইজের টাইপ করার কাগজ রাখ। রাখতে থাক এটা উচু হতে থাকবে। তুমি যদি তােমার মস্তিষ্কের সম্ভাব্য নিউরন সংযােগ সংখ্যার সম সংখ্যক কাগজ রাখতে চাও তাহলে কাগজের ঢিবি উচু হতে হতে চঁাদ পার হয়ে সৌর জগৎ পার হয়ে গ্যালাক্সি পার হয়ে যাবে। এমনকি আমাদের জানা মহা বিশ্বের সীমানা- ১৬ বিলিয়ন আলােক বর্ষ পার হয়ে যাবে । তারপরও কাগজ রয়ে যাবে। এতে বুঝা যায় আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা অসীম। মিস্তষ্কে মেধা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। গবেষণায় দেখা যায় যে, জন্মের সময় দিয়ে। দেয়া হয়েছে এমন কোন গােল্ডেন জিন আমাদের নেই।

বিশেষ মেধা প্রকৃতিগত নয় বরং মেধা হচ্ছে অদম্য ইচ্ছা আর প্রাণান্তকর প্রয়াসের ফসল। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন, অদম্য সাহস আর নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে যে কেউ সফল, খ্যাতিমান ও জিনিয়াস হিসেবে খ্যাত হতে পারে। প্রতিভা বলে অনেক। মানুষ অসাধারণ কাজ করেন। কিন্তু বহু বছরের সহিষ্ণু সাধনার কাছে প্রতিভার কোন মূল্য নেই। কাজ কর , ধীর শান্ত হয়ে তুমি তােমার কর্তব্য করে যাও।প্রতিভা তােমাকে দেখে সঙ্কোচ বােধ করবে। নিউটন বলেছেন, আবিষ্কারের কারণ আমার প্রতিভা নয়। বহু বছরের পরিশ্রম ও নিরবচিচ, ফলেই আমি আমাকে সার্থক করেছি, যা যখন আমার মনের সামনে তারই মীমাংসায় আমি ব্যস্ত থাকতাম। অস্পষ্টতা হতে ধীরে ধীরে মধ্যে উপস্থিত হয়েছি।” প্রিয় শিক্ষার্থী ,তুমি অনন্য মানুষ।

নিজের না বিশ্বাস কর । বিশ্বাস কর জীবনে প্রথম হওয়ার জন্যে, নিজের মেধাত. ধারায় বিকশিত করার জন্যে, মহান কিছু করার জন্যে, অনন্য মানুষে রূপা হওয়ার জন্যই তুমি পৃথিবীতে এসেছ। তুমি কঠিন সংগ্রামে জয়ী হয়েই পথিবীতে এসেছ। লক্ষ্য কর, এমন একটি প্রতিযােগিতা যাতে ৪০ থেকে ৫০ কে= প্রতিযােগী অংশ নিচ্ছে। লক্ষ্য একটি বৃত্তের মধ্যে পৌঁছা। সেখানে একজনের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সেখানে যে পৌঁছতে পারবে সেই বেঁচে থাকবে। আর বাকি সবাই মারা যাবে। প্রতি নিয়ত রাসায়নিক অস্ত্র বর্ষিত হচ্ছে । লক্ষ লক্ষ প্রতিযােগী মুহূর্তে মারা যাচ্ছে । কিন্তু একজন প্রতিযােগী সকল বিপদ অগ্রাহ্য করে সেই বৃত্তে প্রবেশ করল। আর সময়ের বিবর্তনে মানুষ রূপে আবির্ভূত হলাে এই পৃথিবীতে ।

মাতৃ গর্ভে একটি ডিম্বানাের সাথে মিলিত হওয়ার জন্যে পিতার দেহ হতে যে ৪০ থেকে ৫০ কোটি শুক্রানাে যাত্রা করেছিল। তুমি হচ্ছ সেই শুক্রানাের বিকশিত রূপ যে ডিম্বানাের সাথে মিলিত হতে পেরেছিলে । ৪০/৫০ কোটির সাথে প্রতিযােগিতায় জয়ী হয়েছিলে বলেই তুমি পৃথিবীতে আসতে পেরেছিলে। তাই তুমি এক বিজয়ী বীর । জীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার আত্মবিশ্বাস। আর এই আত্মবিশ্বাস ইচ্ছা করলেই বাড়ানাে যায় । আত্মবিশ্বাস হলাে অনেকটা মহত্বের মতাে। কিছু কিছু লােক আছেন যারা মহৎ হয়েই জন্মান আবার কিছু লােককে মহতু অর্জন করতে হয়। তেমনি কিছু মানুষ আত্মবিশ্বাস নিয়ে জন্মান, আবার কিছু লােককে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হয়। সাফল্য তারাই অর্জন করে যারা এগিয়ে এসে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোন কাজে হাত দেয়। সুতরাং প্রিয় শিক্ষার্থী, তুমি বিশ্বাস কর তুমি পারবেই ।

আরো পড়ুন:  বিশ্বের সেরা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযােগ

 

আত্মবিশ্বাস ও সাফল্য

 

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। যার * আত্মবিশ্বাস যত বেশি সে তত বেশি সফল। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় । বছর ধরে দৌড়বিদরা ৪ মিনিটে ১ মাইল দৌড়ানাের চেষ্টা চালিয়ে সিদ্ধা ছিলেন যে, এটা অসম্ভব। দৈহিক গঠনের কারণেই তা মানুষের পক্ষে সম্ভ মানুষের হাড়ের কাঠামাে ও ফুসফুসের গঠন দুটোই এ সাফল্যের পথে অ বলে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। দু’হাজার বছর পার হয়ে গেল এ তার পরই এলাে এক শুভ দিন।

একজন প্রমাণ করলেন যে এ ধারণা ভুল। তারপর ঘটলাে আরও অলৌকিক ঘটনা। রজার ব্যানিস্টার প্রথম ৪ মিনিটে এক মাইল দৌড়ে রেকর্ড স্থাপন করার পর ৬ সপ্তাহের মধ্যেই জন ল্যান্ডি ২ সেকেন্ডের ব্যবধানে ব্যানিস্টারের রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন। মানুষ যখন বিশ্বাস করল যে পারা যায় তখন রেকর্ড ভাঙ্গার হিড়িক পড়ে যায়। আত্মবিশ্বাস হল এমন এক বস্তু যা। প্রত্যেকের মধ্যেই আছে। কারও ভেতর সুপ্ত অবস্থায় আছে, আবার কারও মধ্যে। তা টগবগ করে ফুটছে।

বিশ্বাসের একটি বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি আধুনিক নিয়মে পড়াশুনা বই থেকে‘বিশ্বাস কর, তােমাকে দিয়ে কিছু হবে না। তাহলে সত্যি তােমাকে দিয়ে কিছু। হবে না। তােমার বাসার সবাই জানে তােমার ব্রেইন ভাল না। তুমি ছােটবেলা থেকেই এমন দেখে এসেছ।’

তুমি কি জান, বিশ্বাস একটা মজার ব্যাপার। তােমাকে নিউরােকানেকশনের কথা বলছি। সেটাই তৈরি করে বিশ্বাস। ধীরে ধীরে তা পূর্ণতা লাভ করে আর তােমার মাঝে জেঁকে বসে। ধর, ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময় তুমি অংকে কম নম্বর পেয়েছ। তােমার টিচার বললেন, তুমি তাে অংকে ভাল না। তােমার প্রথম নিউরােকানেকশন তৈরি হলাে। বাসায় রেজাল্ট দেখার পর বাবা বললেন, “ধুর! তুই তাে অংকে গােল্লা। তােমার এ কানেকশন সমৃদ্ধ হলাে। মা বললেন, ‘আমিও অংকে খুব একটা ভাল ছিলাম না। এ থেকে তােমার বিশ্বাস জন্মালাে। তােমার পক্ষে অংকে ভাল করা সম্ভব নয়। কারণ এটা তােমার জন্মসূত্রে পাওয়া । এরপর যখনই অংক করতে যাও, তােমার মাঝে বিতৃষ্ণা আর ভয় কাজ করে। তুমি সহজ অংক ভুল করে বস।

আরো পড়ুন: পাপ থেকে আত্মরক্ষা

কঠিনগুলাে এড়িয়ে যাও। আরেকটু বড় হলে এমন বিষয় নিয়ে পড় যাতে অংক করতে না হয়। মজার বিষয় হলাে, তােমার এ বিশ্বাস হাওয়া থেকে আসেনি। তােমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজই তােমার মাঝে এ বিশ্বাস তৈরি করে দিয়েছে। এর বাস্তব একটি ঘটনা উল্লেখ করছিএডাম সিংগাপুরের একজন মাল্টিমিলিওনিয়ার। তিনি মাত্র ২৬ বছর বয়সে পৃথিবীর শীর্ষ দশ বক্তার মধ্যে চলে আসেন। তুমি যদি ভাব, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মত বক্তা আর কে আছে! বক্তৃতা দেওয়া এমন কী ব্যাপার! তা হলে শােন, এডাম তার প্রতি ১ ঘণ্টার বক্তৃতায় পান ৫০ হাজার ডলার। তার লেখা বই, ‘I am gifted, So are you.’ থেকে আমি ঘটনাটা বলছি। এডাম। স্কুলে থাকাকালীন অংকে খারাপ ছিলেন। তার দৃঢ়বিশ্বাস ছিল এ জীবনে আর। অংকে ভাল করা সম্ভব নয়। এমন সময়, তিনি স্কুল থেকে একটি ‘Self learning Tour’- এ যােগ দেন। সেখানে তাকে বলা হয়, তুমি চেষ্টা করলেই যে কোন বিশ্বাস ভাঙতে পারবে এবং তৈরিও করতে পারবে। তাই সবার উচিত, ক্ষতিকর বিশ্বাস মন থেকে মুছে ফেলা আর লাভজনক বিশ্বাস গড়ে ভােলা।

এডাম ঠিক করলেন, আমি অংকে ভাল না এ বিশ্বাস ভাঙতে তখন তিনি সবেমাত্র কলেজে ঢুকেছেন। প্রথম ক্লাস শুরুর আগেই তা কিনে প্রথম চ্যাপ্টারটা বাসায় পড়ে প্রতি নিয়মের একটা করে অংক । নতুন জায়গায়, অপরিচিত পরিবেশে তার অংক ক্লাস শুরু হলাে। ৪ পরেই, সবার মনােযােগ নানা দিকে চলে গেল। কিন্তু, এডাম মনে ছিলেন। ক্লাস শেষ হতে ১৫ মিনিট বাকি। এমন সময় স্যার বললেন, এক তােমাদের যে নিয়মটা শেখালাম তার একটা অংক বাের্ডে লিখে দিয়েছি। করতে পারবে হাত তােল?’ অংকগুলাে আগে করা থাকায় এডাম আরও ভয় বুঝতে পেরেছিলেন আর তাই দেখা গেল ক্লাসে মাত্র একজন হাত তুলেছেন।

হলাে এডাম। তারপর বাের্ডে গিয়ে অংকটা করার সাথে সাথে পুরাে ক্লাসে হাততালি। সবাই বিস্মিত। প্রথম দিনই তার নাম হয়ে গেল Math genius এ হাততালি আর বন্ধুদের মুগ্ধদৃষ্টি পাওয়ার জন্যে তিনি প্রত্যেক ক্লাসের আগেই অংক করে ফেলতেন আর ক্লাসে নিয়মিত বাের্ডে অংক করতেন। তাঁর টিচাররাও তার পারফর্মেন্সে বিস্মিত হয়ে বলে ফেললেন, “তুমি আসলেই একজন Math genius। এখন যত কঠিন অংকই হােক, বন্ধুরা এডামের কাছে চলে আসে। কারণ, এডাম তা পারবেই। তা হলে, নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ তুমি যা বিশ্বাস কর তা একটা কাল্পনিক ব্যাপার। তােমার কল্পনাকে যদি বদলাতে পার তা হলে তুমিও হয়ে যেতে পার একজন রােলমডেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *