ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস

ফেসবুক মার্কেটিং

একটা পােস্ট দেয়ার পর কিছু প্রশ্ন এলাে যে, ফেসবুক মার্কেটিংটা আসলে কী? ভাবি নাই এত বেসিক লেভেলের প্রশ্ন আসবে, তবে ভাবা উচিত ছিলাে আমার। কারণ বেশিরভাগই নতুন আর ফেসবুক মার্কেটিং কী সেটা জানে না এরকমই চিন্তা করতে হবে।

ফেসবুক মার্কেটিং কী? সহজ করে যদি বলি তাহলে তুলনা দিবাে নরমাল মার্কেটিংয়ের সাথে। তাহলে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে। বিভিন্ন জায়গায় আপনারা পােস্টার দেখেন, লিফলেট বিলি করতে দেখেন, বিভিন্ন প্রােডাক্ট অথবা সার্ভিসের উপর মাইকিং হয়, বিভিন্ন অফিসে অন্য অফিস থেকে কেউ এসে তাদের সার্ভিস অথবা প্রােডাক্ট অফার করে ইত্যাদি। এগুলাে সবই তাে মার্কেটিং অথবা প্রচার নিজের কোম্পানির। কিন্তু এগুলােকে আমরা বলছি অফলাইন মার্কেটিং, যেটা সরাসরি একজন মানুষ দেখছে।

এখন সেটাই যদি এমনভাবে করা যায় যেটা মানুষ আরাে সহজে দেখবে অথবা জানবে তাহলে কেমন হয়? এখান থেকেই শুরু হয়ে গেলাে অনলাইন মার্কেটিংয়ের কাজ; ফেসবুক মার্কেটিংয়ের কাজ। পােস্টার লাগাতে আপনার যে পরিমাণ টাকা, শ্রম ইত্যাদি খরচ হচ্ছে সেটার থেকে অনেক কম টাকায়, অনেক কম কষ্টে আপনি ফেসবুকে সেটা করতে পারছেন। ৫০০০ টাকা দিয়ে পােস্টার লাগিয়ে আপনি যতজন মানুষকে আপনার অ্যাড দেখাতে পারছেন সেই একই পরিমাণ টাকা খরচ করে ফেসবুকে অ্যাড দিলে তার থেকে অনেক বেশি মানুষ দেখতে পারছে।

আমরা মূলত মার্কেটিং করি এমন জায়গায় যেখানে মানুষের যাতায়াত বেশি থাকে তাই নয় কি? একদম নির্জন একটা জায়গায় ১০টা পােস্টার লাগালে খুব লাভ হবে কি? তাই দেখবেন পােস্টার, লিফলেট ইত্যাদি এমন জায়গায় লাগানাে হয় অথবা দেয়া হয় যেখানে মানুষ অনেক থাকে। এখন আপনি অনলাইনের কথা চিন্তা করুন। ফেসবুকের কথা চিন্তা করুন। কোথায় আপনি বেশি মানুষ পাবেন একটা রাস্তার মােড়ে নাকি ফেসবুকে। একটা রাস্তার মােড়ে কি আপনার পছন্দমতাে বয়সের, দেশের, এলাকার মানুষ পাবেন? মনে হয় না পাবেন, কিন্তু ফেসবুকে পাবেন। আমার মনে হয় আর কিছু বলার দরকার নেই ফেসবুক মার্কেটিং এবং এর প্রয়ােজনীয়তা সম্পর্কে।

ফেসবুক মার্কেটিং প্রকারভেদ

১. অরগানিক মার্কেটিং
২. পেইড মার্কেটিং

অরগানিক মার্কেটিং : অরগানিক মার্কেটিং অথবা ফ্রি মার্কেটিং, চিন্তা করুন আপনি যখন কোনাে পােস্ট আপনার নিজের টাইমলাইনে পােস্ট করেন সেখানে লাইক পড়ে, কমেন্ট পড়ে, শেয়ার হয় সেখানে কি আপনাকে টাকা দিয়ে অ্যাড দিতে হয়? না সেখানে টাকা লাগছে না। এটাকে আমরা বলছি অরগানিক মার্কেটিং। আপনি যখন একটা পােস্ট আপনার ফেসবুকের পেজে অথবা গ্রুপে দিলেন সেই পেজের ফ্যান অথবা গ্রুপের অনেক মেম্বাররা এমনিতেই আপনার পােস্ট দেখবে, লাইক দিবে, কমেন্ট করবে, শেয়ার। করবে এভাবে আপনার পােস্ট রিচড হবে।

পেইড মার্কেটিং : এখন কথা হচ্ছে যদি অরগানিক মার্কেটিং দিয়েই সবাই দেখে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে তাহলে পেইড মার্কেটিং করার কী দরকার? দরকার দুই জায়গায় একটা হচ্ছে আপনি যখন একটা পােস্ট পেজে অথবা গ্রুপে দিচ্ছেন এমন না কিন্তু যে সেই পেজের সবাই আপনার পােস্ট দেখছে। ৮-৯ % ফ্যান অথবা মেম্বার হয়তাে আপনার পােস্টটা দেখতে পাবে। আরেকটা কারণ পেইড মার্কেটিংয়ের সেটা হচ্ছে আপনার পেজের ফ্যান অথবা গ্রুপের মেম্বার অনেক কম থাকতে পারে সেক্ষেত্রে আপনি যদি পেইড মার্কেটিং না করেন তাহলে কীভাবে মানুষ দেখবে আপনার পােস্টঃ তাই পেইড মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব সব থেকে বেশি। ফেসবুকও এটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। যেমন- আপনি আপনার প্রয়ােজন অনুযায়ী বয়স, ছেলে নাকি মেয়ে, অবস্থান, ইন্টারেস্ট ইত্যাদি সেট করে ফেসবুকে অ্যাড দিতে পারবেন।
-আপনি কোন কোন দেশে আপনার অ্যাড পৌছাতে পারবেন সেটার সুবিধাও এখানে আছে।
-আপনার প্রােডাক্ট অথবা সার্ভিস অনুযায়ী ফেসবুকের বড় বড় পেজকে টার্গেট করা যাবে তাতে শুধু সেইসব পেজের ফ্যানদের কাছে আপনার অ্যাড যাবে।

আপনার ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে পিক্সেলের সিস্টেম করে রাখলে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিটররা নিয়মিত আপনার ফেসবুকের অ্যাড তাদের টাইমলাইনে দেখতে পাবে।

বুঝতেই পারছেন পেইড মার্কেটিংয়ের কত সুবিধা, সাথে অরগানিক মার্কেটিংও করে যেতে হবে।

কী কী লাগবে ফেসবুক মার্কেটিং করতে?

-ফেসবুক আইডি মানে হচ্ছে পারসােনাল আইডি
-ফেসবুক পেজ
-ফেসবুক গ্রুপ

ফেসবুক আইডি : ফেসবুক আইডি তাে লাগবেই আপনার, কারণ সেটা দিয়েই আপনি পেজ, গ্রুপ ওপেন করবেন। পেজ বা গ্রুপ থেকে অন্য কোনাে পেজ অথবা গ্রুপে শেয়ার করতে চাইলেও আপনার পারসােনাল অ্যাকাউন্ট থেকে করতে হবে। আবার আপনি যদি মনে করেন আপনি নিজের কোনাে পােস্ট দিয়ে আপনার ব্র্যান্ডকে তুলে ধরবেন সেটাও আপনি আপনার পারসােনাল পেজ থেকে করবেন।

ফেসবুক পেজ : ফেসবুক পেজকে মূলত অফিসিয়াল পেজ বলা যেতে পারে। যেমন ধরুন আপনার প্রােডাক্ট হচ্ছে জামা-কাপড় ইত্যাদি। তাহলে আপনাকে একটা পেজ করতে হবে একটা নাম দিয়ে, এরপর আপনি সেই পেজের মাধ্যমে আপনার প্রােডাক্টের মার্কেটিং করবেন। যেমন-
-আপনার প্রােডাক্টের ছবি আপলােড দিলেন।
-বিভিন্ন ধরনের উপকারী পােস্ট দিলেন
-আপনার প্রােডাক্টের পােস্টে পেইড অ্যাড দিলেন
-কন্টেস্টের আয়ােজন করলেন ইত্যাদি।
তবে এখানে যে পােস্টগুলাে যাবে সব আপনার পেজের নামে যাবে, কোনাে পারসােনাল আইডির নামে যাবে না।

ফেসবুক গ্রুপ : ফেসবুক গ্রুপ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে, পাবলিক, ক্লোজ, সিক্রেট, তবে পাবলিক গ্রুপটা হচ্ছে বেশি জনপ্রিয়। সবাই যে এটা মার্কেটিংয়ের জন্য করে সেটাও না। পেজ আর গ্রুপের পার্থক্য হলাে- পেজে শুধু পেজের নামে পােস্ট হয়; গ্রুপে অ্যাডমিন, মডারেটরসহ গ্রুপের যে কোনাে মেম্বার পােস্ট করতে পারে। তবে গ্রুপের অ্যাডমিন, মডারেটরের এভালের দরকার হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এপ্রুভাল সিস্টেম না থাকলে অনেকে উল্টাপাল্টা পােস্ট দিয়ে গ্রুপের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। আপনি গ্রুপের মাধ্যমে বড় একটা কমিউনিটি করতে পারেন, এরপর আপনার প্রােডাক্টের মার্কেটিং সেখানেও করতে পারেন।

মনে রাখবেন মার্কেটিং মানেই হচ্ছে আপনাকে এমন জায়গায় যেতে। হবে যেখানে মানুষের ভিড় আছে। আর আপনার ফেসবুকের আইডি, পেজ, গ্রুপে যদি মানুষের ভিড় থাকে তাহলে মার্কেটিং কেন করবেন না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *