বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সহযােগিতা আরাে বাড়াতে হবে

আন্তর্জাতিক
Spread the love

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির মধ্যকার ভার্চুয়াল বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযােগিতা আরাে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সহযােগিতা, বাণিজ্য বৃদ্ধি, অশুল্ক বাধা দূরীকরণ, আঞ্চলিক ও উপআঞ্চলিক সহযােগিতাসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলােচনা করেন। (BBC News)

বৈঠকের আগে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়ােজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারত বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে সাতটি চুক্তি, সমঝােতা স্মারক (এমওইউ), প্রটোকল ও টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) সই করা হয়। বৈঠক নিয়ে ৩৯ দফা যৌথ ঘােষণায় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ফুটে ওঠে। ভার্চুয়াল বৈঠকে আলােচনা শুরুর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল রুট এবং বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল মিউজিয়ামের। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। (BBC News World)

এ ছাড়া তারা বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানিয়ে ভারতের ডাক বিভাগ প্রকাশিত স্মারক ডাকটিকিট উন্মােচন করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অতীতের যেকোনাে। সময়ের চেয়ে ভালাে। গত ১০ বছরে ছিটমহল সমস্যার সমাধান, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমাসংক্রান্ত বিরােধ নিরসনসহ অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ সময়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শতাধিক চুক্তি সই হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযােগিতার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা, প্রযুক্তি বিনিময়, মহাকাশ গবেষণা, সাইবার নিরাপত্তা, কানেকটিভিটি, শিপিং, নদীখননসহ অনেক ক্ষেত্রেই এই সহযােগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। (Fox News)

ভার্চুয়াল বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী তিস্তা ছাড়াও মনু, মুহুরী, খােয়াই, গােমতী, ধরলা ও দুধকুমার—এই ছয়টি নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামাে দ্রুত শেষ করার প্রয়ােজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা শিগগিরই যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আয়ােজনে সম্মত হয়েছেন। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন) ব্যাংকে যুক্ত হতে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেন। (Today Breaking News)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে ইতিবাচক মনােভাব দেখিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সড়কে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখায়। জানা গেছে, ওই দেশগুলাে এর আগে আন্তর্দেশীয় সড়কে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাতে রাজি হয়নি। রােহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সরকার একমত পােষণ করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা এ ব্যাপারে অবশ্যই ঢাকার সঙ্গে কাজ করবেন। (BBC News Live)

যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ দুর্যোগ মােকাবেলায় সহযােগিতার বিষয়ে একটি সমঝােতা স্মারক সইয়ের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। উভয় পক্ষ ইছামতী, কালিন্দি, রায়মঙ্গল ও হাড়িয়াভাঙ্গা নদী বরাবর নতুন সীমান্ত নকশা। প্রণয়নে দ্রুত যৌথ সীমান্ত সম্মেলনে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। উভয়। নেতাই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে সম্মত হয়েছেন। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমেই নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাবে এবং পারস্পরিক সহযােগিতার মাধ্যমে উভয় দেশ উন্নয়ন। ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। (Latest News)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *