December 6, 2021

বাসায় নােট তৈরির কৌশল

Read Time:11 Minute, 5 Second

নােট তৈরির কৌশল

১। প্রয়ােজনীয় বই সগ্রহ: বাসায় নােট তৈরি করতে হবে পাঠ্যবই থেকে। নােট

তৈরির জন্য প্রথমেই পাঠ্যবই সংগ্রহ করতে হবে। এর জন্য উচ্চতর মানের ও উচ্চতর ক্লাসের একাধিক বই অপরিহার্য। তারপর সেখান থেকে

অধ্যায় নির্বাচন করে পয়েন্ট নিয়ে নােট লেখা শুরু করবে।

২। ভালাে নােটবুক ব্যবহার: নােট কখনাে আলগা কাগজে নেয়া ঠিক নয়। এতে

হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ভালাে একটি নােটবুক যা নােটখাতা

(বাঁধাই করা) হলে ভাল হয়। ক্লাস নােটের মতই সাজাতে হবে নােটগুলাে।

৩। নােটের ভাষা: নােটের ভাষা তৈরি হতে পারে তােমার নিজস্ব কিংবা বইয়ের।

ভাষায়। বইয়ের ভাষায় নােট করাটাই বােধহয় তােমার জন্য সহজসাধ্য হবে। বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলাে হুবহু তুলে নিতে পার। নােট করার

আসল উদ্দেশ্য হবে একটি সর্বোত্তম প্রশ্নোত্তর তৈরি করা।

৪। সবই এক খাতায় না করা: পাঠ্যবইয়ের নােট থেকে ক্লাসনােট আলাদা করে

রাখবে। এজন্য আলাদা নােট খাতা ব্যবহার করবে। ক্লাস নােট বাসায় মূল নােট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যে বই থেকে নােট নিবে সেটা

কিসের ওপর লেখা তা আগে থেকেই খেয়াল রাখবে।

৫। অধ্যায় স্টাডি করা: যে বিষয়ে নােট করবে সেই অধ্যায়টি সতর্কতার সাথে।

পড়বে। মূল আইডিয়া খুঁজে বের করবে। ভূমিকা, হেডিং এবং বিষয় সম্পর্কে যদি কোনাে সামারি থাকে তা বাদ দিবে না। কোন ছবি বা গ্রাফ কিংবা চাট থাকলে তার ক্যাপশন পড়ে নিবে এবং উদাহরণের অংক বাদ দিবে না।

৬। কোটেশন তােলা: বই থেকে তথ্য হুবহু তুলে নিলে কোটেশন মার্ক দিয়ে

বােঝাবে যে, এটা সারাসরি কোটেশন। সাবধানে কোটেশন তুলবে যাতে

কোনাে ভুল না হয়। ভালাে নােটের জন্য কোটেশন থাকা অপরিহার্য। এ।

৭।প্যরাগ্রাফ বা পয়েন্টভিত্তিক : নােট হবে ছােট ছােট প্যারা পয়েন্ট ভিত্তিক। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নোত্তর লিখে সর্বোচ্চ নম্বর তােলা সম্ভব। তাই প্রবন্ধকারের লেখার তুলনায় প্যারাভিত্তিক বা পয়েন্টভিত্তিক লেখাই উত্তম। প্রতিটি পয়েন্টের নিচে আন্ডারলাইন করবে।

৮। সহজ-সরল বাক্যের ব্যবহার : নােটের ভাষা হতে হবে সহজ-সরল যাতে উত্তর বুঝতে অসুবিধে না হয়। তাই যতদূর সম্ভব সহজ সরল শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার করতে হবে। কোন প্রশ্নোত্তর সহজে বুঝলেই শিক্ষক ভাল নম্বর দিতে বাধ্য হবেন।।

৯। মনােযােগ : নােট তৈরির সময় ছাত্র-ছাত্রীদের মনােযােগ একান্ত কাম্য। এ সময় গান শােনা বা আড্ডা দেয়া যাবে না। এতে মনােযােগ নষ্ট হয়। শান্ত পরিবেশে ঠান্ডা মাথায় বসে লিখলে সে লেখা অবশ্যই ভালাে হবে। তাই এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে। এসময় মােবাইল ফোন অবশ্যই বন্ধ রাখবে।

১০। সময় নির্ধারণ : নােট করার জন্য আলাদা একটা সময় রাখবে। আর ঐ সময় কোনাে কাজ করা যাবে না। নােটগুলাে এমনভাবে করতে হবে যাতে | চোখ বুলালে গােটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

১১। লেখার স্টাইল: নােট তৈরির সময় লেখার স্টাইলের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। নােট অবশ্যই অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম হতে হবে। গতানুগতিক না হয়ে ব্যতিক্রম হলে এ নােট ভাল নম্বর পাওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। ভালাে নােট মানে ভালাে পরীক্ষা, আর ভাল পরীক্ষা মানে ভালাে ফলাফল। 

১২। ক্লাস নােটের সহযােগিতা: বাসায় নােট করার সময় ক্লাস নােটের সহায়তা নিতে হবে । ক্লাসনােটে এমন কিছু সংগ্রহ হয় যা পাঠ্যবইয়ে থাকে না। আর এগুলাে নােটে সংযােজিত হলে একটি ব্যতিক্রম ও ভালাে মানের নােট হয় ।

১৩। সংক্ষেপ নােট করা : ক্লাসে নােট করার সাথে সাথে লেকচার শুনতে হবে ।

এজন্য শিক্ষক যা বলবেন তার সবই লেখার দরকার নেই। শুধু মূল। কথাগুলাে সংক্ষেপে লিখবে। জরুরি ফ্যাক্ট কিংবা মূল আইডিয়া আন্ডার লাইন করবে।

১৪। দলাইনের মাঝখানে ফাঁকা : প্রতিটি লাইনের ফাকে যথেষ্ট জায়গা রাখবে,যাতে প্রয়ােজনে পরে ওখানে তথ্য ঢুকানাে যায়। বামদিকে এক ইঞ্চি খালি জায়গা রাখতে হবে। দ্রুত লিখতে গিয়ে হাতের লেখা অসুন্দর হলেও পরিষ্কার ও কাটাকাটি মুক্ত হতে হবে।

১৫। ছােট ছােট বাক্য ব্যবহার : নােট লেখার সময় বাক্য হতে হবে ছােট অ্যাব্রিভিয়েশন ও সিম্বল ব্যবহার করলে নােট নেয়া সহজ হবে।

১৬। নােট সংশােধন করা : ক্লাস শেষ হবার পরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নােটগুলাে পড়ে নেবে। যদি কোনাে বিষয় খটকা লাগে বা বুঝতে না পার, পরের ক্লাসে শিক্ষকের নিকট থেকে বুঝে নেবে।

১৭। ক্লাস মিস না করা : একজন ভালাে শিক্ষক সবসময়ই চেষ্টা করেন

পাঠ্যবইতে যা আছে তারচেয়ে বেশি জানাতে। আর এ কারণেই একজন ভালাে শিক্ষকের লেকচার কখনাে মিস করা উচিত নয়।

অন্য পোস্ট: বােরকার ভেতর যখন আধুনিক তরুণী

নােটবুকে নির্দিষ্ট করে লিখ তুমি ঠিক কী চাও

আমি ইংরেজীতে ভাল নম্বর পাব, এটা কোন লক্ষ্য নয়। লিখ, আমি ইংরেজিতে ৯০% নম্বর পাব। যদি তুমি ৬০% নম্বরের লক্ষ্য ঠিক কর তা হলে তােমার ব্রেইন তােমার অজান্তেই ৪০ ভাগ পড়া বাদ দিয়ে যাবে। ফলে, ৬০ ভাগের জ্ঞান। নিয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে তুমি ৪০-৫০ নম্বর এর বেশি পাবে না। তাই, উচ্চমাত্রার লক্ষ্য নির্দিষ্ট কর ।

আমার জানা মতে, এক ছেলে ভাল একটা কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাবার টাকা পয়সা আছে, তাছাড়া বাবাও প্রভাবশালী। ছেলে কলেজের হােস্টেলে উঠেছে। কিন্তু সেখানে এটা ভাল নয়, সেটা ভাল নয়। তারপর সে একটা বাসা ভাড়া করল সেখানে খাট-পালঙ্ক, টিভি আনল। টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কাঙ্খিত রেজাল্ট করতে পারল না। ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জামানত দিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করল। ঐ বছর ঐ কলেজ হতে ১ জন মাত্র ফেল করল আর সেটা হলাে সে। এ জন্য বলি, লেখাপড়ার পরিবেশ নিজের কাছে।। কাজী নজরুল ইসলাম একবার রাস্তার পাশে বসে পড়ায় ব্যস্ত ছিলেন, পাশে দিয়ে ব্যান্ড পার্টি গেল।

কিছুক্ষণ পর এক লােক এসে নজরুলকে জিজ্ঞেস করল, এখান দিয়ে কি কোন ব্যান্ড পার্টি গিয়েছে? নজরুল বলল, না তাে কেউ যায়নি। ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ একবার স্কুলের লাইব্রেরীতে বই পড়তে ছিলেন। লাইব্রেরীয়ান দরজা, জানালা বন্ধ করে চলে গেলেন। ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ টের ও পেলেন না। যখন পড়া শেষ হলাে তখন জানালা খুলে লােক ডেকে বের হলেন। প্রতিকূল পরিবেশ তাদের পড়ার পথে কোন বাধা হয় নি। পরিবেশ ভাল হলে তাে কোন কথাই নেই। পরিবেশ ভাল না হলেও তা মেনে নিয়ে পড়াশােনা ভালভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

আরো পড়ুন: দাসীর বেশে

আমার গ্রামের এক ছেলে তার চৌদ্দগােষ্ঠীতে কোন শিক্ষিত লােক নেই। আশ পাশের পরিবেশ সম্পূর্ণ প্রতিকূল। আশপাশের কোন পড়ার পরিবেশ নেই। সেই পরিবেশের মধ্যেও সে এস. এস. সি ও এইচ. এস. সি তে গােল্ডেন এ প্লস পেল। বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে বুয়েটে ভর্তি হলাে। তার ইচ্ছাই তাকে এ জায়গায় নিয়ে গেছে। | আরেকটি ঘটনা, অজ পড়া গায়ের এক মহিলার স্বামী প্রবাসী। ঐ মহিলা গ্রাম থেকে নিজের চেষ্টায় তার দুই ছেলেকে ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়াতে সক্ষম হয়েছেন। এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে।

” স্মরণ শক্তি কি আসলে বাড়ানাে যায়? | মনে রাখা কি শুধু জন্মগত প্রতিভার ব্যাপার? নাকি এ শক্তি অর্জন করা যায়? এক কথায় এর উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই মনে রাখার শক্তি অর্জন করা যায়। আইনস্টাইন, এডিসন, মাইকেল এঞ্জেলা, হােমার, বােপদেব গােস্বামী, স্যামুয়েল জনসন, জেনারেল জর্জ প্যাটন, ভাস্কর অগাস্ত বঁদা প্রমুখ মনীষীরা এ শক্তি জন্মসুত্রে পাননি, অর্জন করেছিলেন মাত্র। গবেট (!) আইনস্টাইন বিজ্ঞানী আনস্টাইন। জার্মানীতে তাঁর জন্ম। বাবা ইঞ্জিনিয়ার। মায়ের ছিল গানের দিকে ঝোঁক।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post দ্রুত লেখার কৌশল
Next post সৃজনশীল পদ্ধতি সৃজনশীল