বােরকার নিন্দা করবাে না

শিক্ষা
Spread the love

২০০৯ সালের মাসিক ইসলামিক পত্রিকা আদর্শ নারী জুন সংখ্যায় পাঠককি ফিচারে “বােরকার আবমাননা” শিরােনামে একটি লেখা পড়ে। ফিচারটি আমার হৃদয়ে দাগ কেটে ছিল । ফিচারটি লিখেছিলেন। ভয়া মিরপুরের হাসনাইন হাফিজ। নাটকের ঘটনাটি নিমে তুলে ধরলাম। আশা করি বাস্তব ঘটনার দ্বারা পাঠক উপকৃত হবেন। এত ৬ মে-২০০৬ আমি আমার এক সহপাটির সঙ্গে জরুরি কাজে যাচ্ছিলাম। বিকেল বেলা ।

গন্তব্যে যেতে একটি মেক্সিতে উঠলাম । আমরা দাজন উঠার পরও আরাে তিনটি আসন খালি ছিল। আরে, এতাে চেচামেচি, হট্টগােল, অট্টহাসি, কেন? অনিচ্ছা সত্ত্বেও দু’চোখ একবার চলে গেলাে ওদিকে । দেখি, দু’টি ছেলে ও দু’টি মেয়ে। মেয়ে দু’টি নকশা করা চকচকে অত্যাধুনিক বােরকা পরিহিতা । মাথার স্কাপ অন্য কালারের । মুখ খােলা। তারা-ই এরকমভাবে গাড়িটা মাতিয়ে তুলছে। এত জায়গা থাকতেও তারা পরস্পরে জড়াজড়ি করে বসেছে। তাদের ধাক্কাধাক্কি, চিমটাচিমটি দেখতে না চাইলেও আঁচ করা যাচ্ছে। তাদের অট্টহাসি আর অযাচিত আওয়াজে কানে আঙ্গুল দেয়ার উপক্রম। একবার মনে হচ্ছিল নেমেই পড়ি ।

কিন্তু নেমে পড়লে যে গন্তব্যে মাগরিবের নামায পাবাে না । মেক্সিও আসে অনেক পর পর ।। মেক্সি এসে থামল বেগুনবাড়ি বাজারে। এখান থেকে মুরব্বি গােছের তিনজন লােক উঠলেন । তারাও বিষয়টি আঁচ করতে পারলেন । তাদের একজন বিজ্ঞজনের মত কি যেন ভাবছিলেন । বাকি দু’জন পরস্পর মন্তব্য করলেন, বােরকাই দেশটারে খাইছে, অহন দেহি বােরকার আড়ালেই যত নষ্টামি । সুতরাং বােরকা ছাড়াই ভালাে। দেশ থেইকা বােরকা উড়াইয়া দেয়া দরকার ।। একথা শােনে নিশ্ৰুপ থাকা মুরব্বি বলে উঠলেন। এই মেয়েরা! বােরকা খােল । তােমাদের বােরকা পরার অধিকার নেই। তােমরা বােরকার বেইজ্জতি করছ। বােরকা আমার মাও পড়েন। তিনি তােমাদের মত বেহায়া নন।

বােরকা পড়ে আমার মেয়েও মাদরাসায় যায় । সে তো মত অশ্লীল দুশ্চরিত্রের নয়। তাই তােমাদের বরং বােরকা ছাড়াই মানা এতে সবাই নিশ্ৰুপ হয়ে গেলাে। মেক্সির ভিতরে যেন জনশূন্য তা এমতাবস্তায় আমার সহপাঠি বাকি মুরব্বি দু’জনকে জ্ঞানবাক্য শেষ যারা বলেছিলাে-“বােরকাই দেশটারে খাইছে” সে প্রথমে বােরকার ? ও ফজিলত বর্ণনা করলাে। তারপর বােরকা পরার উপকারিতা ও না প অপকারিতা সম্পর্কে বললাে। অতঃপর বােরকা নামের ফ্যাশনভs একশ্রেণীর মেয়েদের কলংকের কথাও তুলে ধরলাে। সেই সাথে বললো, আমাদের মহিলা মাদরাসার কোনাে মেয়েরই এ ধরনের বিচিত্র কালাতে রূপ-লাবণ্য প্রকাশক ফ্যাশনেবল বােরকা পড়ার অনুমতি নেই। তাছা কোথাও গেলে দেখবেন, আপনি নিজেও তাদের সম্মান করছেন।

তাদের দ্বারা আজও কোনাে অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শােনা যায়নি। এটা স্বাভাবিক, এটাই বাস্তবতা। সুতরাং ফ্যাশনারী বােরকা আর বােরকাকে হাতিয়ার হিসেবে যারা ব্যবহার করছে, তাদের বিরােদ্ধে প্রতিবাদ করা। দরকার । ঢালাওভাবে বােরকার নিন্দা করা ঠিক নয়। এটা খুবই অপরাধ। পাপ। তার এই বক্তব্যে সবাই একবাক্যে বললাে- এটাই আসল কথা । আমরা আর কোনাে দিন বোেরকার নিন্দা করবাে না। হৃদয়ের আহ্বান : তাই আসুন প্রিয় পাঠক! আমরাও বােরকাকে চিনি। বােরকার মাধ্যমে আমাদের ইজ্জত আবরু হেফাজত করি । বােরকা হলাে নারীর ভূষণ। অনেক মেয়েরা মার্কেটে বাজারে ঘুরাফেরা করে, এটা মেয়েদের জন্য ভালাে কোনাে বিষয় নয়। মেয়েরা ঘরের ভেতর থাকবে, পর্দায় থাকবে এটাই মেয়েদের সম্মান ও সুন্দর । আবার অনেক জ্ঞানীরা বলেন, পর্দা নারীর অলংকার । একজন পর্দাশীল নারী, আদর্শ একজন মা। হতে পারে । আদর্শ সন্তান গঠন করতে পারে। পৃথিবীকে আদর্শ জাতি উপহার দিতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *