বােরকার ভেতর যখন আধুনিক তরুণী

আধুনিক তরুণী

আমি এক কিশােরী, আমি তরুণী, আমি যৌবনে পর্দাপন করেছি। আমার চলাফেরা হবে নিত্যনতুন আধুনিক ডিজিটাল । আমি হব যুগের শ্রেষ্ট আধুনিক তরুণী। আমার কিশােরী সময়টা কাটবে আনন্দ ও ভােগ। বিলাসিতায়। আমার তরুণ বয়সটা কাটাবাে স্বাধীন যৌবনে। আমি উন্নত পাশ্চাত্যের দেশগুলাের মত আধুনিক হয়ে গড়ে উঠবাে । আমি হতে চায়।

আরব বা বাঙ্গালী নারীদের মত ঘরকুনাে । আমি চাই না, বােরকা আর হেজাব পড়ে আমার সুন্দর চেহারাকে আড়াল করে রাখতে। একথা গুলাে। আমার নয়। এগুলাে কোনাে না কোনাে কিশােরী-তরুণীর আত্মকথা । প্রিয়। আধুনিক কিশােরী যুবতী বােনেরা! যারা এসব ধারণা সংস্কৃতি লালন করে আসছেন, তাদের জন্য নিমে ঘটনাটি তুলে ধরা হলাে। ফ্রান্সের এক বিলসবহুল সুপার মার্কেট। ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এরই মাঝে এক তরুণী এলেন কেনাকাটা করতে । হিজাব থাকায় বুঝায় যাচ্ছে তরুণীটি মুসলিম। সেলফ সার্ভিস নিজে প্রয়ােজনীয় পণ্যগুলাে উঠিয়ে নিলেন। এরপর তিনি বিল পরিশােধের জন্য কাউন্টারের দিকে এগােলেন ।

আরো পড়ুন: কলেজ ছাত্রীর পরিবর্তন (পর্ব-১)

প্রচুর ভিড়,দীর্ঘ লাইন। কোনাে উপায় নেই। তিনি লাইনে দাঁড়ালেন, অপেক্ষার প্রহর শেষ হলাে। এবার আসলাে তার পালা। চেক আউট কাউন্টারে তিনি এক করে এক তার পণ্যগুলি নির্দিষ্ট পাত্রে রাখলেন । চেক আউট পয়েন্টে দাঁড়ানাে আছে অন্য এক তরুণী পণ্যগুলাে একটা। একটা করে উঠিয়ে হিসাব করতে লাগলাে। পরে জানা গেলাে এই মেয়েটি। একজন মুসলিম। কিন্তু তার বেপর্দা স্মাটনেস ভাব দেখে তার ধর্মীয়। পরিচয় বােঝাই যাচ্ছিল না। হিসাব হয়ে গেলে এই বেপর্দা মুসলিম তরুণীটি বেশ বিরক্তির ভাব নিয়ে পর্দানিশীন তরুণীর ব্যাগের দিকে তাকাল । তার মুখ দিয়ে এক ফালি ঝঝ বেড়িয়ে এলাে, এই ফ্রান্সে আমরা মুসলিমরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। এত সবের মাঝেও ইতিহাস দেখাতে | ও বিলাতে আসেনি।

বেপর্দা মুসলিম মেয়েটি নিজেকে আরব অঞ্চলের অধিবাসী বলে পরিচয় ডল। সে নিজেকে আধুনিক ও জ্ঞানী হিসেবে আখ্যায়িত করে জ্ঞান বিতরণ করতে লাগলাে- “যদি তুমি ধর্ম মেনেই চলতে চাও এবং নেকাব পাব জরুরীই মনে করাে, তাহলে দেশে ফিরে যাও। সেখানে গিয়ে নেকাব পড়, সাধারণ বােরকা পড়। টুপিওয়ালা বােরকা পড়, যা ইচ্ছা তাই কর । তবে এখানে থেকে আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি কর না”। নেকাব পরিহিতা মুসলিম তরুণী অপর একজন মুসলিম নারীর মুখে এমন কথা শুনে তিনি একেবারে থ হয়ে গেলেন । একি শুনছেন তিনি! এ যে অবিশ্বাস্য! পণ্যগুলাে ব্যাগে রাখতে গিয়ে তার হাত থেমে গেলাে ।

আরো পড়ুন: বােরকার নিন্দা করবাে না

আচমকা চেহারা থেকে নেকাব সরিয়ে ফেললেন। এবার একাউন্টারে দাড়ানাে তরুণীটি তার চেহারা দেখে থ বনে গেলাে! কেননা, নেকাব পরিহিতা তরুণীটির চুল সােনালি। চোখ দুটি নীলাভ । তিনি কাউন্টারের তরুণীকে নরম, তবে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, আমি ফ্রেঞ্চি । আরব মুহাজির নই। এই ফ্রাঞ্চই আমার দেশ । আমার বাপদাদারা এখানে উড়ে আসেনি। এটা আমার মাতৃভূমি, আমি মুসলিম ইসলাম আমার ধর্ম । তুমি যার মালিক। এটা সেই বংশ পরাস্পরার ধর্ম নয়। এটা আমার ধর্ম । আর ইসলাম আমাকে এ শিক্ষাই দিয়েছে, যা করছি । তুমি বংশগত মুসলিম হয়ে আমাদের এখানকার অমুসলিমদের ভয় পাও ।

দুনিয়ার স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ভীত সন্ত্রস্ত তুমি । আমার কারাের ভয় নেই, আমি এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। ফ্রেঞ্চ তরুণীর পরের শব্দ গুলাে বেপর্দা মুসলিম তরুণীর মুখে যেন চপেটাঘাত করলাে। “তােমরা জন্মগত মুসলিমরা নিজেরদের ধর্মকে বিক্রি করে দিয়েছাে । আমরা তােমাদের কাছ থেকে তা ক্রয় করে নিয়েছি”। হৃদয়ের আহ্বান : প্রিয় পাঠক পাঠিকা- এ ফ্রাঞ্চ তরুণীর উজ্জীবিত ঈমানের কাছে আজ আমরা কোথায়? বােরকা না পরাই কি আধুনিক! আর বােরকা পরাই কি সমস্যা? আর যারা পড়ছে তারা সমস্যায় পরে আছে। কি? আমাদের চিন্তা করার দরকার । ঐ ফ্রাঞ্চ মুসলিম নারী থেকেও আমরা কী বেশি আধুনিক! আমাদের শিক্ষা নেয়ার দরকার । হে বােন! চলে এসাে বােরকার ভিতরে, ইসলামের আঁচলে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *