banglabbcnews

বিল গেইটস ও ররি শংকরের সময় ব্যবস্থাপনা

রাজনৈতিক
Spread the love

সময়ের সঠিক প্রয়ােগের মাধ্যমে আর্থিক ও আত্মিক উন্নতি হয়, উন্নতি হয় মন ও মননের। Time শব্দটাকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় – T=Taste of I= Income as, M= Money in, E= Every where Jose 57793 সময়ের মধ্যে টাকা নিহিত। আমরা যে জীবন দর্শনেই বিশ্বাস করিনা কেন জীবনের খেলায় আমাদের হাতে মাত্র একটি গুলি আছে। এই খেলার বাজি অনেক বেশি- বাজি হচ্ছে ভবিষ্যৎ। সুতরাং সময়কে নষ্ট করা যাবে না। চীন। দেশে ভাের পাঁচটায় জেগে উঠার জন্য ঘণ্টা বাজানাে হয়। আর সেই ঘণ্টাধ্বনি। কর্ণকুহরে প্রবেশ করা মাত্রই জেগে উঠে সমগ্র চীন। কর্মমুখর হয়ে উঠে সমৃদ্ধ। চীনের প্রতিটি প্রান্তর। কেউ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার হারিকেন প্রজ্জ্বলিত করে মুঠোয় ভরে দেবেনা। নিজের হারিকেন নিজেকেই প্রজ্জ্বলিত করে সূর্য উঠার আগেই কাজে নেমে যেতে হবে। তাহলে একটা মহান দিন আমাদের জীবনকে মহান করার জন্য তার অন্তর্নিহিত সমস্ত আলাে আর শক্তি উজার করে দিয়ে নিজেকে স্বার্থক মনে করবে।

একটা মজার ব্যাপার হলাে, তুমি ভিক্ষুক হও বা হও প্রেসিডেন্ট আল্লাহ। দু’জনকেই দিনে ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছেন। কাউকেই কমবেশি দেন নাই। এই প্রতিদিনের ২৪ ঘণ্টা যারা কাজে লাগিয়েছেন তারাই আজ পৃথিবীতে স্মরণীয়, বরণীয়। আর যারা আলস্যে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন তারা হারিয়ে গেছেন সবার। স্মৃতি থেকে। তাই, তােমাকে টিকে থাকতে হলে জানতেই হবে সময়ের সঠিক। ব্যবহার। আধুনিক নিয়মে পড়াশােনা বই হতে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি। কিছুদিন আগে বিল গেইটস বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সেক্রেটারী পত্রিকা অফিসে

একটি টাইমটেবিল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তার ৮ ঘণ্টার সফরে কোন কী করবেন মিনিট হিসেবে তা কাগজে লেখা ছিল। যেমন-দুঃস্থ শিশুদের কথা বলবেন ১৫ মিনিট, মিটিং করবেন ৩০ মিনিট ইত্যাদি। এরপর তিনি, আসলেন দেখা গেল, প্রতিটি কাজ তিনি একেবারে সেকেণ্ড হিসেব | করেছেন। বাংলাদেশের যানজট, যােগাযােগের অব্যবস্থাপনা কোনকিছই । সময়ের হেরফের করতে পারে নাই। তােমার হয়তাে মনে হতে পারে । জীবনযাপন যান্ত্রিক। কিন্তু, খেয়াল রাখবে, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সবদে ৮০ ভাগ কম্পিউটার তার কোম্পানীর তৈরি। তার সৎপথে উপার্জিত টাকা দিয়ে তিনি বাংলাদেশের ৫০ বছরের বাজেট একাই করতে পারেন। সময়ের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহারের কারণেই তিনি প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিলিয়ন ডলার বা ৭০ কোটি টাকা আয় করেন। তাই, জেনে রাখ, তুমি যতবড় প্রতিভাবানই হও না। কেন, সময় সঠিক ব্যবস্থাপনা না করতে পারলে তুমি নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হবে।।

আরেকটি ঘটনা হলাে- তুমি হয়তাে বিখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করের। নাম শুনে থাকবে। সেতারের তিন তারে ৩০ হাজারের মত মূল সুর তােলা। সম্ভব। এর প্রতিটি সুরের আলাদা আলাদা নাম আছে। এর যে কোন একটা সুর। তুমি তাকে বাজাতে বলবে তিনি তা বাজিয়ে শােনাবেন। তা কম্পিউটারের সাথে। মিলিয়ে দেখবে যে, সুরটা সঠিক হয়েছে। এও কি সম্ভব! তুমি বলতেই পার তিনি একজন জিনিয়াস। কিন্তু এর জন্য তাকে কতটা সময় দিতে হয়েছে জান? মাত্র ১৬ বছর। সত্যি! ১৬ বছরের প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ওস্তাদের কাছে শিখেছেন। আর ১০ ঘণ্টা নিজে বাজিয়েছেন। ১৬ বছরের প্রতিটা দিন তিনি বাজিয়েছেন। ১৬x৩৬৫x১৮=১০৫১২০ ঘণ্টা তিনি সেতার বাজিয়েছেন। তাই, সারা পৃথিবী রবিশংকরকে সম্মান করে।

| তা হলে এবার একটু আমরা নিজেদের দিকে তাকাই। খাওয়া ও ঘুমানাে। ছাড়াই একজন বাংলাদেশী গড়ে ৬ ঘন্টা অপচয় করেন প্রতিদিন। এ সময় আমরা বিভিন্ন আডডা, চুপচাপ বসে থাকা বা ঘুরতে বেড়াতে ব্যয় করি। তা হলে, যদি আমরা ৮০ বছর বাচি তা হলে, ৮০ বছরে = ৩৬৫x৬=২১৯০x৮০=১৭৫২০০ ঘণ্টা অর্থাৎ, প্রায় ২০ বছর আমরা আলস্য করে কাটিয়ে দেই। একটু ভেবে দেখ, জীবনের এ বিশটা বছর যদি তুমি সেতার বাজাতে তা হলে পৃথিবীতে। তুমিই হতে পারতে শ্রেষ্ঠ সেতারবাদক। এখন তােমার ইচ্ছা তুমি কী করবে। তুমি যা হতে চাইবে তাই হতে পারবে। আর এজন্য শিখতে হবে সময়ের সঠিক ব্যবহার ।

সেটা হয় পরিবেশ, ক্রমাগত চেষ্টা, খাদ্য, হরমােহন, মানসিক ও শারীরিক অনুশীলন আর অন্য জিনের ভূমিকার ওপরে। তিনি এন্ডারস এরিকসন। নামের একজন মনােবিজ্ঞানীর একটা পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর বইয়ে। এই মনােবিদ একজন ছেলেকে বেছে নিয়েছেন, যে সাত অঙ্কের বেশি সংখ্যা মনে রাখতে পারে না। ক্রমাগত অনুশীলন করে, তীব্র মনােসংযােগ করে, শেষ মেষ দেখা গেছে, ওই তরুন আশি অংকের বিশাল সংখ্যাও মনে রাখতে। পারে। তার মানে এই যে বিশাল কোন অঙ্ক মনে রাখার প্রতিভা ওই তরুনের ভেতরে ছিলই। পরিবেশের কারণে, চেষ্টাহীনতার কারণে সে এতদিন তার বিকাশ ঘটাতে পারেনি। ডেভিড শেংক বলেছেন, যে কেউ প্রতিভাবান হতে পারে, সে যদি তীব্রভাবে ‘সেটা চায়, সেটা পাওয়ার জন্য প্রচণ্ড অনুশীলন করে।

একে ডিসকাস থেরাপিও বলা হয়। লেখাপড়ায় সাফল্য অর্জনের জন্য এ পদ্ধতিটি খুবই কার্যকর। তােমার সহপাঠিদের সাথে দলবদ্ধ হয়ে যে কোনাে কঠিন বিষয় সহজেই আয়ত্ত করতে পার।। | ভাল নােট সংগ্রহ করা: তুমি যত কৌশল অবলম্বনই কর না কেন প্রশ্নের উত্তর না হলে খুব ভাল ফলাফল করতে পারবে না। এজন্যই পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার জন্য ভাল নােট তৈরি করতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের গাইডলাইন, ভাল বই ও মেধাবী ছাত্রদের নােট সংগ্রহ করা যেতে পারে। ভাল ছাত্র মানে ভাল নােট, ভাল নােট মানে ভাল পরীক্ষা, ভাল পরীক্ষা মানে ভাল।

রেজাল্ট।

ইতিবাচক চিন্তা করা: নিজের লেখাপড়ার ব্যাপারে সব সময় ইতিবাচক চিন্তা। করতে হবে। নিজের মধ্যে হতাশা আনা যাবে না। তােমার চেষ্টা ও বিশ্বাস। তােমাকে ইতিবাচক লেখাপড়ার দিকে ধাবিত করবে। ভাল লেখাপড়া ও ভাল। পরীক্ষার চিন্তা ছাত্রজীবনে সাফল্য এনে দেবে।

| রুটিন মাফিক জীবন পরিচালনা: রুটিন কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন- স্কুলের রুটিন, গৃহশিক্ষকের রুটিন, বাড়িতে পড়ার রুটিন, খেলাধুলার রুটিন, অবসরকালীন পড়ার রুটিন প্রভৃতি। বাড়িতে পড়ার রুটিন তােমাকে ভাল ছাত্র হতে বেশি সহায়তা করবে। রুটিন মাফিক তােমার জীবন পরিচালিত হলে ছাত্রজীবনে সাফল্য আসবেই।

আগামীকালের পড়া দেখে যাওয়া: টিচার যে পড়াটি পড়াবেন, তা আগের দিন দেখে গেলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এতে বিষয় অনুসরণ করতে, বুঝতে সুবিধা হয়। কোনাে বিষয় না বুঝলে প্রশ্নও করা উচিত। এতে ভালভাবে বুঝার পথ তৈরি হয়। তখনই ক্লাসের পড়া বাড়িতে এসে সহজে ও অল্প সময়ে মুখস্থ করা যায় । ক্লাসের সকল ছাত্র ছাত্রী যদি এই নিয়মটি মেনে চলে তাহলে শিক্ষকেরও পড়াতে সুবিধা হয়। | পড়ার ফাঁকে ফাঁকে খাওয়া ও বিশ্রাম: পড়াশােনা করলে যথেষ্ট শারীরিক ও মানসিক শক্তি ব্যয় হয়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ক্ষুধা লাগতে পারে। তাই ছাত্রদের খেতে হবে। বিশ্রামও জীবনের জন্য অপরিহার্য। অধ্যয়ন করার ফাঁকে ফাঁকে। ক্ষুধা লাগলে কিছু খাওয়া এবং মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেয়া ছাত্রদের জন্য স্বাভাবিক একটি কাজ। মাঝে মাঝে পানি পান করবে।

পড়ার সময় পড়া ও খেলার সময় খেলা: যখনকার কাজ তখনই করতে হবে। যখন পড়ার সময় তখন পড়তে হবে, আবার যখন খেলার সময় তখন খেলতে হবে। সময়কে অবহেলা করা যাবে না বরং সময়ের প্রতি আরও যত্নবান হতে

খেলতে খেলতে পড়ার সময় নষ্ট করা যাবে না। সঠিক সময়ের ব্যবহার ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। এটি সাফল্য অর্জনের অন্যতম শত। নিজে নিজে পরীক্ষা দেওয়া: প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেয়ার আগে বাসায় নিজে নিজে পরীক্ষা দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *