December 6, 2021
banglabbcnews.com

বিশ্বের সেরা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযােগ

Read Time:11 Minute, 41 Second

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযােগ

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনােলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনােলজি (ক্যালটেক), স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ডিউক ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের নামীদামি ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযােগ পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের মেয়ে বৃষ্টি শিকদার! শেষমেশ পড়তে গিয়েছিলেন এমআইটিতে। বৃষ্টি এখন আরেক মধুর ঝামেলায় পড়েছেন। তার পড়াশােনা, ইনফরমেটিকসে অলিম্পিয়াডে সাফল্য এবং গুগল অভিজ্ঞতার কারণে এ বছর নামকরা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ডাক পেয়েছেন।

গুগল, ফেসবুক, টুইটার, মাইক্রোসফট ও কোডা তাকে আগামী গ্রীষ্মের ছুটিতে কর্মী হিসেবে চাচ্ছে। তবে বৃষ্টি যােগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোডায়। কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে আসায় তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আর কেউ যদি বৃষ্টি হতে চায় তিনি বললেন, আমি মনে করি, কারাে বৃষ্টি শিকদার হতে চাওয়া উচিত নয়। সবারই নিজের মনের মতাে হওয়া উচিত। তবে কেউ যদি নিজেকে আমার জায়গায় দেখতে চায়, তবে আমার মনে হয় তাকে অধ্যবসায়ী, কঠোর পরিশ্রমী আর সৎ হতে হবে। আমার কাছে সৎ থাকা মানে সময়ের কাজ সময়ে করা। আমরা অনেক সময় কোনাে কাজ পরে করব বলে ফেলে রাখি। সময়ের ওই কাজটি সে সময়ই করে ফেলা উচিত। এছাড়া আমার মনে হয় কারাে আশা হারানাে উচিত নয়।

বিশ্বের সেরা ১৪টি বিশ্ববিদ্যাল

আমরা শুধু সফলতাই দেখি। তার পেছনের অগণিত ব্যর্থতা দেখি না। এমন কোনাে মানুষ নেই যিনি ব্যর্থতা ছাড়া সফলতাকে আলিঙ্গন করেছেন। তাই সবার সবসময় আশাবাদী থাকা উচিত। উদ্যোক্তা হওয়ার কোনাে ইচ্ছে আছে নাকি অন্য কোনাে কিছু হওয়ার ইচ্ছে বৃষ্টির উত্তর, কাজ শিখতে ২-৪ বছর গুগল বা ফেসবুকের মতাে কোম্পানিতে কাজ করতে পারেন। তারপর স্টার্টআপ করার ইচ্ছে। এছাড়া পিএইচডি করে রিসার্চার হওয়ার ইচ্ছেও আছে। তারপর নিজে থেকেও নতুন কিছু করতে চান। বৃষ্টি মনে করেন, আমাদের দেশে এমন অনেক ক্ষেত্র আছে, যেগুলােতে উন্নতির অনেক জায়গা আছে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রয়ােগ করে। স্টার্টআপের মাধ্যমে নতুন কিছু করার চিন্তা রয়েছে তার।

গত দেড় বছরে এমআইটির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বৃষ্টি বলেন, ‘এমআইটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই খুব পরিশ্রমী এবং তারা যে বিষয়ে পড়েন সে বিষয়ে তারা সবাই খুবই আগ্রহী। তারা ব্যর্থতাকে কেউ ভয় পায় না। তাদের সবার মাঝে আত্মবিশ্বাস নামে একটা জিনিস আছে। জুতা সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই। সে দেশে জুতার সাপ্লাই দিলে জুতা। চলবে না। কোম্পানী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আরেক জন প্রতিনিধি পাঠালেন, সে ফিরে এসে রিপাের্ট দিল সে দেশের মানুষ জুতা পরে না। তাদেরকে জুতার ধারণা। দিলে প্রচুর জুতা বিক্রি হবে। কোম্পানি লাভবান হবে। অবশেষে কোম্পানী যথেষ্ট লাভবান হলাে। আসল হলাে ইতিবাচক মনােভাব করতে হবে। এতে পড়ার গতি বাড়বে, আত্নবিশ্বাস জন্মাবে ও পড়া আগের ভয়ে সহজে মনে থাকবে। পড়ার সময় বিষয়ের সারাংশ বােঝার চেষ্টা করবে, পাঠের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেনত থাকবে। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে দাগ দেবে বা। নােট করবে। প্রয়ােজনে অন্য কোনাে বইয়েরও সহায়তা নেবে। সহজ ও কঠিন। বিষয় পড়ার ক্ষেত্রে প্রয়ােজন মতাে সময় হ্রাস-বৃদ্ধি করবে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন একজন মানুষ প্রতি মিনিটে ২০,০০০ শব্দ পর্যন্ত পড়ার ক্ষমতা রাখে। তােমার ক্ষমতা কতটুকু বৃদ্ধি করবে তুমি তা স্থির কর।

আরো পড়ুন: পাপ থেকে আত্মরক্ষা

অধ্যয়ন পদ্ধতি

ভাল ছাত্র হওয়া এবং পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য ছাত্রজীবনে অবশ্যই কষ্ট করতে হবে। তবে লেখাপড়ার পদ্ধতিটা কষ্টকর হলেও এর ফল অত্যন্ত মধুর। কেউ কেউ পড়েও মজা পায়, আবার ফলও ভাল করে । ছাত্রজীবনে সাফল্যের পেছনে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম। Robinson অধ্যয়নের শ্রেষ্ঠ নিয়মাবলি প্রণয়ণ করেছেন। তার পদ্ধতিকে বলা হয় S Q 3 R পদ্ধতি। এর পূর্ণরূপ হলাে Surevey (জরিপ কর), Question (প্রশ্ন কর), Read (পড়), Recite (আবৃত্তি কর), Review (পুনরায় স্মরণ কর)। অধ্যয়ন কালে এই কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করলে ভাল ফল পাওয়া যায় ।। বর্তমানে অধ্যয়নের কৌশল সম্পর্কে বলা হয়- সতর্কতার সাথে বই পড়বে, যাতে গ্রহণযােগ্য কোন কিছুই বাদ না পড়ে। কেউ কেউ আবার নিজস্ব পদ্ধতিতে লেখাপড়া করে থাকে। তবে একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, কোন কিছু শেখার সাথে সাথে লিখতে হবে। পড়ার সময় মনােযােগী হতে হবে। পুরােনাে পড়াগুলাে মাঝে মাঝে রিভিশন দিতে হবে। তুমি যেভাবেই অধ্যয়ন কর না কেন পদ্ধতিটি সঠিক হলে ভাল ফল লাভ করা যায় সহজে।

ক্লাসে নােট তৈরির কৌশল

১। সামনে বেঞ্চিতে বসা : ক্লাসে নােট নেয়ার জন্য সবসময় সামনের বেঞ্চিতে বসতে হবে। পেছনে বসলে শিক্ষকের লেকচার ভালভাবে শােনা যাবে না । তাছাড়া মনােযােগেও সমস্যা হবে। ক্লাসনােট নেয়ার জন্য শিক্ষকের পরিষ্কার আওয়াজ ও শিক্ষার্থীর মনােযােগ অপরিহার্য।

২। নােটখাতা ব্যবহার : প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা নােটখাতা ব্যবহার করবে। সুন্দর পরিষ্কার নােট তৈরির প্রস্তুতি থাকতে হবে। এমন খাতা ব্যবহার করা যাবে না, যা দুদিন পর নিখোজ হয়ে যায়।

৩। সময় লিপিবদ্ধ করা : প্রতিটি নােটে দিন তারিখ ও শিক্ষকের নাম লিপিবদ্ধ থাকবে। নােটলেখার প্রথমেই তারিখ, বার ও সময় লিখতে হবে। নােট নিতে হবে পরিষ্কার কাগজে।

বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হও

ছাত্র জীবনে বন্ধুদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারও কারও ক্ষেত্রে ভাল বন্ধ জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। যার সাথে তােমার যােগাযােগ বেশি হবে, তার দ্বারাই তুমি প্রভাবিত হবে বেশি। অধিকাংশের জীবনধারা তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের। অনুরূপ হয়। তাই তােমার বন্ধুরা যদি মেধাবী, সহানুভূতিশীল, সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর। ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়, তাহলে তােমারও তা অর্জন করার সম্ভাবনা থাকবে। আমার নিজের কথা বলি, স্কুলে আমার ক্লাস রােল ছিল এক। আমি অন্য স্কুলের। একজন সবচেয়ে দুর্বল ছাত্র যার ক্লাস রােল সবার শেষে ছিলাে আমার স্কুলে। এনে তাকে পড়া-শােনায় সহযােগিতা করার ফলে তার ক্লাস রােল হয়। দুই।আবার আমরা জানি, বাঘ যদি মেষের পালের সাথে সব সময়ই বিচরণ করতে থাকে তাহলে সে-ও কিছুদিন পরে নিজেকে মেষ ভাবতে শুরু করে।

তাই তােমার বন্ধুরা যদি দুর্বলচিত্ত, বা রূঢ় আচরণে অভ্যস্ত, নেতিবাচক মনােভাবাপন্ন, লক্ষ্যহীন জীবনে ভেসে বেড়াতে থাকে, ড্রাগ, ধূমপান ও অন্যান্য বদ অভ্যাস বা অনাচার-অত্যাচারে লিপ্ত থাকে বা মাস্তান ও সন্ত্রাসীদের সাথে জড়িত থাকে, তা হলে এ ধরনের বন্ধুরা তােমার জীবনের সুমহান লক্ষ্য থেকে তােমাকে বিচ্যুত করতে পারে।

আরো পড়ুন: পাপ থেকে আত্মরক্ষা

স্বতঃস্ফূর্তভাবে লেখার সহজ উপায়

বিখ্যাত ইংরেজ মনীষী বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে, নতুন বিষয়ে চিন্তার মূলে প্রধানত। অন্তর্দৃষ্টি থাকে । রাসেল কঠিন বিষয়ে চিন্তা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। তার পদ্ধতি নিম্নরূপ:

১. কোন শক্ত বিষয়ে লেখার পূর্বে ঐ বিষয়ে কতক্ষণ গভীরভাবে চিন্তা করতেন।

২. চিন্তার পর সচেতন ভাবে নিজের অবচেতন স্তরকে এ বিষয়ে অজ্ঞাতসারে । কাজ করার জন্য আদেশ করতেন।

৩. কিছুকাল পর ঐ বিষয়ে লিখতে গিয়ে তিনি দেখতেন তাঁর মন অগােচরে কাজ সেরে রেখেছে। তখন তিনি অনায়াসে বিষয়টি লিখতে পারতেন। লেখায় কাটাকাটি হত না।

৪. মনে হতাে তিনি অন্য লেখা নকল করছেন।

অর্জন করা। কারণ তােমার যে কোন চাওয়াকে পূরণ করার জন্যে সম্প প্রয়ােজন। আর আমরা জানি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হােক বা স্ব-অর্জিত শিক্ষ। জ্ঞানই হচ্ছে সর্বোচ্চ সম্পদ। জ্ঞান ও সৃজনশীলতাই তােমার জন্যে সুযােগ। বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে পারে। তাই তােমার পরবর্তী সময়ে বইয়ের জ্ঞান কালো না লাগলেও ছাত্রাবস্থায় সৃষ্ট যােগাযােগগুলাে নিঃসন্দেহে কাজে লাগবে। তা৯। শিক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ্য স্থির করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে ।

 

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

study-banglabbcnews.com Previous post পরীক্ষার খাতা কেমন হওয়া উচিত?
banglabbcnews Next post ছাত্রজীবনে প্রেম-ভালােবাসা