বুযুর্গ নারী (পর্ব -২)

শিক্ষা
Spread the love

তোমার রহমতের উপর ভরসা করে দাসীর মালিককে কথা দিয়ে এসেছি। তুমি তার স আমাকে অপমান কর না। এমন সময় কে যেন ঘরের দরজাই শব্দ ক, দরজা খুলে দেখি, এক অপরিচিত ব্যক্তি। তার পিছে চারজন গে হাতে বাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে । আমি তাকে ঘরে আসতে বললাম এস, পরিচয় জিজ্ঞাসা করি, তখন সে বললাে- আমার নাম আহমদ দিন মুসান্না। অতঃপর তাকে আমার ঘরে আসার কথা জিজ্ঞাসা করলে, সে বললােআজ রাতে আমি যখন ঘুমাচ্ছি এমন সময় গায়েবী আওয়াজ আসল তে আহমদ! পাঁচটি মুদ্রার থলি সিররীকে দিয়ে আস। সে তােমার উপর »ি হবে এবং তা দিয়ে তােহফাকে মুক্ত করবে ।। হযরত সিররী সাকতী (রহ.) বলেন, আগন্তুকের কথা শুনে আমি সেজদায় পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি । সকালে তাকে সাথে নিয়ে জেলখানায় যাই। জেলখানার প্রহরী আমাকে দেখামাত্র বলে উঠল। মারহাবা! আপনার আগমন শুভ হােক। রাতে আমি গায়েবি আওয়জে শােনতে পাই, কে যেন বলছেন আল্লাহ পাক দাসীর উপর সদয় হয়েছেন । হযরত সিররী সাকতী (রহ.) বলেন, আমাদের আগমনের কথা শােনে তােহফা বাহির হয়ে এসে বলতে লাগল এত দিন আমার অবস্থা গােপন ছিল। আজ তুমি প্রকাশ করে দিলে । এ কথা বলে সে কাঁদতে লাগল । এমন সময় দেখা গেলাে তােহফার মালিকের মাথার চুল এলােমেলাে চুখে পেরেশানির ছাপ সুপষ্ট। আমি তােহফার মালিককে বললাম- আপনার পেরেশানির কোনাে কারণ নেই । আমি তােহফার উপযুক্ত মূল্য নিয়ে এসেছি। তখন সে বললাে- আল্লাহর শপথ আমি তােহফাকে বিক্রয় করব না। আমি আর অধিক মূল্য দিতে চাইলাম। উত্তরে সে বললাে- যদি সমস্ত পৃথিবীও আমার হাতে তুলে দাও, তাও আমি তােহফাকে বিক্রি করব না। বরং আমি তােহফাকে আজাদ কমে দিলাম। আল্লাহ তায়ালা রিজিকের জিম্মাদার। গত রাতে গাইয়িবিতা) তােহফার ব্যাপারে আমাকে ধমকানাে হয়েছে। হযরত সিররী সাকতী (রহ.) বলেন, এ কথা শােনে আহমদ বিন মুসান্না ত লাগল। কারণ, জিজ্ঞাসা করলে সে বললাে- মনে হয় আল্লাহ এর উপর সন্তুষ্ট নন, আমার খেদমদ কুবুল করলেন না। আপনাকে # রেখে আমার সমস্ত মাল আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলাম। মি বললাম- আসলে এ সব কিছু তােহফার বরকতে। এদিকে জেলখানা কে তােহফার একটি পশমী জামা দেহে ছড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বের তবে আসল । তখন আমরা তাকে বললাম- আল্লাহ তাে তােমাকে আজাদ করে দিয়েছেন। তাহলে তুমি কাঁদছ কেন? সে আমাদের কথার উত্তর না দিয়ে সামনে হাটতে লাগল । কিছুক্ষণ পর তাকে আর খােজে পেলাম না। এদিকে আহমদ বিন মুসান্না বাড়িতে যাওয়ার পথে আকস্মিকভাবে মৃত্য বরণ করল । পরে আমি আর তােহফার মালিক মক্কা শরীফ চলে আসলাম। অনেক দিন পর মক্কায় তাওয়াফ করতে গিয়ে এক পার্শ্বে এক অসুস্থ ব্যক্তির কান্নার আওয়াজ শােনতে পেলাম। সেই আওয়াজ শােনে সামনে অগ্রসর হলাম । আমি কাছে যাওয়ার সাথে সাথে সেই ব্যক্তি হে সিররী! বলে আমাকে ডাক দিল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা বললাম, তুমি কে? সে বললাে- আমি তােহফা, আমি তাকে দেখে অবাক হয়ে যায়। সেই তােহফাকে যেন চিনবার কোনাে উপায় নেই। রােগে-শােকে তার দেহটি যেন একেবারে মাটির সাথে মিশে গেছে। আমি তাকে বললাম- হে তােহফা! মানুষ থেকে আলাদা হয়ে আল্লাহর সাথে কেমন সম্পর্ক স্থাপন করলে? সে জবাবে বললাে- মাখলুক থেকে পৃথক এবং আল্লাহ পাকের মুহাব্বত। আমি তাকে ইবনে মুসান্নার মৃত্যুর খবর দিলাম । সে বললাে- আল্লাহ পাক তার উপর দয়া করেছেন। সে এমন সব বস্তু লাভ করেছে যা পৃথিবীর কোনাে মানুষ কোনাে দিন চক্ষু দ্বারা দেখতে পাবে না এবং তার বিবরণও শােনতে পাবে না। আর জান্নাতে সে আমার প্রতিবেশী হবে ।। আমি তাকে বললাম- হে তােহফা! তােমার মালিক সে আমার সাথে আছেন। এই কথা শােনে তােহফা নীরবে কি যেন দুআ করল। কিছুক্ষণ পর দেখি, সে কাবার দিকে মুখ করে প্রাণ ত্যাগ করেছে। এ সংবাদ শােনে তােহফার মালিক আসল । তােহফার লাশ দেখে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সেও প্রাণ। হারাল। অতঃপর আমি উভয়ের গােসল-কাফন, নামাযে জানাযা সম্পন্ন করে দাফন করলাম। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সু-উচ্চমর্যাদা দান করুন। আমিন! হৃদয়ের আহ্বান : প্রিয় মা ও বােনেরা! আমরা কি পারি না ঐ দাসীর মত ভ্রান্ত পথ থেকে ফিরে আসতে। কেননা, এই ভ্রান্ত পথের মধ্যে যে সুখ আমরা খুজি তাতে অশান্তি ছাড়া আর কিছুই নেই। তা দ্বারা শুধু ক্ষণিকের দৈহিক আনন্দ উপভােগ করা যায়। আমাদের উচিৎ ঐ দাসীর মত আল্লাহর দীদার লাভের জন্য দুনিয়ার ভােগ-বিলাস, আরাম-আয়েশ ছেড়ে দিয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক দ্বীনের পথে চলার তৈফিক দান করুক। আমিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *