King-Bangla Bbc News

যােগ্য বাদশা

শিক্ষা
Spread the love

সল্কা ঘনিয়ে আসছে, চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছে অন্ধকার । কানে ভেসে আসছে মিনার থেকে মুয়াজ্জিনের কন্ঠে মনমুগ্ধকর আওয়াজ, মাগরিবের নামাযের আযান । বাদশা তাঁর সব কাজ ফেলে সঙ্গিকে নিয়ে চলে গেলেন মসজিদে। সুন্দরভাবে আদায় করলেন মাগরিবের নামায। তারপর পড়লেন নফল নামাযও, অতঃপর বেরিয়ে পড়লেন প্রজাদের খবর নিতে। শহরের বাহিরে চার দিকে ঘুরতে থাকলেন। হঠাৎ এক দিক থেকে কানে। ভেসে আসলাে কান্নার আওয়াজ। কোথায় থেকে আসছে লক্ষ করে ছুটে চললেন সেই দিকে। সামনে যেতে যেতে এক পর্যায়ে দেখলেন দূরে। একটি তাবু দেখা যায়। বাদশাহ তার সঙ্গি কাজের লােককে বললেনহয়তাে তারা সন্ধা হয়ে যাওয়ার কারণে শহরে প্রবেশ করতে পারেনি, তারা কি কোনাে বিপদে পড়েছে নাকি? কাছে গিয়ে দেখলেন এক মহিলা পাতিলে পানি রেখে আগুনের তাপ দিচ্ছে। পাশেই তার শিশু বাচ্ছারা কাঁদছে। বাদশা মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মা! বাচ্চারা কাঁদছে কেন? তখন মহিলা বললাে- বাচ্চারা খাবারের জন্য কাঁদছে। তাদের বাবা নেই । তাই তাদেরকে দুদিন যাবত কোনাে খাবার দিতে পারিনি। তাই আমি পাতিলে পানি রেখে আগুনের তাপ দিচ্ছি। আর তাদেরকে বলছি এইতাে একটু পরেই খাবার হয়ে যাবে । এই বলে তাদেরকে ঘুম পাড়ানাের চেষ্টা করছি।

বাদশা এই কথা শােনার পর আর দেরি করলেন না। সঙ্গিকে নিয়ে তাড়াতাড়ি চললেন, সরকারী কোষাগারের খাদ্য ভাণ্ডার খুলে সেখান থেকে কিছু খুরমা, চাল-ডাল ও টাকা নিয়ে মহিলার কাছে ফেরত যেতে লাগলেন, চাল ডালের বস্থা নিলেন নিজের মাথায়, সাথের সঙ্গি চাকর বললেনহুজুর! এগুলাে আমার মাথায় দিন । তখন বাদশা উত্তর দিলেন আমার কারণে একটি মানুষও যদি না খেয়ে মারা যায়, হাশরের মাঠে আসামির কাঠগড়ায় আমাকেই দাঁড়াতে হবে।

তাই এই বস্তা আমার মাথায় দাও। বাদশা বস্তা মাথায় নিয়ে মহিলার কা গেলেন এবং বললেন মা! আপনি বাচ্চাদের খেজুরগুলাে খেতে দিন জয় আমি ভাত রান্না করি । মহিলা বাচ্চাদের সাথে খেলা করতে লাগল । বাদশা এর মাঝে ভাত রান্না শেষ করে মহিলা ও বাচ্চাদের নিজের হাতে খাওয়ালেন। মা ও শিশুদের মধ্যে হাসি ফুটে উঠল তখন মহিলা বললেন, এ দেশের বাদশা ওমরকে না বানিয়ে তােমাকে বানানাে দরকার ছিল। তখন বাদশাহ বললেন, মা! ওমরকে দোষারােপ করে লাভ কি? ওমর কি জানে, তুমি তােমার বাচ্চা না খেয়ে আছ? কাল সকালে বাদশাহ ওমরের কাছে যেও সেখানে আমাকেও দেখতে পাবে । তখন বাদশা বিদায় নিয়ে একটু দূরে দাঁড়ালেন, এবং চোখের পানি মুছলেন। তখন চাকর সঙ্গি জিজ্ঞাসা করল যে, আপনি এখানে দাঁড়ানাের উদ্দেশ্য কি?

বাদশা বললেন- আমি যখন প্রথমে বাচ্চাদের কান্না অবস্থায় দেখলাম আর এখন তাদের হাসি মুখটুকু দেখতে ইচ্ছা জাগল । তাই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাদের আনন্দ দেখে আমিও আনন্দ অনুভব করলাম। তিনিই হলেন যােগ্য বাদশা, প্রজাদের কান্না দেখে নিজেও ব্যথিত হতেন, প্রজাদের আনন্দ দেখে নিজেও আনন্দিত হতেন। রাত্র নিশিতে প্রজাদের খােজ-খবর নিতেন, আর তিনি হলেন মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমিনিন হযরত ওমর ফারুক (রা.)। হৃদয়ের আহ্বান : প্রিয় পাঠক! আমাদের অধিনস্ত যারা আছে, তাদের জন্য আমরা বাদশা। তাই প্রত্যেকে আমাদের অধিনস্তদের খোঁজ-খবর নেবাে । তাদের হক পুরােপুরি আদায় করার চেষ্টা করবাে। তা না হলে হাশরের ময়দানে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে যােগ্য বাদশা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *