সন্তানসহ আত্মহত্যা পর্ব-১

বিনোদন
Spread the love

রাশেদুল রিতাকে খুব ভালবাসে। রিতাও রাশেদুলের প্রেমে হাবুডুবু লাচ্ছে। একজন আরেকজনের জান, ভালবেসে জীবন দিতে চায় । পৃথিবীর সব কিছুই যেন তাদের কাছে তুচ্ছ। আর এ হলাে অবৈধ প্রেম যার দ্বারা একটি ছেলের ও একটি মেয়ের চরিত্রে নেমে আসে করুণ অন্ধকার । তাদের এ প্রেম ভালবাসা চলে অনেক দিন ।

রাতগুলাে মনে হয় স্বপ্নের মতাে। দিনগুলাে মনে হয় রঙ্গিন পাখা। আনন্দের দিন চলতে থাকে । প্রেম সাগরে ভাসতে ভাসতে একদিন তরী কিনারে এলাে । স্বামী স্ত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হলাে । চলতে থাকে সংসার জীবন, রূপালী জীবন, দাম্পত্য জীবন। নতুন স্বপ্নের জীবন, সময় তাে আর বসে থাকে না; স্বপ্ন দেখ কিন্তু বিপদগামী নয়, যে স্বপ্নের মাঝে আছে অভিশাপ, যে স্বপ্ন হলাে মরিচিকা, সে স্বপ্ন দেখলে একদিন তােমার কাদতে হবে, ফঁসতে হবে । রাশেদের নেই কোনাে টাকা পয়সার অভাব । গাড়ি বাড়ি সবকিছু তার হাতের নাগালে।

দামি গাড়িতে এখানে সেখানে পার্কে ঘুরে বেড়ায় । ঘুরতে ঘুরতে আনন্দের সীমানা যেন পার হয়ে যাচ্ছে । রিতার বাবারও টাকা পয়সার অভাব নেই। এ আনন্দের ইঞ্জিন যে বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না তাও বাস্তব। এমনি করে জীবন গাড়ির চাকা ঘুরতে ঘুরতে একধাপ পেরিয়ে দ্বিতীয় ধাপে পৌচ্ছে যায়। তাদের থেকে জন্ম নেয় একটি নিস্পাপ সন্তান। আরাে আনন্দের খবর । তাদের কাজের ঝামেলা । তাই বাসায় কাজের মেয়ে রাখা হলাে। তাদের বাসায় যাকে কাজের মেয়ে হিসেবে রাখা হলাে, রিতার মামাতাে বােন স্মৃতি ।

তাকে দিয়ে বাসার সব কাজ করানাে হয় । রিতার কাজ করে এবং রাশেদের কাজও করে থাকে । অবৈধ প্রেমতাে ছেলে-মেয়েদের চরিত্র নষ্ট করে দেয়। তাদের যে নষ্ট হয়নি এমনটিও নয়। কিছু দিন পর রাশেদ তার বাসার কাজের মেয়ে স্মৃতির প্রেমে পড়ে যায়। এদিকে রাশেদের আরেকটি সন্তান হয় । দু’টি নিস্পাপ শিশু পাবন ও পায়েল বেরে উঠতে থাকে।

রাশেদ তার কাজের মেয়েকে এক পর্যায় বিয়ে করে ফেলে । অবৈধ প্রেমের আরেকটি অস্ত্র তৈরী করে গলায় ঝুলিয়ে নিলাে। শুরু হলাে অবৈধ প্রেমের জলন্ত আগুন। তার লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে পুরাতে লাগলাে । আনন্দের ভেলা জলে ডুবে গেলাে। গােপন রয়ে গেল স্মৃতি। রাশেদুলের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের জড়িয়ে পড়ার কথা এবং স্মৃতি রাশেদুলের বিয়ের কথা। কৌশলে স্মৃতিকে বাসা থেকে সরিয়ে রিতার অগােচুরে স্মৃতি ও রাশেদুল।

ইস্কাটনের একটি বাসায় স্বামী স্ত্রী হিসেবে থাকতে থাকে। তাদের বিয়ের বছর খানেক পর রিতা জানতে পারলাে । এ খবর পেয়ে অশান্তির আগুন। বেরে গেলাে। সােনার স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেলাে। সব ভালবাসা দুলয় মিশে গেলাে। রিতা গাড়ি নিয়ে ওই বাসায় উঠে ঘটনার সত্যতা যাচায়ের জন্য । স্মৃতি রিতাকে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে । রিতাকে গালাগাল করতে থাকে। অনেক বকে বাসা থেকে বের করে দেয়। রিতা ভাবতে থাকে কী হলাে! স্মৃতি আমার খেয়ে পড়ে আমারই সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে। তার পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তার পড়ালেখার সব খরচ আমি বহন করেছি। সে আজ আমারই ধ্বংস করে বসেছে।

কী হলাে আমার সংসারে, যার কারণে আমি আমার স্বামী নিয়মিত আমার কাছে পাই না। অশান্তির আগুনে ডুবে গেলাে রিতার জীবন। যেন সে পানিতে তলিয়ে যেয়েও শান্তি নেই। যেন নদীর পানি শুকিয়ে সে ভেলাতে আগুন ধরেছে। সে আগুনে শুধু তারা দু’জনই পুরেনি, পাশাপাশি আরাে দু’তিনটি পরিবার পুরে মরছে । রিতা এভাবেই দিন কাটাতে লাগলাে। রাশেদুল রিতার ও ছেলেমেয়ের খবরাখবর নেয়।

তার বন্ধু শাহজাহানকে দিয়ে টাকা পয়সা এই সেই পাঠায়। তবে কি শান্তি আসে? তাদের সন্তানরাও বড় হচ্ছে। স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে শুরু করছে। বাবার দূরে থাকা মায়ের দুঃখ কষ্টও বুঝতে শুরু করছে। তার উপর চলছে শ্বশুর শাশুড়ীর পারিবারিক চাপও। এভাবে আর কত দিন । মনটা দিন দিন বিষিয়ে উঠতে লাগলাে। পুরােটাই মানুষিক চাপ অশান্তির আগুন । এর মূল কারণ ইসলাম বিরােধী চলাফেরা ও অবৈধ সম্পর্কের ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *