সেপটিক জ্বরের কারণ ও লক্ষণ

সেপটিক জ্বর (Putrid Fever)

কারণ—এই জ্বর সাধারণতঃ রক্তের মধ্যে বীজাণ; বা Toxin বা পূজের দ্বারা উৎপন্ন হয়। এই সব বীজাণুর মধ্যে Staphylococcus, Gonococcus, Pneumococcus প্রভৃতি প্রধান।

লক্ষণ—আসলে এই রােগে জর হলাে একটি লক্ষণ মাত্র। প্রধান কারণ হলাে Septic Focus। নানা কারণে রক্ত দূষিত হয়ে থাকে। যেমন-
1. কোনভাবে দেহে প্রবিষ্ট বীজাণ, সংশ্লিষ্ট জমাট রক্ত ক্রমশঃ রক্ত প্রবাহে মিশে তার ফলে বঙের বেতকনিকার সঙ্গে এই সব বীজাণুর লড়াই হয়। যে স্থানে এই ধরনের প্রদাহ হয়, সেই স্থান লাল হয় ও ফুলে ওঠে। অনেক সময় পচন শুরু হয় এবং Gangrane হয়ে থাকে।
2. এই সঙ্গে জ্বর আসে। কখনাে জর খুব বেশি হয়ে থাকে। তার ফলে শরীর ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে থাকে।
3. সদ্য প্রসূতির প্রসবফুলের টুকরাে (Placenta) অনেক সময় জরায়ু থেকে বের হয় না এবং জরায়ুর মধ্যে পচণ্ড শুরু করে। অনেক সময় গর্ভপাত হবার পর গর্ভফুলের টুকরাে জরায়ুর মধ্যে আটকে গিয়ে তা পচতে থাকে। তার ফলে জর দেখা দেয়। এই সব জরে প্রচন্ন দুর্বলতা, শীত ও কম্প হয় এবং আক্রান্ত স্থানে ব্যথা হয়ে থাকে।
4. অনেক সময় প্রচড বিষক্রিয়া বা Toxacmia-র জন্য জর হয়। জ্বর খুব বেশি হয়। 102 থেকে 105 ডিগ্রী জর হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে জর কমে আবার তা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
5. অনেক সময় বীজাণ ও Toxin রক্তে মেশে। তাছাড়া দেহের নানা জায়গায় ফোড়া হতে থাকে। তাকে বলে Pyoemic abcess। তার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল জর ও কম্প প্রভৃতি দেখা যায়। প্রচুর ঘাম, দুর্বলতা শীর্ণতা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। জরের সঙ্গে অনেক সময় বমি, মাথাধরা, গায়ে হাতে পায়ে ব্যথা প্রভৃতি দেখা দেয় যায়।
6. কখনাে কখনাে এই সব বীজাণ, ফুসফুসে গিয়ে স্থান লাভ করে। তার ফলে ফুসফুসে Pulmonary Embolism দেখা দেয়।

7. কখনাে কখনাে Embolism হৃৎপিণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। ফুসফুসে ছােট ছােটফোড়া ও ব্যথা হয়।

৪. অনেক সময় লিভারে ব্যথা হয়। লিভারে A1cess বা ফোঁড়া হয়।

জটিল উপসর্গ—1. ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে নানা জটিল অবস্থায় সৃষ্টি করতে পারে।

2. বদপিণ্ড আক্রান্ত হয়ে জটিল অবস্থা এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
3. লিভার আক্রান্ত হয়ে Liver A!”ce৯৯ হতে পারে ।
4. মতিক বা Micnin:es আক্রান্ত হলেও অবস্থা খারাপের দিকে যায়।

চিকিৎসা—1. এই রােগের চিকিৎসা হলাে Penicillin Injection-Benzy1 Penicilli-1টি করে রােজ দিতে হবে। অন্তত -S দিন এটি চলবে। এইভাবে চললে রক্ত বীজাণু মুক্ত হয় ও রােগ সেরে যায়।
2. যদি পেনিসিলিন এলাজি থাকে, তা হলে দিতে হবে Terramycin Inj.
250 nng.2 onl—রােজ 1টি বা 2টি এবং তার সঙ্গে নিচের যে কোনও 1টি

(a) Septran (B.w.)-1 টি করে দিনে 3 বার ।
(b) Bactritiটি করে দিনে ৩ বার।
(c) Ampicillin-1টি করে দিনে 3 বার ।
(d) Erythromycin-1টি করে দিনে 3 বার।
3. জর বেশি হলে বা Acidosis হলে Alkasol with Vit.

2 .Alkacitron অথবা Citralka প্রভৃতি।

4. আক্রান্ত স্থানে বা ফোঁড়াতে পজ জমা হলেই ঐস্থানে Antibactrin তুলােয় ভিজিয়ে লাগাতে হবে। ফেটে গিয়ে পুজ বের হতে থাকলে Cibacol Powder বা Trisulpha Cream লাগাতে হবে। Boric এসিড গরম জলে গুলে সেক দিলেও ভাল ফল দেখা যায়।
আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা—1. জর হলে রােগীকে পর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।

2. জরের সময় জরের মত পথ্যাদি—জর ছেড়ে গেলে ঝােল-ভাত পথ্য। টক, দই প্রভৃতি বর্জনীয়।

হামম্বর (Measles)

কারণ—এক ধরনের ভাইরাস জাতীয় বীজ থেকে এই রােগ হয়। প্রধানতঃ শিশুদের মধ্যে এই রােগ বেশি হয়ে থাকে। 3-4 বছর বয়স থেকে 15-20 বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ও কিশােরদের এটি বেশি হয়।এটি খুব ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রােগ। বাড়ির একটি শিশুর হলে অন্যদের মধ্যেও রােগ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে আক্রান্ত হয়। তাই বাড়ির কোনও শিশ আক্রান্ত হলে তাকে পথক ঘরে রাখা অবশ্য কর্তব্য। যুবকদের কদাচিৎ এই রােগ হয়। এই ভাইরাস, বাতাসের মাঝ দিয়েও ছড়াতে পারে বলে, এত বেশি শিশুরা এতে আক্রান্ত হতে পারে।

লক্ষণ—l. শীতের শেষ এবং বসন্ত কালে এই রােগ বেশি হতে দেখা যায় । ইনকুবেশনের সময় 7 থেকে 20 দিন ।
2. প্রথমে সর্দি, কাশি, হাচি শুরু হয়। তবে 2-1 দিনে জর ছাড়ে না।
2-3 দিনের মধ্যে গায়ে উভেদ বা ঘামাচির মতাে Rash বের হতে থাকে। তখনএকে হাম বলে বুঝতে পারা যায়।
3. গায়ে হাম বের হলে জর ধীরে ধীরে কমে যায়। 2-4 দিন পরে হাম সেরেযায় ও উম্ভেদ বসে যায়।
4. অনেক সময় জর হঠাৎ শুরু হয় এবং 102–103 ডিগ্রী পর্যন্ত ওঠে। সেই সময় রােগী প্রলাপ বকে এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
5. অনেক সময় ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমােনিয়ার লক্ষণাদি এই সঙ্গে প্রকাশ পায়। তখন রােগীর জীবনআশংকা বা প্রাণসংশয় হতে পারে।

প্রকারভেদ—লক্ষণ অনুযায়ী হামকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। তা হলাে-

1. সরল হাম বা Simple Measles—জর অল্প হয়। হাম বের হয়। হাম বের হলে জর কমে যায় ও ছেড়ে যায় ও ধীরে ধীরে সেরে যায়।
2. কঠিন বা Acute Measles-হঠাৎ জর হয় ও বেশি জর হয়। প্রচুর ঘাম হয় ও র চলতে থাকে। জর সহজে কমে না—ধীরে ধীরে কমে ও হাম সারতে দেরী হয়। এই সঙ্গে প্রলাপ বকা, চোখের প্রদাহ, কানে পুজ ইত্যাদি নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়। রক্ত আমাশয় প্রভৃতিও হতে পারে এই সঙ্গে।
3. ব্রঙ্কো নিউমনিক হাম—এই জবে স্বরভঙ্গ, বক, ফুসফুস, ব্ৰকাস প্রভৃতি আক্রান্ত হয় ও প্রবল জর চলতে থাকে। বাসকষ্ট হয়। রােগীর অবস্থা ভয়াবহ হয় এবং রােগী মারা যেতে পারে।

জটিল উপসর্গ (Ccroplications)—1. ত্বকের নিচে পুজ জমতে পারে। তার ফলে শিশুরা খুব কষ্ট পায়।
2. ব্রঙ্কো নিউমােনিয়া, বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় করা, বাসকষ্ট প্রভৃতি উপসর্গ হয় ও প্রবল রে চলতে থাকে।
3. অনেক সময় চোখ, আক্রান্ত হতে পারে।
4. কান আক্রান্ত হয়ে Otith Media হতে পারে।

রােগ নির্ণয়—1. গায়ে হামের উভেদ থেকে রােগ চেনা যায়। অন্য রােগের উদ্ভেদের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে। সারা গায়ে বের হয় ঘামাচির মতাে ছােট ছােট হয়। হাম সব বেরিয়ে গেলে প্রায়ই জর কমে—একমাত্র ৱকো নিউমােনিক ছাড়া।

চিকিৎসা-1. জর অবস্থায় Alkali Mixture দিতে হবে-
R – Sodi Salicylate-gr 10
Sodi Bicarb-gr 20
Pot. Citras-gr 10
Spt. Ammon Aromat-ml 5
Tinct Card Co-ml 5
Syrup Rose-dr
Aqua ad Fl oz !, Sig-T.D.S.
2. পায়খানা পরিষ্কার না হলে Milk of Magnesia দিতে হবে ।
3. প্রথম অবস্থায় Syrup Tricloryl (Glaxo) শিশুর বয়স অনুযায়ী আধ থেকে 1 চামচ রােজ 2-3 বার খাওয়ালে ভাল ফল দেয়।
4. Otitis Media বা ব্ৰকো নিউমােনিয়া থাকলে নিচের যে কোনও একটি
(a) Penitriad Tabiটি করে রােজ 3-4 বার।
(b) Pentid Sulp Tab-1টি করে রােজ 3-4 বার।
(c) Ampicillin (250 mg— খানা করে রােজ 3-4 বার ।
(d) Erythromycin Tab. (100 mg)—1টি করে রােজ 35 বার।
(e) Erythrocin granules (জল মিশিয়ে) -1 চামচ দিনে 3-4 বার ।
(1) Subamycin Capsule (Children)—1টি করে দিনে 3-4 বার ।
(4) Septran Tab. (B.W.) খানা করে দিনে 3 বার ।
(h) Lcdcrmycin Syrup-1 চামচ করে দিনে,3-4 বার ।
(i) Terramycin Tab (100 mg)—1টি করে দিনে 3-4 বার ।
সব রকম সেকেণ্ডারী ইনফেকশানে উপরের ঔষধগুলি ভালভাবে কাজ করে।
5. বেশি চুলকানি থাকলে Bcnadryl Syrup (P. D)-1 চামচ করে দিনে 3 বার।
6. ব্রঙ্কাইটিস থাকলে
R/- Tinct Ipecac 0.1 ml.
Tinct Camphar Co 0.3 ml.
Oxymel Squill 1 ml.

আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা—1. হাম খুব ছোঁয়াচে রােগ—একথা সব সময় মনে রাখতে হবে। রােগীকে পথক ঘরে রাখতে হবে। শিশুদের ঐ ঘরে আসতে দেত্মা উচিত নয়।
2. রােগীকে সব সময় শয্যায় শুইয়ে রাখা কর্তব্য। মশারীর মধ্যে রাখা উচিত।
3. প্রথমে তরল খাদ্য। তবে লঘপাচ্য, মাছ, ডিমের পােচ বা হাফবয়েল প্রভৃতি প্রােটিন খাদ্য দিতে হবে।
4. যদি জর চলতে থাকে ও হাম ভালভাবে বের না হয়, তাহলে তা খারাপ। রােগীকে গরম জল দিয়ে পঞ্জ করতে হবে।
5. সাগু, বালি, ফলের রস ( মিষ্টি রস। মুকোজ প্রভৃতি পথ্য। হাইড্রোপ্রােটিন দিতে হবে। জর ছেড়ে গেলে মাছের ঝােল-ভাত পথ্য। টক নিষিদ্ধ।
6. উচ্ছে পাতার রস খাওয়ানাে ভাল-অথবা উচ্ছে সিদ্ধ।
7. সদি বা নিউমােনিয়া না থাকলে চিরােতা ভেজানাে জল খাওয়ালে ভাল হয়।

জল বসন্ত (Chicken Pox)

কারণ—এই রােগের কারণ এক ধরনের ভাইরাস—তাদের নাম Varicolla Virus বা চিকেন পক্স ভাইরাস। এগুলি ভীষণ ছোঁয়াচে। এই রোগ শীতকালের শেষদিকে ও বসন্তকালে বেশি হয়। এই রােগের আবির্ভাব হলে, অনেক সময় তা Epidemic বা Endcmic ভাবে দেখা দিয়ে থাকে। এই রােগ খুব মারাত্মক নয়—তবে এটি যে কষ্টদায়ক বােগ তাতে সন্দেহ নাই।লক্ষণ লক্ষণ অনুযায়ী Chicken Pox-কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় তাহলাে-

1. Simple Type-এটি অল্প জর হয়ে সারা গায়ে গুটি বের হয় তবে খুব বেশী বের হয় না। জর অল্প হয় ও বেরিয়ে গেলে জ্বর ছেড়ে যায়। জৰ হয় 98–100 ডিগ্রী। বের হবার পর শুকোবার আগে আবার একটু জর আসতে পারে।
2. Acute Type-এটি বেশি কষ্টদায়ক এবং এতে নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

(A) র 102 থেকে 104 ডিগ্রী হয়। রােগী প্রলাপ বকতে পারে বা আচ্ছন্নের মত পড়ে থাকে।
(B) জরের সঙ্গে সঙ্গে গা, হাত, পা, কোমরে ভীষণ ব্যথা হতে থাকে ও কষ্ট
(C) জ্বর আসার সময় কম্প হয়। জর সহজে ছাড়তে চায় না।
(D) 21 দিন পরে সারা গায়ে জল বসন্ত বের হয়। এগুলি আসল গুটি বসন্তের থেকে বড় হয়। এগুলি সক্ষম অগ্রভাগযুক্ত হয়ে থাকে।
(E) গুটি বের হলে জর কমে যায় ।
(F) অনেক সময় শুকোবার আগে জর আবার বৃদ্ধি পায় ও রােগী কষ্ট পায় । গুটিগুলিতে প্রথমে জল জমে। পরে তা শুকিয়ে আসে।
(G) গুটি গলে গেলে তাতে ঘা ও খুব ব্যথা হয়। যাতে ঘা না হয়, সেদিকে অবশ্য দৃষ্টি রাখা কর্তব্য।
(H) অনেক সময় বুকের কমপ্লিকেশনও দেখা দিতে পারে বলে জানা যায়। এরুপ হলে জর সহজে কমতে চায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *