couple relation -bangla bbc news

স্বামীর ভালবাসা

বাংলাদেশ
Spread the love

এক বুজুর্গ বর্ণনা করেন। তিনি তার স্ত্রীকে খুব ভালবাসতেন। একদিন তিনি তার স্ত্রীর সাথে শয়ন করেছিলেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। স্বামীর এই আচরণ দেখে স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্যতা শুরু হয়। স্বামীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলে স্ত্রী তাকে বললাে- এতক্ষণ আপনি কি করছিলেন? বুজুর্গ বললেন, আমি কি করছিলাম আমার জানা নেই । তুমি কি দেখেছাে বল। সে বললাে- আমি ভাল দেখেছি ।। পরে বুজুর্গের স্ত্রীর বাড়িতে লােক পাঠালেন। তার মা, ভাই এবং আত্মীয়স্বজনকে ডেকে এনে স্বামীর আচরণের কথা বললাে- তিনি পাগল হয়ে গেছেন। সুতরাং আমি তার ভাত আর খাব না। তখন স্ত্রীর আত্মীয়গণ বললাে- তাড়াহুড়া করে কোনাে কিছুর সমাধান হয়। না। বরং আমরা তােমার স্বামীর সাথে কথা বলে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেব । কিন্তু স্ত্রী তার কথাই বলতে লাগল। আমি আর কিছুতেই তার ভাত খাব না। পরে স্বামী স্ত্রীর সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে নিরবে স্ত্রীকে বুঝাতে লাগল এবং বললাে- তুমি কি চাও বল? স্ত্রী সিদ্ধান্তের কথা জানাল, বললাে- আপনি আমাকে ত্যাগ করুন। না হয় আমি আত্মহত্যা করব । এর বুঝা আপনাকে নিতে হবে । স্ত্রীর কথা শুনে বুজুর্গ একটু চিন্তা করে বললাে- তুমি অন্তত : এক সপ্তাহ ধৈৰ্য্য ধর। অতঃপর তােমার যা ইচ্ছা তাই কর। স্ত্রী তার কথায় সম্মতি দিল । ফলে তার আত্মীয়গণ যার যার বাড়িতে চলে গেল। এদিকে স্বামী তার স্ত্রীকে এক সপ্তাহ বুঝাতে চেষ্টা করল। কিন্তু স্ত্রী কিছুতেই মানল না। সে তার সিদ্ধান্তে অটল রইল। অবশেষে তিনি যখন বুঝতে পারলেন, তার স্ত্রীকে। কিছুতেই ফিরানাে যাবে না। তখন প্রিয়তমা স্ত্রীর চলে যাওয়ার বিষয়টি। তাকে এমনভাবে আঘাত করল, সে তার মনকে বুঝাতে চেষ্টা করল।

স্ত্রীকে রক্ষা করার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এখন আমার , কোনাে-কিছু করার নেই। যদি সে সেচ্ছায় চলে যেতে চাই তবে তা আর বাধা দেবাে না। তিনি মনকে যতই বুঝাতে চান মন যেন কিছুতেই মানতে চাই না। মনের গহীন থেকে কে যেন বার বার বলতে লাগল। তােমার প্রিয়তমা স্ত্রী তােমার জীবনসঙ্গী, শয়নে-স্বপনে আহরে বিহরে যে তােমার প্রেরণার উৎস ছিল, তাকে ছেড়ে তুমি কেমন করে থাকবে? স্ত্রীর চলে যাওয়ার বেদনা তাকে অস্থির করে তুলল। আজ সপ্তাহের শেষ রজনী। আগামীকাল সকালেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাবে। সময় যেন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে মনের অস্থিরতাও। বাড়ছে। অবশেষে তিনি আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইলেন। বিশেষভাবে দোয়া করলেন। মুনাজাত শেষ করার পর শুয়ে পড়লেন। গভীর রাত্রে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল । স্ত্রী তার রুমে ঝড়ের বেগে আসল এবং পায়ে লুটিয়ে পড়ে হাউ মাউ করে কেঁদে বলতে লাগল, ওগাে স্বামী! “তুমি আমাকে মাফ করে দাও। আমি আজ থেকে ওয়াদা করছি, আপনার সাথে আর কোনাে দিন বেয়াদবি করব না। আমি না বুঝে অন্যায় করেছি। আপনাকে ছেড়ে আমি এক মুহূর্ত শান্তি পাব না। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আমাকে মাফ করে দিন।”

বুজুর্গ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন এবং বললেন- হঠাৎ তােমার ভিতর কিভাবে এই পরিবর্তন আসল? তা খুলে না বললে আমি তােমাকে মাফ করব না। এবার স্ত্রী সম্পূন্ন ঘটনা বললাে, যখন আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল অবস্থায় ঘুমাচ্ছি, হঠাৎ স্বপ্নে দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি এক হাতে ছুরি এবং অপর হাতে একটি চাবুক নিয়ে আমাকে বলতেছে, তুমি যদি তােমার সিদ্ধান্তের। উপর অটল থাক, তবে তােমাকে ছুরি দ্বারা জবাই করা হবে। এই কথা বলে সে হাতের চাবুক দ্বারা আমার পিঠে সজোরে তিনটি আঘাত করল ! আমি ছটফট করে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম । মনে মনে ভাবলাম এটা শ্য হয় অনর্থক দুঃস্বপ্ন, ভয়ের কোনাে কারণ নেই। কিছুক্ষণ পর আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু স্বপ্নে আবার এইরূপ দেখলাম। হাতে তার সেই ছুরি ও চাবুক। এবার সে আগের তুলনা আরাে বেশি রাগান্বিত হয়ে বললাে- আমি কি তােমাকে ইতি পূবে করিনি। তুমি আমার হুকুম মান্য করছ না কেন? এই কথা বলে সে আমাকে প্রহার করার জন্য সামনে অগ্রসর হল । আমি ভয়ে চিৎকার করে জেগে উঠলাম এবং আপনার কাছে আসলাম । এখন আমি নিজের অপরাধ স্বীকার করছি ও আল্লাহর নিকট তওবা করছি। আপনি আমাকে গ্রহণ করুন এবং আল্লাহ পাকের নিকট দোয়া করুন, যেন আল্লাহ আমার তওবা কবুল করেন। অতঃপর সে পিঠের কাপড় সরাল এবং ঘুরে বসল। আমি দেখতে পেলাম সেখানে চাবুকের আঘাতের তিনটি গভীর ক্ষত স্থান হতে রক্ত ঝড়ছিল। আমি বললাম, প্রিয়তমা! আল্লাহ পাক আমাদের উভয়ের তওবা কবুল করুন। আমি তােমার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি । উত্তরে স্ত্রীও সন্তুষ্ট হয়ে বললাে- আমি আল্লাহ পাকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমার মহর মাফ করে দিলাম । অতঃপর সকাল বেলা সে তার গয়না-গাটি ও কাপড়-চোপড় ফকীর। মিসকীনদের মধ্যে দান করে দিল।। বুজুর্গ বলেন- উপরােক্ত ঘটনার পর থেকে আমার স্ত্রীর স্বভাব চরিত্র ও আমল আখলাকের মধ্যে পরিবর্তন শুরু হয় । যথা সম্ভব দুনিয়াদারী থেকে নিজেকে পৃথক করে আল্লাহ তায়ালার এবাদত বন্দেগী ও জিকিরে মশগুল থাকার চেষ্টা করত । এ বার আমি খুশি হয়ে মনে মনে বললাম, আল্লাহ। তায়ালা যা করেন, ভালাের জন্যই করেন। আর তা অবশ্যই আমার ধৈৰ্য্য ধারণের ফল । উপরােক্ত ঘটনার পর আমার স্ত্রী আরাে সাত বছর জীবিত ছিল । এই সময়ের মধ্যে আমরা অতিসুখের সাথে জীবন অতিবাহিত করি । অবশেষে তার ইন্তেকালের পর একদিন আমি স্বপ্নে দেখি আমার স্ত্রী সুন্দর পােশাক ও উজ্জ্বল গয়না-গাটি পড়ে পরম আনন্দের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তাকে দেখে প্রশ্ন করি, প্রিয়! আল্লাহ তায়ালা তােমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? উত্তরে সে বললাে- “আমি যে পরম সুখে আছি তা তুমি নিজেই দেখছ । এখন আমি তােমার অপেক্ষা করছি। তুমি যেমন আমার প্রতি রাজী হয়েছ, তদ্রুপ আল্লাহ পাকও তােমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন”। হৃদয়ের আহ্বান : এই বুজুর্গের ঘটনার দ্বারা আমরা শিক্ষা পেয়েছি যে, পুরুষদের উচিত, মহিলারা যতই রাগান্বিত হােক না কেন, যথা সম্ভব তাদেরকে সদয় ব্যবহারের সাথে বুঝিয়ে বলা । কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মহিলাদেরকে বাকা হাড় দেয়া হয়েছে, তাদেরকে যতই শাসন করা হয় তারা ততই বাকা হয়ে যায়। তাই তাদের সাথে যতই ব্যবহার করা হবে তাদের হৃদয়ে ততই পরিবর্তন আসতে থাকবে । আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধৈৰ্যশীল হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *